নওগাঁয় পাওনা টাকা নিতে গিয়ে যুবক নিখোঁজ

0

নওগাঁ প্রতিনিধি:

পাওনা টাকা নিতে গিয়ে ৫দিন থেকে নিখোঁজ রয়েছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আব্দুর রশিদ (৩৫) নামে এক যুবক। নিখোঁজের পরিবারের পক্ষ থেকে আব্দুর রশিদের বন্ধু মিঠুকে অভিযুক্ত করে বদলগাছী থানায় সাধারন ডায়রি এবং নওগাঁ সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিঠুকে শুক্রবার বিকেলে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ আটক করে। তবে মামলা না নিয়ে রহস্যজনক ভাবে মিঠুকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। মিঠু নওগাঁ সদর উপজেলার আরজি নওগাঁ মহল্লার বাসীন্দা এবং নিখোঁজ আব্দুর রশিদ বদলগাছী উপজেলার লক্ষিপুর গ্রামে মৃত মোসলেম উদ্দীনের ছেলে।

জানা যায়, আব্দুর রশিদ ও মিঠু পরস্পর বন্ধু। এ সুবাদে আব্দুর রশিদ তার ট্রাক্টর এক বছরের জন্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বন্ধু মিঠুকে ভাড়ায় দেয়। মিঠু এ পর্যন্ত ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। বাকী টাকার জন্য মিঠুকে বার বার তাগাদা দিতে থাকে আব্দুর রশিদ। মিঠু টাকা দিচ্ছি দেব বলে সময় পার করতে থাকে। গত পহেলা আগষ্ট বিকেলে আব্দুর রশিদকে টাকা দেয়ার নাম করে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় মিঠু। ট্রাক্টরটি দিনাজপুর জেলায় আছে বলে মিঠু তার সঙ্গে আব্দুর রশিদকে যেতে বলে। বিকেলে দিনাজপুর যাওয়ার উদ্যেশে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নওগাঁয় শহরে আসে আব্দুর রশিদ। আব্দুর রশিদকে স্ত্রী নাসরীন বেগম সন্ধ্যার দিকে মোবাইলে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকেই আব্দুর রশিদ নিখোঁজ রয়েছে।

বন্ধু মিঠুর বলেন, ওই দিন বিকেলে রশিদ পাওনা টাকা নিতে এসেছিল। তাকে চার হাজার টাকা দিয়েছি। তবে সে দৌলদীয়া ঘাট যাবে বলে জানায়। এছাড়া সে আমার কাছে ট্রাক্টরটি বিক্রি করেছে।

নিখোঁজ আব্দুর রশিদের স্ত্রী নাসরিন বেগম বলেন, আমার স্বামী ট্রাক্টর বিক্রি করেনি। নিখোঁজের ঘটনার সাথে মিঠুই জড়িত। এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানায় সাধারন ডায়েরি করতে যায়। থানা থেকে বলা হয় বদলগাছী থানায় ডায়রি করতে। তবে সদর থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে মিঠুকে আটক করে সদর থানা পুলিশ। আবার রহস্যজনক কারণে রাতেই থানা থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু মামলা করতে চাইলেও থানায় মামলা নেয়া হয়নি।

আব্দুর রশিদের প্রতিবেশী ও জেলা পরিষদের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, মিঠুর কথা অসামজঞ্জ্য ছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিঠুকে আটক করা হলেও পুলিশ মামলা না দিয়ে রশিদকে খোঁজার জন্য সময় নিয়ে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ঘটনাটি যেহেতু নওগাঁতে ঘটেছে সেহেতু নওগাঁ সদর থানায় বিষয়টি দেখবে। তবে আমরা সাধারন ডায়রি নিয়েছি। তবে আব্দুর রশিদের মোবাইল নাম্বার ট্যাকিং করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিঠুকে আটক করা হয়েছিল। তবে আব্দুর রশিদকে উদ্ধারের জন্য সাত দিনের সময় নিয়ে মিঠুকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। এসময়ে মধ্যে তাকে পাওয়া না গেলে বদলগাছী থানায় মামলা হবে। মামলার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আবার আব্দুর রশিদ তার বন্ধু মিঠুকে বিপদে ফেলার জন্য আত্মগোপন করে থাকতে পারে। তবে এটি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।

সাব্বির//এসএমএইচ //  শুক্রবার, ৫ আগস্ট ২০১৭

Share.

About Author

Comments are closed.