‘রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা নেই’

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

রমজানকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা প্রচুর পরিমাণে ছোলা, ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, মটর ও খেজুরের মত প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করেছে। এখনো প্রতিদিন সেইসব পণ্য গুদামজাত করা হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, গতবছরের এই সময়ের তুলনায় ভোগ্যপণ্যের বাজার নি¤œমুখী। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলা, চিনি, ও ভোজ্যতেলের দামও কম রয়েছে। তাই মিল মালিক ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের নজরদারিতে আনতে পারলে রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রমজান উপলক্ষে খাতুনগঞ্জে নিত্যপণ্য ছোলা, মসুর ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের আমদানি ও সরবরাহ বেড়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের দাম পাইকারী বাজারে সহনীন পর্যায়ে আছে।

তবে গত রমজানের তুলনায় পাইকারী বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। তাদের মতে, সময়ের সাথে সাথে পরিবহন খরচ ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। তার উপর মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণের প্রভাবে পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। সেই হিসেবে ব্যবসায়ীদের মুনাফা কমে গেছে।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন বলেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম কম রয়েছে। তার মূল কারণ হচ্ছে এ বছর প্রচুর পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হয়েছে। এছাড়াও গত বছরের অনেক পণ্য অবিক্রিত থেকে গেছে। তাই এ বছর ভোগ্যপণ্যের দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা দেখছি না। মনে হয় এ বছর ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে। কারণ আমাদের পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে সব খরচ বেড়ে গেছে। মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ আইনের কারণে পণ্য পরিবহনে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। যেখানে আগে অমরা ১৫ টি ট্রাকে যে পণ্য আনতাম বর্তমানে আমাদের সেই পণ্যেও জন্য ১৮-২০ টি ট্রাক ভাড়া করতে হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সগীর আহমদ বলেন, গত বছরের তুলনায় এই বছর আমদানিও বেড়েছে। কিন্তু মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ আইনের কারণে পণ্য পরিবহনে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। যার ফলে একদিকে চট্টগ্রাম বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে সরে যাবে।
রমজানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আসন্ন রমজান উপলক্ষে নগরীর ২৪ টি পয়েন্টে ১০ টি ট্রাকে সরকারি ভাবে নির্ধারিত মূল্যে সয়াবিন তেল, ছোলা, চিনি, মসুর ডাল ও খেজুর বিক্রি করছে টিসিবি।
চট্টগ্রামের টিসিবি’র অফিস প্রধান জামাল উদ্দিন বলেন, গত রোববার থেকে আমরা পাঁচটি পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছি। এবার প্রতিকেজি ছোলা ৭০ টাকা, চিনি ৫৫ টাকা, সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা লিটার, মসুর ডাল ৫৫ টাকা কেজি এবং প্রতিকেজি খেজুর ১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন একটি ট্রাকে ৩-৪শ’ কেজি চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও তেল বিক্রি করা হবে। এছাড়াও ৫০ কেজি খেজুর বিক্রি করা হবে।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও ফেনীতেও বিক্রি করা হবে। শুক্রবার ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে ট্রাক ও ডিলারদের কাছ থেকে ভোক্তারা পণ্য কিনতে পারবেন। একজন গ্রাহক ট্রাক থেকে অথবা এলাকার নির্ধারিত ডিলারদের কাছ থেকে অথবা টিসিবির বিক্রয় কেন্দ্র থেকে সর্ব্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি ডাল, ৫ কেজি সয়াবিন তেল, ৫ কেজি ছোলা ও ১ কেজি খেজুর ক্রয় করতে পারবেন।

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …