রাজধানীতে ফিরছে কর্মজীবী মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ পালন শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। রোববার সকালে ঢাকার রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল আর সদরঘাট লঞ্চঘাটে দেখা গেছে বাড়ি ফেরত যাত্রীদের ভীড়।

দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লঞ্চের যাত্রীদের যাত্রা স্বস্তির হলেও বাসে রওনা হওয়া যাত্রীরা কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাটে জটে পড়ে ঢাকা পৌঁছাচ্ছেন কয়েক ঘণ্টা দেরিতে। রেলের সূচিতে গড়বড়ের কারণে ট্রেনের যাত্রীদেরও ভুগতে হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ-এর পরিবহন পরিদর্শক (টিআই) এবিএস মাহমুদ জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা ৮১টি লঞ্চ সকালে ঢাকা সদরঘাটে ভিড়েছে। রোববার থেকে অফিস ধরার জন্য অনেকে শনিবারই ঢাকায় ফিরেছেন, আবার যারা বাড়তি ছুটি নিয়েছেন, তাদের অনেকে রোববার সন্ধ্যায় বা সোমবার সকালে ফিরবেন।

এমভি আওলাদ লঞ্চের মহাব্যবস্থাপক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা তাদের আওলাদ -৭ রোববার ভোরে সদরঘাটে পৌঁছেছে। যাত্রী মোটামুটি ছিল। আশা করছি আগামীকাল আরও বেশি যাত্রী আসবে। পটুয়াখালী থেকে আসা রাকির হাসান জানান, তিনি গুলশান পুলিশ প্লাজায় যে মোবাইল ফোনের দোকানে চাকরি করেন, সেটি খুলবে সোমবার। তবে ভিড়ের ভয়ে একদিন আগেই তিনি এসেছেন।

চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আসা হাসান ল্যাবএইড হাসপাতালের মিরপুর শাখায় কাজ করেন। রফরফ-৭ লঞ্চে চড়ে রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছে কাজে যোগ দিয়েছেন তিনি। হাসান বলেন, কেবিনে, ডেকে যাত্রী ছিল। তবে যাওয়ার সময় যেমন চাপ থাকে, ফেরার সময় তেমনটা নয়।

এমভি ফারহান লঞ্চের এক কর্মচারি বলেন,  প্রতি বছর এমনই হয়। অফিস খুললেও পুরো সপ্তাহ ধরে যাত্রী আসতে থাকে। যাওয়ার সময় ঈদের দুইদিন আগে যাত্রীর যে চাপ সদরঘাটে দেখেন, ফেরার সময় ওইরকম দেখবেন না। ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান বলেন, যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে আমরা নিরাপত্তার সব ব্যবস্থাই করেছি।

তবে ট্রেনের যাত্রীদের ক্ষেত্রে যাওয়ার পথের মত ফেরার পথেও সঙ্গী হয়েছে রেলের সূচি বিপর্যয়ের ভোগান্তি। রোববার সকালে বেশিরভাগ ট্রেনই কমলাপুরে পৌঁছেছে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ খানিকটা দেরিতে। এই বিলম্বের কারণে এক দিকে রাতের ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে, অন্যদিকে অনেকেই সময়মত ঢাকা পৌঁছাতে না পেরে ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে ঠিকমত অফিস ধরতে পারেননি।

এদিকে নাব্য সংকটে কারণে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন দক্ষিণ জনপদের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার পথে রওনা হওয়া যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম খন্দকার শাহ খালেদ নেওয়াজ জানান, এই রুটে শনিবার রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার পর রোববার ভোরে আটটি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার শুরু হয়। কিন্তু ১০টি ফেরি বন্ধ থাকায় বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। পদ্মার দুই তীরে আটকা পড়েছে হাজারখানেক যানবাহন।

ঘাট কর্তৃপক্ষ চালকদের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবহার করার পরামর্শও দিলেও গাড়ির চাপে সেখানেও জট তৈরি হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফেরিঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বলে দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীরা ঢাকা পৌঁছাচ্ছেন সম্ভাব্য সময়ের বেশ কয়েক ঘণ্টা পরে।

ঢাকার গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতির সদস্য মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, মাওয়া রুটে নাব্য সংকটের কারণে চাপ পড়েছে দৌলতদিয়ায়। গতকাল (শনিবার) রাতে যে গাড়িগুলো দক্ষিণবঙ্গ থেকে ছেড়ে এসেছিল, সেগুলো সব এখনও গাবতলী পৌঁছাতে পারে নাই।

তবে উত্তর জনপদের বিভিন্ন জেলা থেকে যারা বাসে চড়ে শনিবার রাতে বা রোববার ভোরে রওনা হয়েছেন, তারা মোটামুটি স্বস্তিতেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। সরকার ট্রাভেলসের একজন ব্যবস্থাপক জানান, পাবনা থেকে ছেড়ে আসা তাদের ছয়টি বাস সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে গাবতলী চলে এসেছে। পথে কোথাও বড় যানজটে পড়তে হয়নি।

অবশ্য ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে যারা এসেছেন, তাদের গাজীপুরের কোনাপাড়া, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, টঙ্গী রেলগেইট এলাকায় কিছুটা জট পেরিয়ে আসতে হয়েছে বলে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি  মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন।

সাব্বির// এসএমএইচ//২৬শে আগস্ট, ২০১৮ ইং ১১ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …