স্মরণিকায় ভুলের দায় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের: সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি উপাচার্য

0

বিডিজার্নাল প্রতিনিধি :

ঢাকা বিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নানা ধরনের ভুল-ত্রুটি হয়েছে। তবে স্মরণিকায় একটি মারাত্মক ভুল হয়েছে। এর জন্য ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকেই দায় নিতে হবে।’
এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের স্মরণিকায় জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ উল্লেখ করার জের ধরে শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ-ভাঙচুরের পর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পদত্যাগের দাবির মধ্যেই বিকেলে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান উপাচার্য।
স্মরণিকায় ‘ইতিহাস বিকৃতির’ জন্য ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও নিবন্ধের লেখক সৈয়দ রেজাউর রহমানকে দায়ী করেন ঢাবি উপাচার্য। তিনি লেন, ‘যার নামে প্রকাশনা, দায় প্রাথমিকভাবে তার। পরে আরও বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে, সেটা ইচ্ছাকৃত, না অনিচ্ছাকৃত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মরণিকায় ‘স্মৃতি অম্লান’ শিরোনামের নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।’
স্মরণিকার একটি নিবন্ধে ‘মারাত্মক ভুল ছিল’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য আরও বলেন, ‘এটা বাইলাইন পাবলিকেশন ছিল। তাই লেখকের ওপরই দায় বর্তাবে।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও নিবন্ধের লেখক সৈয়দ রেজাউর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের স্মরণিকা প্রকাশের দায়িত্বেও ছিলেন।
‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও মানবিক চেতনা বিকাশে উচ্চশিক্ষা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টায় প্রশাসনিক ভবন-সংলগ্ন মলে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোর পতাকা উত্তোলন, পায়রা ওড়ানো এবং উদ্বোধনী সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিবসের কর্মসূচি।
এরপর শোভাযাত্রা শেষে টিএসসি মিলনায়তনে শুরু হয় আলোচনা সভা। এ সময় স্মরণিকায় জিয়াউর রহমানেক বাংলাদেশের ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ উল্লেখ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা। এতে অনুষ্ঠানে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধরা ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
উপাচার্যের উপস্থিতিতে ওই সভার সঞ্চালনায় ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। পরে তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এ সময় উপাচার্য ওই স্মরণিকা বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে বাতিল ঘোষণা করেন স্মরণিকা কমিটিও।
পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলা ৩টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগকর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে তার গাড়ি ভাঙচুর করেন। এসময় গাড়ির ভেতরে থাকলেও উপাচার্য কোনো আঘাত পাননি। পরে বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রলীগকর্মীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করেন।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ //  ১ জুলাই ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.