সীতাকুন্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের “গুলিয়াখালী বিচ” ।

সরকার স্বীকৃতি দিল সীতাকুন্ডের “গুলিয়াখালী বিচ”কে

নিজস্ব প্রতিবেদক  ঃ

দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে চিঠি আদান-প্রদানের পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের চাপ কমাতে অবশেষে সরকার স্বীকৃতি দিল সীতাকুন্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের “গুলিয়াখালী বিচ”কে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তিরা বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রুপ দিতে নানাবিধ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে সরকারি স্বীকৃতি স্বরুপ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব শ্যামলী নবী স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

সেখানে উল্লেখ করেন,অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ অথবা অন্য কোন রুপ কার্যক্রম গ্রহনের কারণে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশংকা। ভবিষ্যতেও আরো ব্যাহত আশংকা রয়েছে। এমতবস্থায় বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প ও সেবা খ্যাতে পরিকল্পনা,উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষে এবং পর্যটন সম্ভাবনায় এলাকায় অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ অথবা অন্য কোন রুপ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল আইন,২০১০ এর (৪)ধারা ক্ষমতাবলে গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত এলাকাকে সরকারি স্বীকৃতি ঘোষনা করেন। পর্যটন অধিগ্রহণকৃুত জায়গা এক নম্বর খাস খতিয়ানের জমির পরিমান ২.৫৯.১০ একর। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস স্ব-পরিবারে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী বীচ পরিদর্শন করেছিলেন।

এসময় তিনি গুলিয়াখালীর বীচের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হোন। তিনি বীচে প্রায় তিন ঘন্টা সময় অতিবাহিত করেন। পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ বীচটির সৌন্দর্য অসাধারণ,এখানে পর্যটনদের দেখার কিছু নতুনত্ব রয়েছে। যা অন্য সমুদ্র সৈকত পর্যটকরা পাবে না।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ কামাল, ডিডিএলজি বদিউল আলম, সীতাকুÐ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন, সহকারী কমিশনার ভূমি আশরাফুল করিমসহ সরকারী বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়াও বিচটিকে সরকারি স্বীকৃতি দিতে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের আন্ত মন্ত্রনালয় বৈঠক শেষে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিলেন।

জানা যায়,বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে জননন্দিত সরকারি স্বীকৃতি প্রাপ্ত কক্সবাজার সি-বিচ। বিশ্বের অনেক দেশের পর্যটক প্রিয়রা বঙ্গোপসাগর মোহনায় সাগর উত্তাল ঢেউ দেখতে ছুটে আসে এই সমুদ্র সৈকতে। এই সমুদ্র সৈকতকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা শহরে গঠে উঠেছে হোটেল,মোটেল জোন। এই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের ছাপ কমাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে সরকার সীতাকুন্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতকে সরকারি ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।

এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সীতাকুন্ড উপজেলা প্রশাসন যৌথ উদ্দ্যোগে রাস্তা প্রশস্ত ও রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু করেছিলেন। হোটেল,মোটেল জোন করতে জায়গা অধিগ্রহণ ও ঘাস জায়গা শনাক্তের কাজ শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার মুরাদপুর গুলিয়াখালী বিচকে সরকারি স্বীকৃতি ঘোষনা করা হয়েছে।

উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের নবাগত ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাহার বলেন,“স্থানীয়দের কাছে সৈকতটি মুরাদপুর গুলিয়াখালী সি-বিচ নামে পরিচিত। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড পৌরসদর বাজার থেকে দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া না লাগলেও এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলবেঁধে অনেক দর্শনার্থী ছুটে আসছেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এই সৈকতে। সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ায় খুশি স্থানীয়রা,এখন দ্রæত গতিতে ও সরকারি উদ্যোগ এবং পৃষ্ঠপোষকতা গুলিয়াখালী বিচ হতে পারে দেশের পর্যটনের অন্যতম একটি স্থান। সকল সুবিধা রেখে  দ্রুত পর্যটন আকৃষ্ট করতে পারলে দেশের পর্যটন খাতে অনেক বড় অবদান রাখা যাবে। সরকারি স্বীকৃতি ঘোষনায় আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি উপজেলা প্রশাসন,সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ এবং বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি স্থানীয় সাংবাদিক ভাইদের,উনাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংবলিত নিউজ তুলে ধরায় আজ স্বীকৃতি পেল গুলিয়াখালী বিচ।”

সরকারি ঘোষনা বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন,“উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী বিচটিকে সরকারি স্বীকৃতি ঘোষনা করে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব শ্যামলী নবী স্যারের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। সোমবার থেকে গুলিয়াখালী বিচটি সরকারি স্বীকৃতি পেল। এই মোতাবেক আমরা পর্যটক আকৃষ্ট করতে নানাবিধ অবকাঠামোর কাজ শুরু করবো।

ইতিমধ্যে আমরা গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতের জন্য রাস্তা প্রশস্তকরণ,হোটেল,মোটেল,জোনের জন্য ঘাস জায়গা অধিগ্রহনের কাজ শুরু করেছি। আমি ব্যাক্তিগতভাবে এই বিচটি দেখে আকৃষ্ট হয়েছি। পর্যটনের অপার সম্ভাবনা সীতাকুন্ডের গুলিয়া সমুদ্র সৈকত। মাত্র ৫কিলোমিটার দূরত্বে পর্যটকরা পাহাড়ী ঝর্ণা ও সমূদ্রের উত্তর তরঙ্গ উপভোগ করতে পারবে পর্যটকরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটনকদের ছাপ কমাতে মূলত এই গুলিয়াখালী বিচকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রুপ দেওয়া হবে।

এই বিচে পর্যটক আকৃষ্ট অন্যতম কারণ,এখানে গুলিয়া সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি,বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক,সু-উচ্চ চন্দ্রনাথধাম,ভাটিয়ারি গলফ ক্লাব সংলগ্ন ভাটিয়ারি লেক,বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ছোট দারোগারহাট সহস্রধারা ঝর্ণাসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের পর এই বিচে পর্যটকরা দিন-রাত যাপন করতে পারবেন।”

বিডিজা৩৬৫

Check Also

নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই খাদ্য সংকট থাকবে না : রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনে আকস্মিক হামলাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে …

পদ্মা সেতু উদ্বোধন ২৫ জুন

জার্নাল ডেস্ক : পদ্মা নদীর ওপর উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সেতুর নাম নদীর নামেই থাকছে। আগামী …