ছিটমহল থেকে র‌্যাম্পে পথচলা স্বরলিপি’র

0

লালমনিরহাটের তিন বিঘা করিডোরের ছোট্ট এক ছিটমহল। চারপাশে প্রতিবেশী দেশ ভারতের লোকজন, মাঝখানে বাংলাদেশের কিছু লোকের বাস সেই ছিটমহলে। সেই ছোট ছিটমহলেই জন্ম স্বরলিপি রায়ের। প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা স্বরলিপি স্বপ্ন দেখতেন একদিন আকাশ ছোঁবেন। কিন্তু কিভাবে? উত্তরটাও পেয়ে যান কৈশোর বয়সে। র‌্যাম্প মডেলিং। টিভিতে দেশ-বিদেশের নামকরা মডেলদের র‌্যাম্প শো দেখে শুধু অভিভূতই হতেন না, কিশোরী স্বরলিপির চোখে ভেসে উঠত তিনিও একদিন র‌্যাম্প মডেলিং করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মঞ্চ। কিন্তু লালমনিরহাটের মত প্রত্যন্ত এক জেলায় থেকে কিভাবে এ স্বপ্ন পূরণ করবেন তিনি? র‌্যাম্প মডেলিংয়ের জন্য পরে থিতু হন মাতুলালয় চট্টগ্রামে। এখন তিনি চট্টগ্রামের একজন স্বনামধন্য র‌্যাম্প মডেল। চট্টগ্রামে বড় কোন শো হলেই ডাক আসে স্বরলিপির। সম্প্রতি স্বরলিপি তার মডেলিং, ব্যক্তিগত জীবন, ভালো লাগা-না লাগা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকমের সাথে। বিডিজার্নালের কার্যালয়ে স্বরলিপির সাক্ষাতকার নিয়েছেন পোর্টালের বার্তা প্রধান শেখ মেহেদী হাসান ও প্রধান প্রতিবেদক রুবেল দাশ। সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হল।

বিডিজার্নাল : র‌্যাম্প মডেলিংয়ে কিভাবে এলেন?

স্বরলিপি : ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশনের প্রতি আমার একটা আগ্রহ ছিল। টিভিতে কোন র‌্যাম্প শো দেখলে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতাম। মনের মধ্যে একটা স্বপ্ন পুষে রেখেছিলাম, একদিন র‌্যাম্প মডেল হব। তো ২০১৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরী্ক্ষা দিতে আসি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে টিকতে পারিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়। পরে মহসীন কলেজে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হই। সেখানে পরিচয় হয় বন্ধু তুষারের সাথে। তুষার চট্টগ্রামের র‌্যাম্প মডেলদের নিয়ে গ্রুমিং করত। তুষারের মাধ্যমে পরিচয় হয় লিটন দাশ লিটুর সাথে। তিনি প্রমোট ফ্যাশন ও ডান্স একাডেমির স্বত্তাধিকারী। পরে লিটু দা’র একাডেমিতে ভর্তি হয়ে যাই। সেই থেকে র‌্যাম্প মডেলের সাথেই আছি।

বিডিজার্নাল : এ পর্যন্ত কতটি শো করেছেন?

স্বরলিপি : এখন পর্যন্ত ২০টির বেশি শো করেছি। চট্টগ্রামের বাইরে কক্সবাজারেও অনেক শো করেছি।

বিডিজার্নাল : জীবনের প্রথম র‌্যাম্প শো কবে করেছিলেন?

স্বরলিপি : ২০১৫ সালের ৮ জুলাই নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে প্রথম র‌্যাম্প শো করেছিলাম।

বিডিজার্নাল : বাংলাদেশের মধ্যে কাদের র‌্যাম্প শো ভালো লাগে বা কাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হন?

স্বরলিপি : দেশের মধ্যে আজরা মাহমুদ, বিবি রাসেল এদের র‌্যাম্প শো ভালো লাগে। তাদের সাথে কাজ করতে পারলে ভালো লাগত।

বিডিজার্নাল : দেশের বাইরে কাউকে ভালো লাগে?

স্বরলিপি :  দেশের বাইরের র‌্যাম্প শো তেমন একটা দেখা হয় না। তাই পছন্দের তেমন কেউ নেই।

বিডিজার্নাল : র‌্যাম্প মডেলিংয়ে কি কাউকে অনুকরণ করেন বা বিশেষ কারো স্টাইল ভালো লাগে?

স্বরলিপি : না তেমন কেউ নেই। নিজের মত করেই করার চেষ্টা করি।

বিডিজার্নাল : র‌্যাম্প মডেলিংকেই কি পেশা হিসেবে নিতে চান?

স্বরলিপি : পেশা হিসেবে নেয়ার ইচ্ছে আছে। তবে চট্টগ্রামে র‌্যাম্প মডেলদের পারিশ্রমিক নিয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। অনেক সময় আমরা আমাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাই না। দেখা যায় যারা আয়োজকদের কাছ থেকে শো’র অর্ডার নেন তারা সিংহভাগ টাকা নিজেদের পকেটে ঢোকান। আর মডেলদের নামমাত্র পারিশ্রমিক দেন। এভাবে চলতে থাকলে র‌্যাম্প মডেলিংয়ে নতুনরা আসবে না। আমার কথা হল, মডেলদের মাধ্যমেই একটি পণ্য ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরেন উৎপাদনকারীরা। তাই একটি পণ্যের প্রসারে মডেলদের ভূমিকাও কম নয়। তাহলে আমাদের কেন ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত করা হবে?

বিডিজার্নাল : তাহলে আপনার কি মনে হয় দেশে র‌্যাম্প মডেলদের দুর্দিন চলছে?

স্বরলিপি : দুর্দিন চলছে তা বলা যাবে না। মডেলরা একত্রিত হয়ে এসব বিষয়গুলোর প্রতিবাদ করলে অবশ্যই একটি ভালো সমাধান আসবে। তখন আর সমস্যা হবে না।

বিডিজার্নাল : র‌্যাম্প মডেল নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

স্বরলিপি : বাংলাদেশের র‌্যাম্প মডেলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। আন্তর্জাতিক অঙ্গণে কাজ করতে চাই।

বিডিজার্নাল : আপনি কি মনে করেন চট্টগ্রামে থেকে সেটি সম্ভব?

স্বরলিপি : আসলে অসম্ভব কিছুই নেই। চেষ্টা করলে সবই সম্ভব। তবে সুযোগ পেলে অবশ্যই ঢাকায় গিয়ে র‌্যাম্প মডেলিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত পাঠ নিতে চাই।

বিডিজার্নাল : ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু বলুন।

স্বরলিপি : পরিবারে মা-বাবা আর ছোট ভাই আছেন। বাবা ধীরেন্দ্র রায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। মা গীতা রায় গৃহিনী। ছোট ভাই লাবণ্য রায় এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

বিডিজার্নাল : অবসর সময় কিভাবে কাটে?

স্বরলিপি : রান্না করতে ভালোবাসি। অবসর পেলে রান্না করি। এছাড়া বই পড়ার অভ্যাসও আছে।

বিডিজার্নাল : একাকীত্ব জীবনের অবসান কবে ঘটবে?

স্বরলিপি : এখনই তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। বয়সতো মাত্র ২৩ বছর। সামনে অনেক সময় পড়ে আছে। বিয়ের বিষয়টা পরিবারের উপর ছেড়ে দিয়েছি। আগামী পাঁচ বছরে বিয়ের কোন পরিকল্পনা নেই।

বিডিজার্নাল : ধন্যবাদ আপনাকে বিডিজার্নালকে সময় দেয়ার জন্য।

স্বরলিপি : আপনাদেরও ধন্যবাদ। বিডিজার্নালের উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করছি।

Share.

About Author

Leave A Reply