রহস্যের ঘোরটুপে চট্টগ্রামে আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যাকান্ড : উদ্ধার হয়নি সিএনজি

0

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের আলোচিত স্কুল ছাত্রী তাসফিয়া আমিন হত্যাকান্ডের কোন কুল কিনার হচ্ছেনা। পুলিশ খূঁজে পাচ্ছেনা তার মৃত্যূ রহস্য। ঘটনার ৭ দিন পার হলেও নগরের আলোচিত এ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনে তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে গ্রেফতার ছাড়া মামলার আর কোন অগ্রগতি নেই। যদিও পুলিশ বলছে, হত্যাকান্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশ ওই দিন তাসফিয়াকে বহনকারী সিএনজি অটোরিক্সাটি সনাক্ত করা হয়েছে দাবী করলেও এখনো গাড়িটি আটক কিংবা চালকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অধরা রয়ে গেল অপরাপর খুনীরা। তা ছাড়া গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী আদনান কাছ থেকেও এ পর্যন্ত কোন ক্লু বাহির করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে তাসফিয়া কি পরিকল্পিত খুনের শিকার হয়েছেন নাকি রক্তে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে মারা গেছে এর মূল কারণ জানতে তাসফিয়ার ‘ভিসেরা রিপোর্ট’ ঢাকার মহাখালী ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, স্কুলছাত্রী তাসফিয়াকে খুন করা হয়েছে নাকি রক্তে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যূ হয়েছে। এসব বিষয় জানতে ঢাকার মহাখালী ল্যাবরেটরিতে তাসফিয়ার ভিসেরা রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট পেলে হত্যার মূল কারণ জানা যাবে। এছাড়াও মৃত্যূ রহস্য উদঘাটনে আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ক্লু উদঘাটনে একাধিক ইস্যু নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগুচ্ছি।
তিনি জানান আদনান মির্জাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার প্রধান আসামী কথিত প্রেমিক আদনান মির্জাকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে সংশোধনী কারাগারের পরিচালকের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করে ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্যও পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। গত রোববার এ আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগরের অতিরিক্ত দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী।
গত ২ মে সকালে স্থানীয়দের খবরে পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ব্রিজঘাট পাথরের ওপর থেকে সানসাইন স্কুলের (ন্যাশনাল কারিকুলাম) নবম শ্রেণীর ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। তাসফিয়ার লাশ উদ্ধারের পর ওইদিন সন্ধ্যায় নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে আটক করে। আটক আদনান মির্জা বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ব্যবসায়ী ইস্কান্দার মির্জার ছেলে।
এ ঘটনায় পরদিন তাসফিয়ার বাবা বাদী হয়ে আটক আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে পতেঙ্গা থানায় ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে আলোচিত এ ‘হত্যাকান্ডের’ সাত দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এজাহারভৃক্ত অপরাপর আসামীসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। তাসফিয়ার বাবা সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন বলছেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে এবং এখন তা ধামাচাপা দেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
মোহাম্মদ আমিন বলেন, এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের হত্যাকান্ড বিষয়ে পুলিশ কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে পারেনি। পুলিশ তদন্তে আমাদের কাছে যা জানতে চেয়েছে, তার সব রকম সহযোগিতা আমরা করছি। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে যখন তাসফিয়াকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তখন থানায় জিডি করতে গেলে তার ছেলে বন্ধু আদনানের কথিত বড়ভাই ফিরোজসহ কয়েকজন মেয়েকে ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তা করতে দেননি। এ সময় আদনানের সাথে থাকা ফিরোজ আমাদের আধা ঘণ্টার মধ্যে তাসফিয়াকে ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জিডি করতে নিষেধ করে। তদন্তে পুলিশের আরও সক্রিয়তা এবং আদনানের সহযোগীদের আইনের আওয়তার আনার দাবি জানান তাসফিয়ার বাবা।
এ প্রসঙ্গে এডিসি (বন্দর) আরেফিন জুয়েল বলেন, আমরা আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। পাশাপাশি অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারেও অভিযান চলছে।
এদিকে ঘটনার দিন রাতে তাসফিয়া ও কথিত প্রেমিক আদনান একসাথে নগরীর গোল পাহাড়স্থ চায়না গ্রীল রেষ্টুরেন্ট থেকে বেয়। এসময় তাসফিয়া একটি সিএনজি অটো রিক্সায় উঠে। তার স্পষ্ট ভিটিও পোটেজ পুলিশ পরীক্ষা নীরিক্ষা করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে সেই সিএনজি ইতিমধ্যে সনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সনাক্তের দুইদিন পার হলেও সিএজিটি উদ্ধার কিংবা চালককে আটক করতে পুলিশের গাফেলতি দেখগেছে। শুধু তা নয় কথিত আটক আদনানের কাছ থেকে ঘটনার কোন ক্লু উদঘাটনে ও পুলিশের রহস্য জনক ভুমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।

 

সাইফুল//এসএমএইচ ৭ই মে, ২০১৮ ইং ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

 

Share.

About Author

Comments are closed.