মধ্যপ্রাচ্যে একক আধিপত্য বিস্তার করতেই সৌদি সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি!

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক :

সামরিক বাজেট বরাদ্দের দিক দিয়ে সৌদি আরব বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশে পরিণত হয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা এসআইপিআরআই গত বুধবার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ২০১৭ সালে সামরিক খাতে ৬৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে যা তার আগের বছরের তুলনায় ৯.২ শতাংশ বেশি। এদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্যেই সৌদি আরবের সামরিক বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এর আগে সামরিক বাজেট বরাদ্দের দিক দিয়ে আমেরিকা ও চীনের পর রাশিয়া ছিল তৃতীয় এবং সৌদি আরব ছিল চতুর্থ। কিন্তু গত বছর রাশিয়া সামরিক বাজেটের পরিমাণ এক পঞ্চমাংশ হ্রাস করায় সৌদি আরব তৃতীয় অবস্থানে চলে এসেছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরব একাই পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে সামরিকিকরণ করার চেষ্টা করছে। সামরিক খাতে সৌদি আরবের এ পদক্ষেপ কয়েকটি দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করছে। অথচ ইরানের সামরিক উদ্দেশ্য কেবল প্রতিরক্ষামূলক এবং অন্য কোনো দেশে যুদ্ধ কিংবা হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। এ কারণে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির দেশগুলোর তালিকায় ইরানের নাম নেই। এসআইপিআরআই-এর একজন গবেষক সিমন বেসম্যান বলেছেন, রিয়াদের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিগ্রহ।
সংবাদ মাধ্যমটি আরও দাবি করে, সৌদি আরব গত ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে আসছে এবং প্রতিদিন তারা কোনো না কোনো এলাকায় বোমাবর্ষণ করে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। অন্যদিকে সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রের অন্যতম যোগানদাতা হচ্ছে সৌদি আরব। এর আগে রিয়াদ ইরাকের সন্ত্রাসীদেরকেও অস্ত্র যোগাত। এ থেকে বোঝা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে সৌদি আরব আসলে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অপকর্ম ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করছে।
সামরিক খাতে সৌদি আরবের ব্যাপক অর্থ বরাদ্দের দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে পাশ্চাত্যের দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার সেবাদান। সৌদি আরব বর্তমানে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অর্থ আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে। গতমাসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওয়াশিংটন, লন্ডন ও প্যারিস সফর থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। ওই তিন দেশের সঙ্গে সৌদি আরব কোটি কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র চুক্তি করেছে।
সামরিক খাতে সৌদি আরবের ব্যাপক অর্থ বরাদ্দের তৃতীয় দিকটি হচ্ছে এ অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। সৌদি আরব ২০১১ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে যুদ্ধ বাধিয়ে এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে এবং বে আইনি প্রক্রিয়ায় সেসব দেশের সরকার বদলের চেষ্টা চালাচ্ছে। সৌদি আরব মূলত গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে সামরিকিকরণের মাধ্যমে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। দেশটি আগের বছরের তুলনায় সামরিক খাতে ৯.২ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে। অথচ তাদের অর্থনৈতিক উন্নতির সূচন নিম্নগামী। 

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …