২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৭, শনাক্ত ৩৪৬২

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

করোনাভাইরাসে দেশে নুতন করে আরও ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৪৬২ জন। বুধবার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

নতুন যুক্ত একটিসহ ৬৬টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ হাজার ২৪৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৬ হাজার ৪৩৩টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৬ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও ৩ হাজার ৪৬২ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৩৭ জন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মারা গেলেন ১ হাজার ৫৮২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৩১ জন জন। সব মিলিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা এখন ৪৯ হাজার ৬৬৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ০৭ শতাংশ, তবে শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৯ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৩৭ জনের মধ্যে ২৮ পুরুষ এবং ৯ জন নারী। এর মধ্যে ১১ থেকে ২০ এর মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের দুজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের দুজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন এবং ৭১ থেকে ৮০ বছরের বয়সসীমার ৮ জন রয়েছেন।

এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন, চট্টগ্রামের ৯ জন, খুলনা ৭ জন, রাজশাহী ৬ জন, ময়মনসিংহে ৩ জন এবং বরিশাল ও রংপুর বিভাগে একজন করে ‍মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৪ জন এবং বাসায় থেকে মারা গেছেন ৩ জন।

বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত চার মাসে বিশ্বের ২১৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

Share.

About Author

Comments are closed.