রবি শষ্য চাষে বদলে গেছে আবাদী মাঠের চিরচেনা দৃশ্য

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

খরা মৌসুমের পতিত জমিতে রবি শষ্য চাষে বদলে গেছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার আবাদী মাঠের চিরচেনা দৃশ্য। মৌসুমের শুরুতে বৃস্টিপাত, অনুকুল আবহাওয়ায় লবনসহিষ্ণু জাতের বীজ চাষে বাম্পার ফলন ও কাংখিত মূল্য পাওয়ায় খুশী কৃষক। মিস্টির পানির সংরক্ষন, আর্থিক প্রনোদনাসহ কৃষি বিভাগের সহায়তা অব্যাহত থাকলে আরো বেশি কৃষক চাষে আগ্রহী হবে এমন ধারনা কৃষকদের। তবে দখল হওয়া সকল খাল উদ্বার এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খাল খনন করে সুপেয় পানির সংরক্ষন করা হলে উপকূলীয় এলাকার সকল এক ফসলী আবাদি জমিকে তিন ফসলি জমিতে পরিনত করা সম্ভব বলে মনে করেন কৃষি বিভাগ।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়ায় মোট আবাদি জমির পরিমান ৬৯ হাজার ৬৯০ হেক্টর। এর মধ্যে এক ফসলী জমি হল ৯৩১৫হেক্টর, দুই ফসলী ১৫১৮০হেক্টর এবং তিন ফসলী ১০হাজার ৫হেক্টর। এরমধ্যে রবি মৌসুমে পতিত থাকে ৯ হাজার ৪৯৫হেক্টর এবং খরিপ-১ মৌসুমে পতিত থাকে ২৪ হাজার ৩৭০হেক্টর। রাঙ্গাবালীতে আবাদি জমির পরিমান ৩৫ হাজার ৭৭৭হেক্টর। যার এক তৃতীয়াশং জমি থাকে রবি মৌসুমে পতিত। খরিপ-১ মৌসুমে প্রায় অর্ধেক জমি থাকে পতিত। একই চিত্র গলাচিপা উপজেলায়। গলাচিপায় মোট আবাদি জমির পরিমান সাড়ে ৬৯ হাজার একর। এর মধ্যে ৫২টি চরে রয়েছে ৬৪ হাজার ৪৭৮.২৫ একর জমি।
কৃষি অফিস সূত্রে অরো জানা যায়, কয়েক বছর আগেও পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার বিস্তীর্ন আবাদি জমির চিত্র এমন ছিলনা। শুস্ক মৌসুমে মাটির লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়াসহ মিস্টি পানির অভাবে এসব এলাকার সত্তুর ভাগ আবাদি জমি পতিত পরে থাকত। আবাদি জমির সঠিক ব্যবহার, আধুনিক চাষের কৌশল আর লবনসহিষ্ণু জাতের বীজ চাষ, পাল্টে দিয়েছে এসব পতিত আবাদী মাঠের চিত্র। মেীসুমের শুরুতে বৃস্টিপাতে খালসহ পুকুরে জমা হলে তা দিয়ে কৃষকরা চাষ করেছেন তরমুজ, বাঙ্গি, মরিচ, বাদাম, মিস্টি আলু, ছোল, আলু, ভুট্টা, মুগ ডাল, ফেলন, খেসারী, মশুর, সূর্যমুখী, বোরোসহ সবজি।
অনুকুল আবহাওয়াসহ রোগা বালাইয়ের প্রকোপ না থাকায় কঠোর পরিশ্রমে বাম্পার ফলনে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মুল্য পাওয়ায় আর্থিক স্বলম্বীতায় খুশী কৃষক। কলাপাড়ার লতাচাপলীর ধজ্ঞুপাড়া গ্রামের কৃষক ইউসুফ খান জানান, তিন বছর পূর্বে কৃষি অফিস এবং বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার পরামর্শে নিজের এক একর জমিতে ভূট্্রা, ঢেরস, করলা, মরিচ, মিস্টি কুমার, সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেন। প্রথমবারের বাম্পার ফলনে অগ্রহী হয়ে এখন আরো সাত একর জমি রবি মৌসুমের জন্য লিজ নিয়ে চাষ করছেন। একই এলাকার কৃষক সৈয়দ বেপারী জানান, সুপেয় পানির প্রয়োজনে ৬ হাজার টাকায় শুধু রবি মৌসুমের জন্য একটি পুকুর লিজ নিয়েছেন। কৃষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, আবাদী জমির ভিতরে অনেক খাল রয়েছে। যার অধিকাংশই দখল হয়ে গেছে। কিছু খাল ভরাট হয়ে গেছে। এগুলোতে সুপেয় পানি খাকলে তাদের চাষের সুবিধা হত। কৃষক মোজাম্মেল গাজী বলেন, সুইজ গেট নিয়ন্ত্রন করে প্রভাবশালীরা মাছের ব্যবসা করছে। বর্ষা মৌসুমে আবাদী জমিতে পারি জমে যায়। আবার খরা মৌসুমে লবন পানি ঢুকায়। এবছর বাধ্য হয়েই সে লবন পানি তার মরিচ খেতে দিতে হয়েছে। এতে তার সবার মত ফলন না হলেও খরচ উঠেছে।
লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, তার ইউনিয়নে প্রতি বছর বাড়ছে রবিশষ্য চাষীর সংখ্যা। ফলে এক ফসলি এসব জমি পরিনত হচ্ছে তিন ফসলি জমিতে। তবে মিস্টির পানির সংরক্ষনসহ সুইজ গেটের যথাযথ নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে লবন পানির প্রবাহ বন্ধ করা গেলে কৃষকরা আরো বেশি রবিশষ্য চাষে আগ্রহী হবে।
কলাপাড়া উপজেল কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান বলেন, প্রশিক্ষন, মাঠ পর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধি, লবনসহিষ্ণু জাতের আবাদে বাম্পার ফলন পেয়েছে কৃষক। কৃষি বিভাগ থেকে প্রতিনিয়ন দেয়া হচ্ছে পরামর্শ। তবে দখল হওয়া খাল উদ্বার এবং ভরাট খাল পুন:খনন করে সুপেয় পানির সংরক্ষনসহ স্বল্প বা বিনা সুদে কৃষকদের অর্থিক প্রনোদনা দেয়া হলে উপকূলীয় এলাকার শতভাগ আবাদি জমিকে তিন ফসল চাষের আওতায় আনা সম্ভব।

সাইফুল //এসএমএইচ// ১৩ই মে, ২০১৮ ইং ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …