শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত যথার্থ: জয়

0

নিজস্ব প্রতিবেদক

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত যথার্থ ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিকসে (আরসিপি) লেখা এক নিবন্ধে তিনি এসব কথা বলেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, গত মাসে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলার সময় হঠাৎ তা সহিংস রূপ ধারণ করে। আন্দোলনের এই পরিণতির জন্য যারা দায়ী, তাদের মধ্যে বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম একজন।

তিনি আরো লিখেছেন, শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কারণ তিনি সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছেন। তিনি উস্কানি দিতে পেরেছেন কারণ তার সেলিব্রেটি ইমেজ রয়েছে। উস্কানির পরও তার পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরব তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

জয় লিখেন, বাসের ধাক্কায় দুই স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ‘দুঃখবোধে আক্রান্ত হয়ে’ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে এবং সড়কে নিরাপত্তার দাবি জানায়। সরকার শিক্ষার্থীদের এই দাবি শুনতে পায় এবং তাদের দাবিতে ‘হ্যাঁ’ জানিয়ে সাড়া দেয়।

জয় আরও উল্লেখ করেন, সরকার ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ ও বেপরোয়া গাড়িচালনার জন্য সাজা বাড়ানোর প্রতিশ্রুদি দেয় এবং এতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দ্রুতই সফল হয়। কিন্তু দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেতারা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। বিএনপি সদস্যরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢুকে পড়ে, স্কুল ড্রেস পরে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যায় এবং শিক্ষার্থীদের উসকে দেয়।

তবে বিএনপির এই উসকানি ‘খুব বেশি দূর যেতে পারেনি’ উল্লেখ করে জয় লিখেছেন, বিএনপির সঙ্গে শহিদুল আলমও মাঠে নেমে পড়েন এবং তাকে যথার্থভাবেই গ্রেপ্তারর করা হয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পাশাপাশি প্রচলিত গণমাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীর ‘মৃত্যু’ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন। তার এই মিথ্যা তথ্য সহিংসতা এবং ক্ষমতাসীন দলের সদর দফতরে হামলাকে উসকে দেয়।

নিবন্ধে লেখা হয়েছে, তার এই ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং উস্কানিমূলক বিবৃতির জন্য চালানো হামলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক কর্মী চিরতরে অন্ধ হওয়া ছাড়াও অনেকে আহত হয়েছেন।

ভিন্নমতের কারণে পুলিশ শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়নি উল্লেখ করে জয় লিখেছেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সত্যিকার ক্ষতি করার উদ্দেশে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের জন্য। আলমের বক্তব্য একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে বেআইনি সহিংসতায় পরিণত করতে সাহায্য করেছে।

ওই নিবন্ধে আরও লেখা হয়েছে, তরুণ ছাত্রদের বিক্ষোভ দখলে নিয়ে তাদের জীবন ও অন্য অনেক বাংলাদেশির জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া রাজনীতি নয়, এটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা লিখেছেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শহিদুল আলম স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করে গেছেন। কখনও কখনও তিনি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কথা বললেও অন্যান্য সময় তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। প্রতিটি সময়ই সরকার তার বাকস্বাধীনতাকে সুরক্ষা দিয়েছে, যা সব বাংলাদেশিরই আছে। কিন্তু সরকারকে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হয় এবং তাকে (শহিদুল) গ্রেপ্তারের সময় সেই বিষয়টিই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। নিশ্চিতভাবেই সরকারের এই উদ্যোগ ছিল প্রয়োজনীয়। তাই শহিদুল আলম ভিক্টিম নন, বরং তার কর্মকাণ্ডই অনেক মানুষের ক্ষতির কারণ হয়েছে।

জয় উদাহরণ দিয়ে লিখেন, কোনো জনাকীর্ণ থিয়েটার হলে আগুন না লাগলেও আগুন আগুন বলে চিৎকার দেওয়াটা বেআইনি। শহিদুল ঠিক সেই কাজটিই করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগও সঠিক।

নিবন্ধের শেষের দিকে তিনি লিখেন, এ বছর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুতরাং কেউই বিস্মিত হবে না যে বিরোধীরা ৩ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য মুক্ত করা ও গড় জাতীয় আয় প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলাসহ সরকারের বিভিন্ন অর্জন থেকে জনগণের মনোযোগ ভিন্ন দিকে ধাবিত করে দিতে চাইবে।

সাব্বির// এসএমএইচ//৩০শে আগস্ট, ২০১৮ ইং ১৫ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.