মহানায়কের ৯৪তম জন্মদিবস

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ

ভুবন ভোলানো হাসির ছোঁয়ায় বিশ্ব দরবারে পরিচিত কলকাতার মহানায়ক উত্তমকুমার। ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলা সিনেমার এই আইকন আজো বেঁচে আছেন কোটি হৃদয়ে। মহানায়ক উত্তম কুমারের ৯৪তম জন্মদিবস আজ।

১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কলকাতার সাউথ সাবার্বা‌ন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং পরে গোয়েঙ্কা কলেজে ভর্তি হন। কলকাতার পোর্টে চাকরি নিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি।

বৃদ্ধ বয়সের ছোঁয়া আসতেই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন চির সবুজ উত্তম কুমার।

১৯৪৮ সালে দৃষ্টিদান ছবির মাধ্যমে প্রথম চলচ্চিত্র অঙ্গন এ পদার্পণ করেন এই বর্ষিয়ান অভিনেতা। এর আগে উত্তম কুমার মায়াডোর নামে একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেলেও কিন্তু মুক্তি পাইনি তাঁর প্রথম ছবি। এরপর সাড়ে চুয়াত্তর মুক্তি পাবার পরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী আসন লাভ করেন। সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে তিনি প্রথম অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের বিপরীতে অভিনয় করেন। এই ছবির মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল উত্তম-সুচিত্রা জুটির সূত্রপাত হয়।

তার অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে ছোটিসি মুলাকাত, অমানুষ এবং আনন্দ আশ্রম অন্যতম। তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় দু’টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রথমটি নায়ক এবং দ্বিতীয়টি চিড়িয়াখানা।

১৯৬৭ সালে এ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ও চিড়িয়াখানা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। তবে এর পূর্বে ১৯৫৭ সালে অজয় কর পরিচালিত হারানো সুর ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছিলেন সমগ্র ভারতজুড়ে।

দেয়া নেয়া ছবিতে হৃদয়হরণ চরিত্রের মাধ্যমে অভিনয় করে কমেডি চরিত্রের বিরল প্রতিভার স্বাক্ষরও রেখে গিয়েছেন।

তার আসল নাম ছিল অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। সিনেমায় এসে হয়ে যান উত্তম কুমার। তার অভিনয় খ্যাতি কতটা ছিল মানুষের মুখের একটি উক্তিই এর বড় প্রমাণ। আজো কারো ঠাঁটবাট দেখলে বাঙালিদের বলতে শোনা যায়- ‘নিজেকে কী উত্তম কুমার মনে হয়?’

উত্তম কুমারের জীবনের শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিলনা। সংসারের হাল ধরতে শিক্ষাজীবন শেষ না করেই কলকাতা পোর্টে কেরানির চাকরি শুরু করেন। পরে অভিনয়ের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে কাজ করেন মঞ্চে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠা পেতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে।

একে একে অনেক সাড়া জাগানো চলচ্চিত্রের অভিনেতা তিনি। রোমান্টিক অভিনেতার চূড়ায় অবস্থান করেন উত্তম কুমার।

১৯৬৩ সালে উত্তম কুমার তার পরিবার ছেড়ে চলে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে বসবাস করেন। এই নায়ক ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই কলকাতার টালিগঞ্জে মৃত্যুবরণ করেন। চিরবিদায় নেয়ার পরও বাংলার মানুষের মনে থেকে গেছেন মহানায়ক হয়েই। যতো দিন বাংলা সিনেমা থাকবে তার নাম থাকবে অমর হয়ে।

বিডিজা৩৬৫/চিচি/এনআর

Check Also

পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী আনন্দে শরীক হয়েছেন রাঙ্গামাটিবাসীও

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী আনন্দে শরীক হয়েছেন রাঙ্গামাটিবাসীও। আজ রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে …

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে স্মারক নোট

জার্নাল ডেস্ক : স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ১০০ টাকা মূল্যমানের স্মারক নোট মুদ্রণ করেছে …