শালীনতা বজায় রেখে উদযাপন করা হোক থার্টি ফাস্ট নাইট

0

বিশেষ প্রতিনিধি :

বছর ঘুরে আবারো সামনে ৩১ ডিসেম্বর। সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও ডিসেম্বরের শেষ দিনটি  পালন করা হয় থার্টি ফাস্ট নাইট হিসেবে। কেউবা বন্ধু বান্ধবের সাথে আবার কেউ পরিবারের সাথে পালন করে থার্টি ফাস্ট নাইট। বাসার ছাদ কিংবা খোলা স্থানে টিনেজার ও তরুণ-তরুণীরা আয়োজন করে অনুষ্ঠানের। হই-হুল্লোড় করে তারা পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। এক সময় ঢাকায় ৯০ দশকে শুরু হয় থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন। এখন মোটামুটি সারা দেশেই পালিত হয়। তবে এনিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি আছে। ইউরোপীয় এই সংস্কৃতি অনেকেই এখনো মেনে নিতে পারেননি।  তা সত্ত্বেও দেশের সব বড় শহরের পাশাপাশি মফস্বল শহরগুলোতেও পালিত হয় থার্টি ফাস্ট নাইট। অনেক পরিবারও স্বানন্দে একে মেনে নিয়েছে। অনেকে পারিবারিকভাবেও পালন করে। ব্যতিক্রম নয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বন্দরনগরী চট্টগ্রামও। চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানেও উদযাপিত হয় থার্টি ফাস্ট নাইট। থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করা এবং না করা নিয়ে চট্টগ্রামবাসীরও আছে নানা যুক্তি। এ বিষয়ে জানতে বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম কথা বলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে। তাদের অধিকাংশের মতে বাংলাদেশের যে সামাজিক প্রেক্ষাপট তাতে আলাদা করে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের তেমন কোন দরকার নেই। কারণ আমরা বাঙালি হিসেবে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছি। আর যদি ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করতেই হয় তাহলে একটি মাত্রার ভেতর থেকে করা উচিত। থার্টি ফাস্ট উদযাপনের নামে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম যেন না হয় সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখা উচিত। আবার অনেকে বলছেন প্রযুক্তির কল্যাণে পুরো বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। তাই বৈশ্বিক সংস্কৃতির সাথে যুক্ত হতে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করতে কোন বাধা নেই। তবে তা অবশ্যই শালীনতা বজায় রেখে করতে হবে এবং আশপাশের মানুষের যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।dsc01635

থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনায়েতবাজার মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ শাহীন ফেরদৌসী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনদিন থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করিনি। কারণ আমরা যেহেতু পহেলা বৈশাখ পালন করছি সেক্ষেত্রে আলাদাভাবে ইংরেজি বর্ষ উদযাপন করার কোন মানে দেখিনা। তবে কেউ যদি উদযাপন করতে চায় করতে পারে। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলি, আমার মেয়ে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। সেখানে ‍খুব জাঁকজমকভাবেই নববর্ষ উদযাপন করা হয়। কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করা হয় না। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু বিত্তবানের সন্তানেরা সারারাত ড্রিংকস করে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করে। যেটা আমাদের সংস্কৃতির সাথে মানানসই নয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ডিজে পার্টির নামে অশ্লীলতা দেখা যায়। এগুলো পরিহার করে যদি থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করা যায় তাহলে ভালো হয়।dsc01633

তবে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক পূর্বকোণের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি পলাশ দে মনে করেন থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনের মাধ্যমে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সাথে দেশের তরুণদের একটি মেলবন্ধন তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনের মাধ্যমে আমাদের টিনেজার ও তরুণরা পাশ্চাত্য সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে। এটি দোষের কিছু নয়। আর আমাদের দেশের সব কিছুই যেহেতু ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চলছে সে হিসেবে ইংরেজি বর্ষকে আমরা উদযাপন করে বরণ করতেই পারি। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ত ঘটে বিভিন্ন স্থানে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তবে এ ঘটনাগুলোও এড়ানো যায়।

আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের বিজনেস ডেভলপমেন্ট অফিসার মিঠু দাশ বলেন, থার্টি ফাস্ট নাইট যেহেতু একটি পাশ্চাত্য সংস্কৃতি তাই আমাদের দেশে এসব উদযাপন কোনভাবেই কাম্য নয়। কারণ আমাদের একটি নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে এবং বাংলা নববর্ষকে আমরা অনেক আয়োজন করে পালন করি। তাই থার্টি ফাস্ট নাইটকে একটি অপসংস্কৃতির রূপ বলেই মনে করি।

এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী রুবি আক্তার বলেন, ইসলামী শরীয়াহমতে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনকে ভালো চোখে দেখা হয় না। এছাড়া আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির সাথেও এটি যায় না। আমার পরিবার থেকেও কখনো থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করা হয়নি।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার বলেন, আমরা যদি পাশ্চাত্য পোশাক পড়তে পারি, আন্তর্জাতিক সময় মেনে চলতে পারি তাহলে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে বাধা কোথায়? তাই প্রতিবছরই আমি এ দিনটি বন্ধু-বান্ধবের সাথে পালন করি। এছাড়া বাসায়ও ভালো খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হয়।dsc01637

চট্টগ্রাম কলেজের মনোবিজ্ঞানের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী টিনা বড়ুয়া বলেন, বাংলা নববর্ষের মতই ইংরেজি পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করতে আমরা বন্ধু-বান্ধবরা মিলে অনেক মজা করি। প্রতিবছরই আমরা বন্ধু-বান্ধবরা মিলে বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানানোর জন্য পতেঙ্গা সী-বিচে যাই। তারপর নেভালে সন্ধ্যায় বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিয়ে  রাত ১২টা ১ মিনিটে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে ঘরে ফিরে আসি।

আরডি//এসএমএইচ// ৩০ ডিসেম্বর/ ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.