কোটার কারণে সরকারি চাকরিতে অরাজকতা বিরাজ করছে: আনু মুহাম্মদ 

0

আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন,কোটার কারণে সরকারি চাকরিতে একধরনের অরাজকতা বিরাজ করছে। 

বুধবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ’ আয়োজিত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অভিভাবকদের সমাবেশে পুলিশী হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, “সরকার সহজেই এর সংস্কার না করে বরং জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দিয়েছেন তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর রাগের বহিঃপ্রকাশ করে। এই রাগের কারণেই পরবর্তীতে ছাত্রলীগ-পুলিশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ,ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহকে গ্রেফতার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফাহমিদুল হককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ মিছিলটি করা হয়।

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে নতুন কলা ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এসময়, “আন্দোলনে হামলা কেন?, শেখ হাসিনা জবাব দাও’; ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’; ‘হামলা করে আন্দোলন-বন্ধ করা যাবে না’; ‘আন্দোলনে হামলা, রুখে দাড়াও বাংলা’ প্রভৃতি  স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

ছাত্রফ্রন্ট জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক দিদারের সঞ্চালনায় সমাবেশে ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ’ এর আহ্বায়ক অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন এসময় বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি। নতুন প্রজন্ম অন্যায়ের প্রতিবাদ করছে। সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন প্রজন্ম সংগ্রাম করে যাচ্ছে।’ এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেও নতুন প্রজন্মের সাথে ভাওতাবাজির আশ্রয় নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ন্যায্যতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিভাজিত সমাজে কোটার প্রয়োজন হয়। তার মানে এই নয় সর্বক্ষেত্রে কোটা থাকতে হবে। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের কসম করে বলেন, যারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে মেধাবীদের সুযোগ না দিতে চায় তারাইতো মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধাচারণ করছেন।

এ সময় তিনি ছাত্রলীগকে তাদের নামের সাথে থাকা ‘ছাত্র’ শব্দটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে কারও পেটোয়া বাহিনী হয়ে কাজ না করে সাধারণ শিক্ষার্থীর কাতারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে সরকারকে দমন-নিপীড়ন বন্ধ করে কোটা সংস্কারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ছাড়াও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক আনোয়রুল্লাহ ভূঁইয়া, সহযোগী অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলি, সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন, সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিকজোট ও প্রগতিশীল জোটের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

সাব্বির// এসএমএইচ//৫ই জুলাই, ২০১৮ ইং ২১শে আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.