যেসব জেলায় আজ হচ্ছে ঈদ

0

বিডিজার্নাল প্রতিনিধি :

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ বুধবার চাঁদপুর, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর ও ঝিনাইদহসহ দেশের কয়েকটি জেলায় ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন মুসল্লিরা।
চাঁদপুর: জেলার হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৪০ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন এখানকার মুসলমানরা।
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের পীর সাহেব বাড়ির সাদ্রা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক ঈদুল ফিতর উদযাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাদ্রা দরবার শরীফ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় সাদ্রা দরবার শরীফের মাদ্রাসা ময়দানে প্রধান ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মরহুম পীর সাহেবের বড় ছেলে বর্তমান পীর সাহেব মাওলানা আবু জোফার আব্দুল হাই।
বর্তমান পীর সাহেব মাওলানা আবু জোফার আব্দুল হাই জানান, সাদ্রা দরবার শরীফের তৎকালীন পীর (তার মরহুম পিতা) মাও. ইসহাক (রহ.) ১৯৩২ সালে আরব দেশ সমূহের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ দুই উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালনের নিয়ম চালু করেন। সেই থেকে তার অনুসারীদের মধ্যে চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঈদ উদযাপন করেন আসছেন।
যে সব গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে: হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, বলাখাল, মনিহার, জাক্নি, প্রতাপপুর, রামচন্দ্রপুর ও বাসারা। ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভূলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলী, মুন্সিরহাঁট, মূলপাড়া, বদরপর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, কাইতাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর; মতলবের দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং শাহরাস্তি ও কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অংশ।
টাঙ্গাইল: জেলার দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের শশীনাড়া গ্রামের কয়েকশো মুসুল্লি ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন তারা। নামাজ শেষে মুসুল্লিগণ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাত করেন।
এলাকাবাসী জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ২০১৫ সালে প্রথম তারা ঈদুল আজহা উদযাপন করে। এরপর এবার প্রথমবারের মতো সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন এ এলাকার মুসলমানরা।
মূলত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পরই আমাদের দেশে ঈদ পালন করা হয়। তবে দেশের কয়েকটি এলাকার মতো এ অঞ্চলের মুসুল্লিরা সৌদি আরবকে তীর্থভূমি মনে করে তাদের সঙ্গে একই দিন ঈদ পালন শুরু করেছে। তারা শুধু সৌদির চাঁদের সঙ্গে মিল রেখে রোজা আর ঈদ করেন। সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নামাজ পড়েন না, সেহরি ইফতার করেন না।
এর আগে দেশে ৭ জুন থেকে রোজা শুরু হলেও এ অঞ্চলের মুসুল্লিরা সৌদির সাথে মিল রেখে ৬ জুন প্রথম রোজার মাধ্যমে রোজা রাখা শুরু করেন। সেই হিসেবে এসব মুসুল্লিরাও ত্রিশটি রোজা সম্পন্ন করলেন।
এব্যাপারে লাউহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফিরোজ জানান, গত কয়েক বছর যাবত শশীনাড়া গ্রামের একটি অংশ সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় এবারো তারা ঈদ উদযাপন করছে।
মাদারীপুর: চারটি উপজেলার ৩০ গ্রামের হযরত সুরেশ্বরী পীর সাহেবের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ-উল ফিতর উদযাপন করছেন।
জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হলেও সকাল ৯টায় প্রধান ও বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় সদর উপজেলার তাল্লুক গ্রামে।
সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের ৬৯টি দেশে চাঁদ দেখা যাওয়ায় বুধবার ওই সব দেশে ঈল-উল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। তাই সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে সুরেশ্বর দায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহ.) এর অনুসারী মাদারীপুরের মুসলমান ঈদ-উল ফিতর উদযাপন করছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের চারটি উপজেলার ৩০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মুসলমান বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করেছেন।
সুরেশ্বরী (রহ.) অনুসারীরা জানান, সুরেশ্বর দরগা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহ.) এর অনুসারীরা ১৪৪ বৎসর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল আযহা পালন করে আসছেন।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার প্রায় ১৩টি গ্রামের শতাধিক পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।
বুধবার সকাল ৮টায় উপজেলা শহরের আব্দুল কাদের নামে জনৈক ব্যক্তির ধানের চাতালের অস্থায়ী ঈদগাহ ময়দানে এ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মওলানা মো. আসাদুজ্জামান। তবে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
স্থানীয়রা জানান, চিশতীয়া তরিকা মতবাদে বিশ্বাসী হরিণাকুন্ডু শহরের মরহুম গোলাম হযরত সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাজ পড়ার প্রথা চালু করে গেছেন। সেই থেকে প্রায় ২২ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভালকী, বৈঠাপড়া, চিথলিয়াপাড়া, ফলসি, পায়রাডাঙ্গা, কুলবাড়িয়া, বোয়ালিয়া ও পার্বতীপুরসহ ১৩ গ্রামের শতাধিক পরিবারের মানুষ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন।
হরিণাকুন্ডু থানার ওসি মাহাতাব উদ্দীন জানান, হরিণাকুন্ডু শহরে একটি ঈদের জামাত হয়েছে। তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়েছেন।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ //  ৬ জুলাই ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.