রাবির সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠান কর্মী ধার নিয়ে চলে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সপ্তাহের এমন কোনো দিন ছিল না বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো না। বিকেল হলেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বসত গানের আসর, পথের মাঝে নাটকে সাড়া মিলত শিক্ষার্থীদের। এখন তার কিছুই নেই। ক্যাম্পাসের সেই পরিবেশ আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না।’ কথাগুলো ক্যাম্পাসের নিরপত্তা কর্মী আব্দুল লতিফের।গত এক যুগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিবর্তন সম্পর্কে কথা হচ্ছিল তার সঙ্গে।এক যুগ ধরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকেন তিনি।তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ক্যাম্পাসের জৌলুস হারিয়ে গেছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে রাজনীতি সকল পর্যায়ে ভাটা পড়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রথম থেকে সাংস্কৃতিক চর্চার তেমন জাঁকজমক না থাকলেও ৭০ দশকের পর থেকে এখানে সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়। সেই সময়কার সংস্কৃতিকর্মীরা বাঙালি জাতিসত্ত্বা ও জাতীয়তাবোধের সঠিক পরিচয় ফুটিয়ে তুলছেন অত্যন্ত সৃজনশীল ও শৈল্পিকভাবে।এর ফলে গণশিল্পীর উপর দেশের একমাত্র পিএইচডিপ্রাপ্ত সম্ভু সরকার, রবীন্দ্র সঙ্গীত অ্যাডভোকেট মিনা মিজানুর রহমান, বিখ্যাত আবৃত্তিকার খ.ম. সামছুজ্জোহা, কন্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, কমেডিয়ান আবু হেনা রনি, হৃদয় আল মিরুদের মতো ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছে।সংস্কৃতিবিহীন ক্যাম্পাসে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের সময় কাটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আর আড্ডায়। শিক্ষার্থীরা এখন ক্যারিয়ার ভিত্তিক কর্মকাণ্ডে বেশি ঝুঁকছে।বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা মনে করেন, সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ভেবে শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতি চর্চা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু বলেন, ‘দেশে বর্তমানে অনেক মিডিয়া তৈরি হয়েছে। যারা একটু সম্ভাবনাময় তারা এখন ফেসবুকে, ইউটিউবে, ডকুমেন্টারি তৈরি করে পোস্ট করে। আর সে কারণে শিক্ষার্থীরা সংগঠন করে কাজ শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে না।’তিনি আরো বলেন, ‘আগে বিশ্বববিদ্যালয়ে শিল্পী কোটার কারণে অনেক মেধাবী শিল্পী ভর্তি হতো। ফলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখতো। কিন্তু সেটাও বর্তমানে নেই। সবকিছু মিলিয়ে সময় দিয়ে, শ্রম দিয়ে, দরদ দিয়ে সংস্কৃতি চর্চার যে প্রবণতা ছিল তা কমে এসছে।’সব শেষে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বলতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে ১২টি। কর্মী সঙ্কট এতটাই প্রকট যে, নিজেদের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে অন্য সংগঠনের কর্মী ধার করে চালাতে হয় তাদের।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ইন্দ্রোজিৎ কুমার বলেন, ‘কর্মী সঙ্কটের কারণে বর্তমানে অন্য সংগঠন থেকে কর্মী নিয়ে নাটক প্রদর্শনী করতে হয়।’কর্মী সঙ্কট হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য পর্যাপ্ত পরিবেশ নাই। এছাড়াও পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি নাই। একটিমাত্র মুক্ত মঞ্চ রয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা বর্তমানে বিসিএস কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ফেসবুকে অতিরিক্ত এডিক্টেড হওয়ার কারণেও সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকতে চাইছে শিক্ষার্থীরা বলে মনে করছেন তিনি।’এদিকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো টিএসসিসিতে আসতে চাইছে না নানা কারণে। নিস্পৃহ পড়ে থাকে ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটিও।এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় টিএসিসি এর পরিচোলক অধ্যাপক মো. হাসিবুল আলম প্রধানের সাথে।তিনি বলেন, ‘সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উপস্থিতি টিএসসিসিতে আগের তুলনায় কম। পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসির অভাবে শিক্ষার্থীরা এখানে আসতে চাচ্ছে না।’তবে এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে রবি, মঙ্গল এবং বৃহস্পতিবারে অভিনয়, গান এবং তবলা শেখার ব্যবস্থা করেছেন তিনি।এছাড়াও হলগুলোর মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সাইফুল//এসএমএইচ//২৭শে মে, ২০১৮ ইং ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …