মাগুরায় পুরনো রডের মিশ্রণে চলছে হাসপাতালের প্রাচীর নির্মাণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কয়েক দশকের ব্যবহৃত পুরনো রডের সঙ্গে নতুন রডের মিশ্রণে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের প্রাচীর নির্মাণ কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।এর প্রতিবাদে বুধবার স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনগণ হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন। তোপের মুখে পড়েন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।স্বাধীনতার আগে ১৯৬৮ সালে মাগুরা শহরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ৪ একর ৯৪ শতাংশ জমির উপর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মাগুরা সদর হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে এটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৫ সালে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ হাতে নেওয়া হয়।ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ১৫০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেও পুরনো ১০০ শয্যার উন্নীত করণের পুরো কাজই এখনো পড়ে রয়েছে। এতে করে গত তিন বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলায় হাসপাতালের রোগীদের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, প্রায় ৩০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঢাকার মেসার্স বঙ্গ বিল্ডার্স মাগুরার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করণের জন্য নতুন ১৫০ শয্যার ভবন, অত্যাধুনিক মেডিকেল গ্যাস প্লান্ট, জেনারেটর স্থাপনসহ আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করে।এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ২১ মার্চ এটির উদ্বোধন করলেও পুরনো ভবনটি উন্নীতকরণ এবং সিভিল, স্যানিটারি, বৈদ্যুতিক সংযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ আরো অনেক কাজ পড়ে রয়েছে। বর্তমানে চলছে নতুন ভবনের সামনে গেট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ।সরজমিনে মাগুরা সদর হাসপাতাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সীমানা প্রাচীরের ঢালাই এর কাজ চলছে। প্রায় ৫০ বছরের পুরনো প্রাচীর ভেঙে সেখানকার জংপড়া রডের মিশ্রণে চালানো হচ্ছে জোড়াতালির নির্মাণ কাজ।অথচ এই কাজের জন্যে ২০ লক্ষ ৭২ হাজার ৯১০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও জোড়াতালির কাজ নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।যার প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে তারা জোটবদ্ধ হয়ে হাসপাতাল এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। তবে কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঝিনাইদহ জেলার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন ট্রেডার্সের কাউকে না পেয়ে তারা ফিরে আসেন।বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি।তবে মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসু বলেন, ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পটি তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর অসতর্কতার কারণে সীমানা প্রাচীরের বিষয়টি বাদ পড়ে যায়।এদিকে পুরাতন ভবনকে উন্নীতকরণের জন্য ২ কোটি ৭০ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৮৩ টাকা চাওয়া হলেও মাত্র ৭৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। যে কারণে প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে পুরনো রডের ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু এখানে কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়

সাইফুল //এসএমএইচ// ১০ই মে, ২০১৮ ইং ২৭শে বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …