‘টাকা বন্ডের’ অর্থ সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করা যাবে

0

বিডিজার্নাল অর্থনীতি প্রতিনিধি :

বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) প্রস্তাবিত ‘টাকা বন্ডের’ অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ বন্ডের অর্থ এনে ব্যাংকে এফডিআরের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চাইলে প্রাথমিকভাবে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করা যাবে।

জানা গেছে, মোট ১০০ কোটি ডলারের ‘টাকা বন্ড’ ছাড়ার সব প্রক্রিয়া শেষে এখন আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায় আইএফসি। সংস্থাটি বিদেশে এ বন্ড বিক্রি করে পাওয়া অর্থ বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর ও সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এক চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছে, কোনোভাবেই এ অর্থ এফডিআর করা যাবে না। এর কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এ ধরনের বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়াদি আমানতে তা বিনিয়োগ করা হলে প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। তাদের মতে, এ বন্ডের অর্থ ডলারেই রি-পেমেন্ট করতে হবে। ফলে এখানে মেয়াদি আমানতের সুযোগ দেওয়া হলে ৮ থেকে ১০ শতাংশ সুদ দিতে হবে। তারা বলেন, বর্তমানে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা সাড়ে ৪ থেকে ৬ শতাংশ সুদে বিদেশি ঋণ পাচ্ছেন। তাছাড়া বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে প্রচুর তারল্য রয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ২৭০০ কোটি ডলারের বেশি। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার জন্য বাড়তি চাপ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন এ মুহূর্তে নেই। তবে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ হলে তা সরাসরি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে আইএফসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে এক বৈঠকে ‘টাকা বন্ড’ ছাড়ার প্রস্তাব দেন। অর্থমন্ত্রীর প্রাথমিক সম্মতির পর সরকার ৪ অক্টোবর এ বন্ড ছাড়ার অনুমোদন দেয়। তবে কাঠামোগত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়।
এরপর বাংলাদেশ ব্যাংককে লেখা এক চিঠিতে আইএফসি ১০০ কোটি ডলার সমমূল্যের ‘টাকা বন্ডের’ অর্থ এনে দেশের ব্যাংকগুলোতে মেয়াদি আমানত (এফডিআর) ও সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করার কথা জানায়। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের ভালো কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে সেখানেও অর্থ খাটানোর কথা উল্লেখ করে। এ চিঠির জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বন্ডের অর্থে সড়ক, ফ্লাইওভার, ব্রিজসহ অবকাঠামো নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট প্রকল্পে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয়। এতে বিদেশি এ অর্থ প্রকৃত বিনিয়োগে এসে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে প্রাথমিকভাবে এ অর্থ সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, মূলত বেসরকারি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে টাকাকে ব্রান্ডিং করতে আইএফসির ‘টাকা বন্ড’ ছাড়ার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘এ’ রেটেড প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সহজে সেখানে বিনিয়োগে আসবে বলে ধারণা করছে সরকার। এর মাধ্যমে টাকা আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত হবে।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ// ১২ নভেম্বর২০১৫।

Share.

About Author

Leave A Reply