সুইস ব্যংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পাহাড়

0

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমান অর্থ গচ্ছিত রয়েছে বাংলাদেশিদের। দেশ থেকে অর্থ পাচার রোধে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলেও  পাচার কমছে না।

এক বছরে বাংলাদেশীদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ। সুইস ব্যাংকে ২০১৪ সালে বাংলাদেশীদের জমার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ সুইস ফ্র্যাংক। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা।

 

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক(এস.এন.বি) প্রকাশিত গতকালের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক গুলোতে বাংলাদেশিদের পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি এখনো গচ্ছিত রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথম স্থানে রয়েছে ভারত। এর পরে রয়েছে পাকিস্তান, নেপাল, ও শ্রীলঙ্কার অবস্থান।

 

পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের গচ্চিত অর্থ অর্ধেক কমলেও বাংলাদেশিদের কমেছে মাত্র ১৩০ কোটি টাকা।

 

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সাল শেষে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬২ কোটি সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৫ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায় এক সুইস ফ্রাঁর বিনিময়মূল্য ৮৯ টাকা ধরে এ হিসাব করা হয়েছে)।

বাংলাদেশ থেকে নানাভাবে অবৈধ উপায়ে পাচার হওয়া অর্থ যেমন সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকেরাও দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। তাই সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের মোট অর্থের মধ্যে বৈধ–অবৈধ সব অর্থই রয়েছে।

সাধারণত সুইস ব্যাংক অর্থের উৎস গোপন রাখে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা রাখে। তবে কয়েক বছর ধরে সুইজারল্যান্ডে ভারতীয়দের অর্থ জমার পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে। তার কারণ ভারত সরকারের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের এ সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা আছে।

 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কালো টাকার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স  নীতি ঘোষণা করেছে, যা ভারত পাকিস্তানে কার্যকর হলেও বাংলাদেশে এই নীতি কার্যকর হয়নি। অথচ বাংলাদেশ সরকার গত পাঁচবছরের বেশি সময় ধরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে আসছে।

 

২০২০-২১ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এমনকি শেয়ার বাজার,জমি,ফ্লাট সহ আবাসন খাতে অবাধে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও দেশ থেকে অর্থ পাচার কাঙ্ক্ষিত হারে কমছে না।

 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টি আই বি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,” পাচার রোধে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয় এগুলোর বেশিরভাগ কার্যকর নয়। ফলে পাচার ঠেকানো দূরের কথা,কামনোও যায় না।” তিনি মনে করেন এর জন্য সুশাসন, স্বচ্ছতা,  এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।

Share.

About Author

Comments are closed.