সীতাকুন্ডে চোরের দলেরা ফাইবারের বোট দিয়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছে রয়েল বার্ড জাহাজের মালামাল । ছবি : বিডিজা৩৬৫

সীতাকুন্ডে “রয়েল বার্ড” কেটে নিয়ে যাচ্ছে চোরের দলেরা

সীতাকুন্ড জার্নাল প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামে সীতাকুন্ডের সন্ধীপ চ্যানেলে সাগর উপকূলে আটকে পড়া ৩২৫০ টনের রয়েল বার্ড জাহাজটি ২৬ বছর ধরে সীতাকুন্ডে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাগর উপকূলে পড়ে আছে। অনুরূপ আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের ন্যায় হয়েছে ‘রয়েল বার্ড’ জাহাজটি। নানা ধরনের প্রাকৃতিক শেওলা ও অন্যান্য সাগরের জীব বৈচিত্র্য ঘিরে রয়েছে এই জাহাজটিতে। এ যেন এক স্থির দানব।

২০২০ ও ২০২১ সালের প্রথম দিকে লৌহার চাহিদা ছিল না দেশে। বছরের মাঝামাঝি লৌহার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রি-রোলিং ও অটো রি-রোলিং মিল্স গুলোতে উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এতে পুরাতন জাহাজের স্ক্র্যাপ গুলো দাম লাপিয়ে লাপিয়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। স্ক্র্যাপ বৃদ্ধি হওয়ার কারণে রয়েল বার্ড জাহাজটি মালামাল (লৌহা) প্রতি রাতে আটকে পড়া জাহাজের সংলগ্ন চোরে দলের লিডার বাদশা তার চোরের দল বল নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল তার বানানো ফাইবার বোট দিয়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ভাটিয়ারী ইউনিয়নের উপকূলের বসবাস করা এক ব্যক্তি জানান, গত ৫/৬ মাস ধরে স্ক্র্যাপ দাম বৃদ্ধি হওয়ায় কারণে চোরের দলেরা সন্ধ্যা হইলে অক্সিজেন বোতল এলপির বোতল ও সরাঞ্জাম সাথে নিয়ে ট্রাকে ব্যবহার করা বড় বড় তেলপাড় দিয়ে ঘুরে সারারাত রয়েল বার্ড জাহাজের ভিতরে কাটিং করে। জাহাজের কাটিং করা লৌহার টুকরো গুলো ভোর রাতে জাহাজ থেকে নামিয়ে নিয়ে আসে চোরের দলেরা। এই লৌহার টুকরো গুলো ভোর রাতেই বিক্রয় করে ফেলে। সাম্প্রতি জাহাজের পিছনে পিতলের পাকা যার মূল্য অর্ধ কোটি টাকার বেশি। বাদশা তার সঙ্গী চোরদেরকে নিয়ে কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় গভীর রাতে গোপান সংবাদের ভিত্তিতে পোষ্ট গার্ড জানতে পারে। ঘটনাস্থলে পোষ্ট গার্ড এসে হাতে নাতে ধরে ফেলে বাদশা সহ ষোল জন চোরকে, পরে সীতাকুন্ড থানায় মামলা রুজু করে চোরদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এই সময় পোষ্ট গার্ডের সদস্যরা জাহাজের মূল্যবান পিতলের পাকাটি উদ্ধার করে পাশে একটি ইয়ার্ডে জিম্মি দিয়ে আসেন।

জানা যায়, পানামা পতাকাবাহী ক্যাপ্টেন ইমাম আনোয়ারের মালিকানাধীন রয়েল বার্ড জাহাজটি আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত গম নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। আমদানিকৃত গম গুলো পঁচা হওয়ায়, খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত মামলা বহাল থাকায় জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোংগরে রাখে। রয়েল বার্ড জাহাজটিকে বহি নোংগরে থাকা অবস্থায় “এম ভি এনাজের ইউসডম” জাহাজের সাথে সংঘর্ষে হলে জাহাজের তলা ফটো হয়ে যায়। এতে জাহাজটি অবকাঠামো অকেজো হয়ে পড়ে। দুইটি ইঞ্জিন থেকে একটি ইঞ্জিন অকেজো হয়ে যায়। দূর্ঘটনায় কবলিত রয়েল বার্ডের মালিক ইমাম হোসেন হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণের জন্য এম.ভি এনাজের ইউসডম জাহাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ দিকে বর্ষার মৌসুমে সাগর উত্তাল থাকায় জাহাজের ক্যাপ্টেন ও ক্রররা শত চেষ্টা করেও জাহাজটি নিয়ন্ত্রনে রাখতে না পারায় জাহাজে থাকা ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম সাহেব চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে একটি আবেদন করেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজটি স্থানীয় উপকূলে বিচিং করার জন্য অনুমতি প্রদান করে। অনুমতি পেয়ে ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম সাহেব গম বোঝাই রয়েল বার্ড জাহাজটি ২১ জুলাই ১৯৯৫ ইং তারিখে সীতাকুন্ডে ভাটিয়ারী উপকূলে কুতুব সাহেবের মালিকানাধীন পদ্মা শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে পশ্চিমে সাগরের উপক‚লে জাহাজটি নোঙ্গর ফেলে দেয়। পদ্মা শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ভাড়ায় নেয় মাহাবুব (প্রকাশ রয়েল বার্ড মাহাবুব)। পদ্মা শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে রয়েল বার্ড জাহাজটি আটকে পড়ায় কারণে মাহাবুবের ক্রয়কৃত অন্য জাহাজগুলো বিচিং বাধাগ্রস্থ হয়। যেহেতু রয়েল বার্ড জাহাজটি তাদের ইয়ার্ডে ছিল তার পরিপেক্ষিতে জাহাজের মালিক ইমাম আনোয়ার তাদেরকে আশ্বস্থ করেন জাহাজটি বিক্রির জন্য। এদিকে রয়েল বার্ড বিচিংয়ের তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে জাহাজে থাকা ক্যাপ্টিন ও ক্রর নির্ধারিত সময়ে বেতন দিতে না পারার কারণে জাহাজের মালিক ইমাম আনোয়ারের অনুরোধে মাহাবুব থেকে ২৫ লক্ষ অগ্রিম নিয়ে কর্মরত ক্যাপ্টিন ও ক্রদের বিদায় করেন। এ দিকে দূর্ঘটনায় কবলিত জাহজের মালিক হাইকোর্টে দায়ের কৃত মামলায় জরিমানার ৮ কোটি টাকা পায় রয়েল বার্ড জাহাজের মালিক ইমাম আনোয়ার। এদিকে ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়ে ইমাম আনোয়ার লাপাত্তা হয়ে যায়। অপরদিকে বিপাকে পরে ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম ও জাহাজ ক্রয়ের আসায় ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া মাহাবুব।

এ ব্যাপারে ক্যাপ্টেন  মোয়াজ্জেম জানান, পানামা পতাকাবাহী আমেরিকা থেকে আমাদানীকৃত পঁচা গমধারী জাহাজটি (রয়েল বার্ড) বন্দরে বহিনোঙ্গরে ছিল। এতে জাহাজের মালিক ইমাম আনোয়ার অনুরোধে আমি জাহাজের ক্যাপ্টেন এর দায়িত্ব গ্রহণ করি। আকস্মিক দূর্ঘটনার কারণে উপকূলে বিচিং পর্যন্ত আমার প্রায় ৮৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়। রয়েল বার্ডের মালিক ইমাম আনোয়ার ও হাজী সিরাজউদ্দৌলার সাথে দন্ধ সৃষ্টি হওয়াতে এখন আমার প্রাপ্য টাকা আমি বুঝে পাইনি। বর্তমানে জাহাজটি ভাটিয়ারীর উপকূলে স্থির হয়ে রয়েছে এই বিষয়ে মাহাবুব জানান, ভাটিয়ারী উপকূলে কুবুত উদ্দিন মালিকানাধীন পদ্মা শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডটি আমরা ভাড়ায় নিই। রয়েল বার্ড জাহাজটি আটকে যাওয়ায় আমাদের ক্রয়কৃত জাহাজগুলো বিচিং করে কাটা সম্ভব বাধাগ্রস্থ হয়। আটকে যাওয়া রয়েল বার্ড জাহাজটি ইয়ার্ড থেকে সড়ানোর কথা বলিলে, মালিক পক্ষ হাইকোর্টের মামলা নিষ্পত্তি হলে আমাদের কাছে কম দামে বিক্রি করবে বলে আশ্বস্ত করেন। আটকে যাওয়ার তিন মাস পর জাহাজের ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম সাহেব ক্রদের বেতন দেওয়ার জন্য ২৫লক্ষ টাকা আমাদের কাজ থেকে নেয়। এখনও রয়েল বার্ডের মালিক ইমাম আনোয়ার আমাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেয়নি। এই বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুন্ডর মডেল থানার ওসি (অফিসার ইনচার্জ )আবুল কালাম আজাদ বলেন , জাহাজের দারোয়ান আছেন তারা যদি চোরদের সাথে যোগসাজশে জাহাজের মালামাল দিয়ে দেয় তাহলে আমার করার কিছু নাই।

বিডিজা৩৬৫

Check Also

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছোট-বড় সব ঋণে ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৫% মরাটরিয়াম সুবিধা দিয়েছে

জার্নাল ডেস্ক : বৃহৎ শিল্প, এসএমই, কৃষি ঋণসহ সকল ধরনের ছোট বড় ঋণে পরিশোধিত ঋণের …

অ্যাকাউন্টের তথ্য সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার

তথ্য ও প্রযুক্ত ডেস্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানাসহ অন্যান্য বিষয় কে বা কারা দেখতে …