গুলশানে নিহত এসি রবিউলের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

0

বিডিজার্নাল মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :

ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিদের গুলি ও গ্রেনেড হামলায় নিহত মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম এলাকায় চলছে শোকের মাতম। শুক্রবার রাতে তিনি নিহত হওয়ার খবর পেয়ে প্রবীণ মা ও স্বজনের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

রবিউলের মামাতো ভাই রুবেল হোসেন ও স্বজনরা সংক্ষিপ্ত জীবনীতে জানান, মৃত আবদুল মালেক ও করিমন নেছার ছেলে রবিউল। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় তিনি। কাটিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাটিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন রবিউল। এরপর ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর আতাউর রহমান খান ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেন অনার্স মাস্টার্স। ২০০৮ সালে ধামরাই উপজেলার ডাউটিয়া এলাকার সালমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের কোল জুড়ে আসে সামিউর ইসলাম (৬)। রবিউল ২০১১ সালে গ্রামেই প্রতিষ্ঠা করেন  একটি প্রতিবন্ধী স্কুল। পরে ইতালি চলে যান তিনি। সেখান থেকে এসে বিসিএসের ৩০তম ব্যাচে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১২ সালের জুন মাসে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন রবিউল। স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন কোয়ার্টারে থাকতেন তিনি। আর সাত মাসের আরেক অনাগত সন্তান গর্ভে রেখেই আত্মত্যাগ করলেন পুলিশের এই কমিশনার।

সকালে রবিউলের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, ছেলে হারিয়ে প্রবীণ মা বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন ঢাকায় লাশের কাছে গেছেন। আহাজরি করছেন স্বজনরা। প্রতিবেশী, আতœীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী আসছেন সেখানে। কেউ কাউকে শান্তনা দেয়ার ভাষা পাচ্ছেন না। সকলের চোখেই পানি।

দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিকাল চারটায় ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে রবিউলের প্রথম জানাযা দেয়া হবে। এরপর মানিকগঞ্জের বাড়ি আনা হবে লাশ। বাড়িতেই তাকে দাফন করার কথা রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ //  ২ জুলাই ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.