চলচ্চিত্রে প্ল্যা বেক করাই আমার স্বপ্ন : শাপলা

0

গানের পাখি চট্টগ্রামের মেয়ে শাপলা পাল চৌধুরী। গানই তার জীবন, গানই তার অস্তিত্ব। গানের মাঝেই কাটিয়ে দিতে চান সারা জীবন। সুরেলা কন্ঠের জাদুতে ইতিমধ্যেই জয় করেছেন দর্শক প্রিয়তা। চট্টগ্রামের গন্ডি ছাড়িয়ে দেশব্যাপী এখন শাপলার জনপ্রিয়তা। স্টেজ শো, টিভির লাইভ প্রোগ্রামের পাশাপাশি নিজের প্রথম একক অ্যালবামের কাজও সমান তালে চালিয়ে নিচ্ছেন মিষ্টি কন্ঠী এ শিল্পী। সম্প্রতি শাপলা তার  চট্টগ্রামের লাভলেইনস্থ আবেদীন কলোনীর বাসায় মুখোমুখি হন বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকমের।খোলামেলা কথা বলেন তার গান, ব্যক্তিগত জীবন, ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও নানা মিষ্টি-তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে। শাপলার সাক্ষাতকার নিয়েছেন পোর্টালের বার্তা প্রধান শেখ মেহেদী হাসান ও প্রধান প্রতিবেদক রুবেল দাশ। সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হল।

 বিডিজার্নাল : গানের শুরুটা কিভাবে হয়েছিল?

শাপলা : তিন বছর বয়স থেকেই আমার গানের চর্চা শুরু হয়। আমার মা রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতেন। তার কাছ থেকে গান শুনতে শুনতে আমারও গানের প্রতি এক ধরণের ভালোবাসা তৈরি হয়। তবে প্রথম দিকে শখের বশেই গানটা করতাম। হাতেখড়ি আমার মা’র কাছে হলেও পরে অগ্রণী সংঘ, আরজ সংগীত, শ্রদ্ধেয় রাখাল নন্দী, শ্রদ্ধেয় রাজেশ সাহা, শ্রদ্ধেয় আব্দুর রহিম স্যারের কাছে তালিম নিয়েছি। বর্তমানে শ্রদ্ধেয় সুরবন্ধু অশোক চোধুরি (চট্টগ্রাম) এবং শ্রদ্ধেয় সুজিত মোস্তফা (ঢাকা) স্যারের কাছে শিখছি। আসলে আমার বাবার ইচ্ছে ছিল আমি ডাক্তার হব। আমার খুব নাম-ডাক হবে। সবাই আমাকে চিনবে। কিন্তু ২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরার জন্য গানকেই পেশা হিসেবে বেছে নিই।

বিডিজার্নাল : তখন আপনার বয়স কত ছিল?

শাপলা : তখন সবে মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছি। একদিকে পড়ালেখা, অন্যদিকে পরিবার। আমার ভাইও তখন ছোট। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম গানের মাধ্যমেই নিজের সব স্বপ্ন পূরণ করব। তবে ভাবনাটা যত সহজ ছিল বাস্তবায়নটা তেমন সহজ ছিল না। আজকের অবস্থানে আসতে অনেক কষ্ট করতে হবে।   

বিডিজার্নাল : এ কষ্টের সময়ে সবচেয়ে বেশি পাশে কাকে পেয়েছিলেন ?

শাপলা : আমার মা এবং আমার স্বামী অরিজিৎ চৌধুরী। তাদের সহযোগিতা আর অনুপ্রেরণা না পেলে আজকের অবস্থানে আসতে পারতাম না। বিশেষ করে বাবার মৃত্যুর পর আমার মা অনেক কষ্ট করেছিলেন।13318575_1199748863371083_7

বিডিজার্নাল : এখন তো গান নিয়ে অনেক ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েকটি অ্যালবামেও কাজ করেছেন। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।

শাপলা : গত ভালোবাসা দিবসে কাজী নওরিন এর টিউনে “অজানা ভালোবাসা” এ্যালবামে দুইটা গান করেছি, এ্যালবামটি লেজার ভিশনের ব্যানারে বাজারে এসেছিল। সম্প্রতি হাসনাত তুষার এর কম্পোজিশনে “তুষার- দি মিক্স” এ্যালবামেও কাজ করেছি। আশা করছি এ্যালবামটি রোজার ঈদেই রিলিজ হবে। এছাড়া আমার করা ‘‘মনের সীমানায়” গানটি ইউটিউব এবং ফেসবুকে শ্রোতারা অনেক পছন্দ করেছে। বিভিন্ন প্রোগ্রামের পাশাপাশি নিজের একক অ্যালবামের কাজও এগিয়ে নিচ্ছি। তবে এ ব্যাপারে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাচ্ছি না। দুই বছর ধরে অ্যালবামটির কাজ করছি। আশা করছি শ্রোতাদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।

বিডিজার্নাল : গান নিয়ে আপনার কোন স্মরণীয় স্মৃতির কথা বলুন।

শাপলা : ২০০৭ সালে একটি প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম গান করতে । তখন মাত্রই স্টেজ শো শুরু করেছি। আমি নতুন দেখে আয়োজকরা ভয় পাচ্ছিলেন আমি ঠিকমত গাইতে পারব কিনা। আমাকে গান গাওয়ার জন্য স্টেজে উঠতেই দেয়া হচ্ছিল না। তখন বিরক্ত হয়ে আমার সহশিল্পীকে আমি বললাম, আমাকে একবার গাইতে দিন। যদি দর্শকদের কাছ থেকে নেতিবাচক কোন প্রতিক্রিয়া আসে আমি আর স্টেজে গানই গাইব না। এরপর যখন স্টেজে গাওয়া শুরু করলাম দর্শকদের তালি আর উল্লাসে আয়োজকরাও আশ্বস্ত হল। সেদিন থেকেই মনে হল হয়ত শিল্পী হিসেবে কিছু একটা করতে পারব। ওই দিনটি আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিডিজার্নাল : গান নিয়ে কোন কষ্টের স্মৃতি।

শাপলা : একবার সন্দীপ থেকে প্রোগ্রাম করে আসার সময় মনে হয়েছিল এই বুঝি ট্রলার টা ডুবে যাবে। খুব ভয় পেয়েছিলাম সেদিন।

বিডিজার্নাল : কোন শিল্পীদের গান শুনতে ভালো লাগে বা কাদের গান শুনে অনুপ্রেরণা পান?

শাপলা : দেশের মধ্যে সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, এন্ড্রু কিশোর, সুবীর নন্দী। দেশের বাইরে লতা মঙ্গেশকর, আসা ভোসলে, এ আর রহমান।

বিডিজার্নাল : কোন ধরণের গান গাইতে স্বাচ্ছন্যবোধ করেন বা ভালো লাগে?

শাপলা : নজরুল গীতির প্রতি আলাদা একটা টান আছে। এছাড়া আধুনিক গান করতেও ভালো লাগে। আর রাগ প্রধান গান শুনতে এবং করতে বেশি সাছন্দ বোধ করি।13293259_1199748646704438_1

বিডিজার্নাল : ছোটবেলা থেকে গান করছেন। এ পর্যন্ত তো অনেকগুলো পুরষ্কার পেয়েছেন। পাঠকদের এ বিষয়ে যদি বলতেন।

শাপলা : রাসেল সৃতি সংসদ পুরষ্কার, বঙ্গবন্ধু শিশু পুরস্কার, সিটি করপোরেশন পুরস্কার, নবীন মেলা, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন (নজরুল ও দেশের গান), ইত্যাদি। এছাড়া চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ ২০১৪ এ ১৫ তম স্থান এ ছিলাম।

বিডিজার্নাল : দেশের বাইরে কোথায় কোথায় গান করেছেন?

শাপলা : দেশের বাইরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারতে অনেকবার শো করেছি।

বিডিজার্নাল : ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু বলুন।

শাপলা : আমার জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯৮৮, চট্টগ্রাম। বাবা মৃত বিমল পাল, মা সঞ্জু পাল। এক ভাই, এক বোনের মধ্যে আমি বড়। ছোট ভাই রাসেল পাল। ২০০৪ সালে কুসুম কুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৬ সালে হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করি। পরে অর্থনীতি নিয়ে নাসিরাবাদ মহিলা কলেজ থেকে প্রথম বিভাগ পেয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করেছি ২০১৪ সালে।

বিডিজার্নাল : আপনার প্রিয় বিষষগুলো নিয়ে একটু বলুন। এই যেমন পোশাক, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি।

শাপলা : বাঙালি যে কোন খাবারই প্রিয়। ফুচকাও খুব মজা লাগে। প্রিয় পোশাক সেলয়ার কামিজ, শাড়ি, ফতুয়া। প্রিয় রঙ নীল, কালো। রান্না করতেও খুব ভালোবাসি। অবসর সময়ে বই পড়ি, গান শুনি।

বিডিজার্নাল : গান নিয়ে আপনার স্বপ্ন বা ভবিষ্যত পরিকল্পনা। গানের ভুবনে নিজেকে কেথায় দেখতে চান?

শাপলা : স্বপ্ন দেখতে কার না ভালো লাগে? সারাজীবন গান নিয়েই থাকতে চাই এবং প্লে ব্যাক করতে চাই। চলচ্চিত্রে প্লে ব্যাকই আমার স্বপ্ন। এছাড়া এমন কিছু গান করে যেতে চাই যেগুলো শ্রোতারা আজীবন মনে রাখবে। আমার গানই আমাকে দর্শকদের মাঝে আজীবন বাঁচিয়ে রাখবে।

বিডিজার্নাল : আপনার শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?

শাপলা : শ্রোতাদের জন্যই শিল্পীরা গান করেন। শ্রোতাদের একটা কথাই বলব, ভালো গান শুনুন, ভালো গানের কদর করুন।

বিডিজার্নাল : দর্শকরা কিভাবে আপনার গান শুনতে পাবে?

শাপলা : আমার গানগুলো ইউটিউবে ভক্তরা দেখতে পারবেন। ইউটিউব লিংক হল https://www.youtube.com/c/ShaplaPaul। এছাড়া ফেসবুকেও ভক্তরা আমাকে পাবেন আমার পেজে।  https://www.facebook.com/Shapla.Singer.Official

বিডিজার্নাল : ধন্যবাদ আপনাকে সময় দেয়ার জন্য।

শাপলা : বিডিজার্নালকেও ধন্যবাদ।

Share.

About Author

Comments are closed.