৭৩তম জন্মদিনে কারাগারেই থাকছেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

১৫ আগস্ট বুধবার ৭৪-এ পা দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নিজের ৭৩তম জন্মদিন কাটবে তার পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে। জন্মদিন উপলক্ষ্যে তার দল বিএনপির উদ্যোগে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ও গুলশানের চেয়ারপারসন কার্যালয়ে পালিত হবে দোয়া-মাহফিল কর্মসূচি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানিয়েছেন, এবার ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার কারামুক্তি ও রোগমুক্তি কামনায় সারাদেশে পূর্বঘোষিত মিলাদ মাহফিল পালিত হবে। সকাল ১১টায় নয়া পল্টনে মিলাদ মাহফিল হবে।

চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কোরান পড়া, দরুদ পাঠ ও মোনাজাত করা হবে খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু কামনায়। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সিনিয়র নেতারা অংশ নেবেন।
এদিকে, খালেদা জিয়ার জন্মদিনের প্রাক্কালে দেশে এসেছেন তার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। সোমবার (১৩ আগস্ট) রাতে একটি ফ্লাইটে তিনি দেশে ফেরেন। পরে তিনি বনানীতে তার এক আত্মীয়ের বাসায় যান। ধারণা করা হচ্ছে, জন্মদিন উপলক্ষ্যে শর্মিলা রহমান কারাগারে দেখতে যাবেন শাশুড়িকে। তবে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি। সেদিন তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন। এরপর থেকে দলের হাল ধরেন। আশির দশকের শেষ দিকে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালে সাধারণ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সংসদে যোগ দেয় এবং সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। এরপর আবারও বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে রাজপথে ও সংসদে ভূমিকা রাখেন।
১৯৯৯ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন হয় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে তার দল বিএনপি ও চারদলীয় জোট নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে। পরে ২০০৬ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি হলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন তিনি ও তার জোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার দল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন বয়কট করে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে আছেন। ওইদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পান তিনি। এরপর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও অন্যান্য মামলায় খালেদা জিয়া গ্রেফতার রয়েছেন। এ কারণে তিনি মুক্ত হতে পারছেন না।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৫ই আগস্ট, ২০১৮ ইং ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …