যোগ্য নেতার অভাব চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলে

সাব্বির আহমেদ, চট্টগ্রাম:

শত শত নেতা থাকলেও পদ দেওয়ার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন নেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলে। নতুনভাবে পূর্ণগঠন হতে যাওয়া ছাত্রদলের নগর কমিটিতে ২০০০ সালের পরে যারা এসএসসি পাস করেছে কেবল তাদেরকেই স্থান দেওয়ার নির্দেশনা এসেছে। এ অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে এবার প্রায় সবই নতুন মুখের দেখা মিলবে। এসব তরুণদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে আগামীর ছাত্রদলের নেতারা। সম্পুর্ণ নতুন নেতৃত্ব আসতে যাওয়া ছাত্রদলের নেতৃত্ব নিয়ে এখনো পরিস্কার নয় চট্টগ্রাম নগর বিএনপি। নেতৃত্বেও দৌড়ে থাকা নেতাদেরও চিনে না অনেকে।
ছাত্রদলের কমিটির বিষয়ে কথা হলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদেও যে নির্দেশনা সেটা হলো এসএসসি পরিক্ষায় ২০০০ সাল বা এরপর পরে হতে হবে এবং নিয়মিত স্টুডেন্ট হতে হবে। এবার ছাত্রদলের বড় কমিটি হবে। আগের ৫/৭জনের কমিটি আর হবে না। ১৫১, ১৬১, ২০১ বা তারচেয়েও বড় আকারের পূণাঙ্গ কমিটি হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগর ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা এবার অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা কমিটিতে আসার জন্য চেষ্টায় ছিলো সবাই ৯৬, ৯৭, ৯৮ ব্যাচের ছিলো। এসএসসি সাল নির্ধারণ কওে দেওয়াতে সবাই বাদ পড়ে গেছে। এখনো ২৫০/৩০০জন চেষ্টায় আছে। যারা সবাই একদম নতুন। কেউ কেউ হয়তো ওয়ার্ড কমিটিতে থাকতে পারে, কিন্তু নগর ছাত্রদলের কমিটিতে সবগুলো নতুন মুখ আসবে।
২০১৩ সালের ২২ জুলাই কেন্দ্র থেকে নগর ছাত্রদলের ১১ জনের অপূর্ণাঙ্গ একটি কমিটি গঠন কওে দেওয়া হয়। ছাত্রদল নেতা গাজী সিরাজ উল্লাহকে সভাপতি ও বেলায়েত হোসেন বুলুকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন কওে দেওয়া অপূর্ণাঙ্গ কমিটিকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও ব্যর্থ হন তারা। এরইমধ্যে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ সময়। কমিটির ১১ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটে এবং আরেকজন পদত্যাগ করেন। এই কমিটির বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ ছিলো, সবাই বিবাহিত ও সন্তানের বাবা। কমিটির সভাপতি গাজী সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, সহ-সভাপতি মাইনুদ্দিন শহীদ, ফজলুল হক সুমন, জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও জিয়াউর রহমান জিয়া, যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, আলী মর্তুজা খান, মোশারফ হোসেনসহ বেশির ভাগ নেতাই বিবাহিত। এরা সকলেই আসন্ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বসতে উঠে পড়ে লেগেছিল। এদের বাইরে সভাপতি পদ দাবি করছিলো শেখ রাসেল ও গোলজার হোসেন, মোস্তাকিম মাহমুদ। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদ দাবি করছিলো মোহাম্মদ মহসিন কবির ও মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সালাহ উদ্দিন আলী। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রাম মহানগরের যেসব নেতা পদ পেয়েছেন তাদের বাদ রাখা এবং ২০০০ সালের পরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের কমিটিতে আনার পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। এ হিসেবে পূর্বের কমিটির এবং নেতৃত্বে থাকা প্রায় সবাই বাদ পড়ে যেতে পারে নতুন কমিটি থেকে। তাছাড়া পূর্বের ন্যায় অপূণাঙ্গ কমিটি না করে এবার পূণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কথা হলে নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে সবগুলো নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কে আসবে কে আসবে না সেটা বলা মুশকিল। কেউ কাউকে চিনে না। কলেজের নতুন মুখগুলো থেকেই নেতৃত্ব আসতে পারে। আগে নেতৃত্বে ছিলো এমন কেউ আসার সম্ভাবনা খুবই কম।

সাব্বির// এসএমএইচ//৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …