রিপেনের বিবস্ত্র লাশ নিয়ে চিন্তায় পুলিশ, বন্ধুদের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল পরিবারের

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

চট্টগ্রামের পতেঙ্গার চরপাড়ায় কর্ণফুলী নদীর তীরে পাথরের ফাঁকে আটকানো কাস্টমস কর্মকর্তা রিপেন সিংহের বিবস্ত্র লাশ নিয়ে চিন্তায় পড়েছে পুলিশ। লাশের বিবস্ত্র থাকার বিষয়টিকে টার্গেট করেই পুলিশ তদন্তে আগাচ্ছে। তবে নিহত রিপেনের স্বজনদের দাবি, বন্ধুরাই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।
নিহত রিপেন গত শুক্রবার সকালে নগরের আসকার দিঘীর পশ্চিম পাড়স্থ অফিসার্স লেইনের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। সন্ধ্যায় রিপেনের সন্ধানে তার পিতা ক্ষুধিরাম সিংহ নগরের কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। রাত ৮টায় পতেঙ্গার চরপাড়ায় কর্ণফুলী নদীর তীরে পাথরের ফাঁকে আটকানো অবস্থায় রিপেনের মরদেহ উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ।
পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উৎপল কান্তি বড়ুয়া বলেন, শুক্রবার রাতে খবর পেয়ে আমরা রিপেনের মরদেহ উদ্ধার করি। তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন আমরা পাইনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে হত্যা নাকি আত্মহত্যা। তবে রিপেনের ‘বিবস্ত্র’ লাশ আমাদের ভাবাচ্ছে। তাই আপাতত আমরা এটা নিয়েই আগাতে চাই।
রিপনের ভাই জেকি সিংহ বলেন, তিন ভাই এক বোনের মাঝে রিপেন সবার ছোট ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ করেছে সে। রিপেনের স্ত্রী জয়া সিংহ আমাদের জানিয়েছে রাতে রিপেন নাকি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ছিলো। রাতে ঘুমও কম হয়েছিল। সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে রিপেনের বন্ধু শুভ শর্মা কল দিলে তাড়াতাড়ি করে সকালের নাস্তা না করেই বের হয়ে যায় সে। ২ ঘন্টার মধ্যে এসে সবার সাথে নাস্তা করার কথা ছিল। প্রায় ২ ঘন্টা পরে রিপেনের মুঠোফোনে কল দিয়ে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিলনা। এরপর সারাদিনেও মেলেনি খোঁজ। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোতোয়ালী থানায় সাধারণ জিডি করি। পরে রাত ১১ টার দিকে কোতোয়ালী থানা থেকে কল দিয়ে বলে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীতে একটা লাশ পাওয়া গেছে। পরে মর্গে গিয়ে আমার ভাইয়ের লাশ সনাক্ত করি। এরপর থেকেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ডায়রিয়া আর জ্বরের কারণে এখন স্যালাইন দিতে হয়েছে। আমি এমনই হতভাগা যে ভাইয়ের শেষকৃত্যেও যেতে পারলাম না।
এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকা- দাবি করে তিনি বলেন, রিপেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুভ শর্মা নামে তার এক বন্ধু আছে হাজারী লেইনে। শুভকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,আমার ভাইয়ের মাথার এক পাশে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তার বন্ধুরাই। তাদের চিহ্নিত করে ফাঁসি দেয়া হোক।
রিপেন চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন বলে জানান তারা বাবা ক্ষুধিরাম সিংহ।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত এগুচ্ছে। দ্রুত রহস্য উদঘাটন হবে বলে তাদের বিশ্বাস।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কর্ণফুলী নদী থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ কাস্টমস কর্মমকর্তা রিপেন সিংহ (৩০) এর লাশ। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে লাশ হস্তান্তর করা হয় তার পরিবারের কাছে। সেখান থেকে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নিজ বাড়ি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার বন্দর এলাকায়। সেখানেই বিকাল সাড়ে ৫ টায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৪ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …