স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাফিক রুলটা শেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

জার্নাল ডেস্ক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি একটা কথা বলতে চাই, দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই৷ অনেক সময় গাড়ির ধাক্কা লেগে পড়ে যায় ৷ কিন্তু গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলবে এই ভয়ে চালক না দাঁড়িয়ে দ্রুত গাড়ি টেনে চলে যায়৷ গাড়িটা দাড়ালে লোকটি হয়তো বেঁচে যেত। কিন্তু ড্রাইভার ভয়ের কারণে টেনে চলে গেলে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি মারা যায় ৷ তাই কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, তারাই সেটা দেখবে।

বুধবার (১২ জানুয়ারি) সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নবনির্মিত চারটি প্রকল্প উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, একটা প্রবণতা দেখা যায় কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে ধরে পেটানো হয়৷ অনেক সময় গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয় ৷ দুর্ঘটনাটা কেন ঘটলো, কার জন্য ঘটলো- বিবেচনা করতে হবে৷ গণপিটুনি, গাড়ি ভাঙচুর করবেন না৷ আর সবার ট্রাফিক রুল সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার এবং সেটা মেনে চলা দরকার। মোবাইল ফোন কানে দিয়ে সড়ক পার, রেল লাইনে চলাচল বন্ধ করতে হবে। সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে৷

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে সারাদেশের জাতীয় মহাসড়কে ২০১০ থেকে ২০১২ সালে ২০৯টি ব্ল্যাকস্পট (দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান) চিহ্নিত করা হয়েছে। তাতে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে আরও ২৫২টি ব্ল্যাকস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৭২টির প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৮০টি ব্ল্যাকস্পটেও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ দৌড়ে রাস্তা পার হবেন না। রাস্তা পারাপারেই কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সব জায়গায় ফুট ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস করা আছে। সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের বলব, রাস্তায় চলাচলে ট্রাফিক রুল মানতে হবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাফিক রুলটা শেখাতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, স্কুলে যাতায়াতে নিরাপদে রাস্তা পারাপারে ট্রাফিক পুলিশ সহায়তা করবে, তবে স্কুল কর্তৃপক্ষেরও লোক রাখতে হবে। অনেক সময় বাচ্চারা অন্যদের মানতে চায় না। স্কুল কর্তৃপক্ষের লোক থাকলে ঠিকই মানবে। প্রত্যেকটা স্কুলকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেবে, যাতে তাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারে উদ্যোগ নেয়।

গাড়ির চালক ও হেলপারদের উদ্দেশ্যে সরকার প্রধান বলেন, আমি জানি অনেক সময় ড্রাইভাররা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঝিমিয়ে পড়ে। সেজন্য মহাসড়কের পাশে চালক ও যাত্রীর জন্য বিশ্রামের ব্যবস্থা নিচ্ছি। সুনির্দিষ্ট দূরত্বে একটি করে বিশ্রামাগার থাকবে। পাশাপাশি চালকদের ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা করছি। গাড়ি বাড়ছে, চালক বাড়ছে না। সেজন্য সব উপজেলায় চালকদের ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। তাহলে এ সংকট কিছুটা কমবে। ড্রাইভার ক্লান্ত হলে গাড়ি থামাবেন, রেস্ট নেবেন। কিন্তু হেলপার দিয়ে চালানো ঠিক নয়, এটা অন্যায় কাজ।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, করোনা নতুনভাবে হানা দিয়েছে। সবাই নিয়ম মেনে চলবেন। মাস্ক পরবেন। সবকিছু স্বাভাবিক চলুক আমরা চাই। উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ করছি। ফলে আমরা দ্রুত এগিয়ে যাব। ২২ সালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আছে আমরা সেগুলো উদ্বোধন করব। দেশের মানুষের জন্য গত ১৩ বছরে আমরা অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়ন করেছি। এটি আমাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতায় নবনির্মিত প্রকল্প চারটি হলো- ঢাকা এয়ারপোর্ট মহাসড়কে শহিদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন পথচারী আন্ডারপাস, সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক ৪ মহাসড়ক, বালুখালী (কক্সবাজার)-ঘুনধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগসড়ক এবং রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর চেংগী নদীর উপর ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতু।

প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং চিফ মেজর জেনারেল ইবনে ফজল শায়েকুজ্জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। প্রকল্পের স্পট থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরাও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

বিডিজা৩৬৫

Check Also

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছোট-বড় সব ঋণে ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৫% মরাটরিয়াম সুবিধা দিয়েছে

জার্নাল ডেস্ক : বৃহৎ শিল্প, এসএমই, কৃষি ঋণসহ সকল ধরনের ছোট বড় ঋণে পরিশোধিত ঋণের …

অ্যাকাউন্টের তথ্য সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার

তথ্য ও প্রযুক্ত ডেস্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানাসহ অন্যান্য বিষয় কে বা কারা দেখতে …