১৫ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

করোনাভাইরাসে কারণে সাধারণ ছুটি আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । এ বিষয়ে দুই এক দিনের মধ্যে কেবিনেট থেকে জানানো হবে।

সোমবার বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ছুটি ঘোষণা দিয়েছি, ৫ মে পর্যন্ত ঘোষণা ছিল, সেটাকে আমরা ১৫ মে পর্যন্ত বাড়াতে চাচ্ছি।

এসময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের যারা সেবা দিচ্ছেন তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন বিভিন্ন ভাবে তাদের এই প্রণোদনা দেওয়া হবে।

ঈদের আগে শপিংমল খোলা নিয়ে দেশ প্রধান বলেন, ঈদের আগে যেন সবাই কেনাকাটা করতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখছি। যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাই কেনাকাটা করতে পারেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে যাদের আয় উপার্জনের পথ নাই তাদের জন্য কিছু আর্থিক সহায়তা আমরা ঈদের আগে দিতে চাই। যাতে ঈদের সময় বা রোজায় কিছু করতে পারেন।

তিনি বলেন, অফিস-আদালত সীমিত আকারে চালু করে দিচ্ছি, যাতে মানুষের কোনো কষ্ট না হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়বে। যেখানে এটাকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশেও একটা প্রভাব পড়বে। আমাদের দেশকেও মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, যারা ধনী দেশ, অগাধ সম্পদ তারাও করোনাভাইরাসের কাছে ব্যর্থ। একটা শক্তিশালী ভাইরাসের কাছে কোনো কিছুই কাজে লাগছে না। ধন-সম্পদ অর্থ কোনো কিছুই কাজে লাগছে না। ধনী-গরিব সবাই একাকার হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের দেশের মানুষের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেকে বাঁচাতে সব সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। রমজান মাসে যেন কেনাকাটা করতে পারে এজন্য দোকানপাট খোলা ও চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিটি জেলায় ছোট খাট শিল্প চালু রাখাসহ মানুষকে সুরক্ষিত রেখে অর্থনীতিকে চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা দেশবাসীকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জা‌নিয়েছেন। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এবার একটু ভিন্নভাবে পালন হচ্ছে। কেন এভাবে পালিত হচ্ছে তা আপনারা সবাই জানেন। করোনাভাইরাস আমাদের মাঝে মহাবিপর্যয় হিসেবে এসেছে।

তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে আপনারা আমার শহীদ বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করবেন। এছাড়া আমি দেশবাসীকে আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত জেলাগুলো হলো- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর এবং গাইবান্ধা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করছেন।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস, ত্রাণ বিতরণ ও বোরো ধানের অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসক, মেডিকেল সার্জন, পুলিশ কর্মকর্তা, সেনা সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মসজিদের ইমাম, নার্স, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ছয় দফা পৃথক ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৫৬টি জেলার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সংকট উত্তোরণের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজেরও ঘোষণা দেন।

 

Check Also

আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

জার্নাল ডেস্ক : বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও স্বাধীনতাপদক প্রাপ্ত লেখক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে …

মালয়েশিয়ার যাত্রায় সেন্টমার্ন্টিনে ৩৩ রোহিঙ্গা আটক

জার্নাল ডেস্ক : সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের বঙ্গোপসাগরে শিশুসহ ৩৩ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ …