আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে প্রতিটি গ্রাম নগর হবে: প্রধানমন্ত্রী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন, আপনাদের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আগামী নির্বাচনে আপনারা যদি নৌকায় ভোট দেন তাহলে ক্ষমতায় আসবো। আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাবো। শনিবার পাবনা জেলার সরকারি পুলিশ লাইনস মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে চাইতে হবে না, আওয়ামী লীগ জানে মানুষের কিভাবে উন্নয়ন হবে। এই বছরের ডিসেম্বরেই ইলেকশন হবে। এই ডিসেম্বরের ইলেকশনে আপনারা যদি নৌকা মার্কায় ভোট দেন, আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে প্রতিটি গ্রামকে নগরের মতো উন্নয়ন করে দিবো। নগরের মতো সুবিধা পাবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আজকে আমি সব হারিয়েছি, শুধু আপনাদের জন্য কাজ করতে, মানুষের জন্য কাজ করতে। আমরা বাবা চাইতেন এই বাংলার মানুষ ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র মুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন কী না হাত তুলে দেখান। যে ওয়াদা আপনাদের কাছে করেছি, সে ওয়াদা আমরা নিশ্চয়ই পূরণ করবো। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশ, কারো কাছে ভিক্ষা করে চলবো না। জাতির পিতা বলেছিলো, সাড়ে সাত কোটি মানুষকে কেউ দাবায় রাখতে পারবা না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব। বাংলাদেশকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে নাই, দাবিয়ে রাখতে পারবে না। জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা দেশকে ধ্বংস করতে জানে, দেশকে কিছু দিতে জানে না। এতিমের টাকা, আপনারা জানেন এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার বিষয়ে কোরআন শরীফেও নিষেধ আছে। এতিমের টাকা এতিমকে দেয় নাই। নিজে আত্মসাৎ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আজকে জেল খাটছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষকে দিতে জানে। আর ওরা জানে খুন, হত্যা, ধর্ষণ। আমরা তো প্রতিশোধ নিতে যাইনি। আমরা প্রতিটা সময় কাজে লাগিয়েছি মানুষের উন্নয়নের জন্য।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যুব সমাজ, সকলেই তো আর চাকরি পাবে না। কর্মসংস্থান লাগবে। তার জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি। বিনা জামানতে ৩ লাখ টাকা ঋণ পাবে। এ জন্য কারো দাবি করতে হয় নাই। আওয়ামী লীগ জানে, জাতির পিতা এ দেশ স্বাধীন করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

অভিভাবক-শিক্ষা-আলেম-ওলামা ও সমাজের সচেতন মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান করে যাচ্ছি। আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই। সকলের কাছে আমার আবেদন থাকবে। মাদক একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ একটা দেশকে ধ্বংস করে দেয়। আপনারা লক্ষ্য রাখবেন আপনার ছেলে-মেয়েরা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে। কেউ যেন এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের দিকে না যায় সে দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আপনাদের সহযোগিতা চাই, আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনাদের সন্তানরা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে। আমাদের কাজ আমরা করবো।

পাবনাবাসীর উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমরা আপনাদের জন্য এতগুলো উপহার নিয়ে হাজির হয়েছি। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন, আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এই নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই উন্নয়ন হয়েছে। কারণ নৌকা দেয়। নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা মাতৃভাষার অধিকার পেয়েছি, নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সভাপতিত্বে জনসভার আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স। আলোচনা পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, পারভীন জামান কল্পনা প্রমুখ।

এর আগে বেলা ১২টা থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভা স্থলে আসতে থাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা ব্যানার-ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসেন জনসভা এলাকায়।

যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী: 

এদিন জেলার পুলিশ লাইন্স মাঠে জনসভার প্যান্ডেল থেকে প্রধানমন্ত্রী ৩১টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তা হল- ঈশ্বরদী থেকে মাঝগ্রাম হয়ে পাবনা পর্যন্ত রেলওয়ে সেকশনে ট্রেন চলাচল; পাবনা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস; ঈশ্বরদী থানা ভবন; জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স; সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ, আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া, ঈশ্বরদী উপজেলার পাক্শী, সলিমপুর, লক্ষীকুন্ডা, সাঁড়া, পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর এবং চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়ন ভ‚মি অফিস; ফরিদপুর উপজেলায় বড়াল নদীর উপর ‘নারায়ণপুর সেতু’; ভাঙ্গুড়া উপজেলায় গোমানী নদীর উপর ‘নৌবাড়িয়া সেতু’; ঈশ্বরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স; চাটমোহর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স; সিটি কলেজ, পাবনা এর একাডেমিক ভবন; দেবত্তোর ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়া এর একাডেমিক ভবন; খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়া এর একাডেমিক ভবন; চাটমোহর মহিলা কলেজ এর একাডেমিক ভবন; বোনকোলা স্কুল এন্ড কলেজ, সুজানগর এর একাডেমিক ভবন; সুজানগর মহিলা কলেজ এর একাডেমিক ভবন; শহীদ নুরুল হোসেন ডিগ্রী কলেজ, সাঁথিয়া এর একাডেমিক ভবন; ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ এর একাডেমিক ভবন; সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ এর প্রশাসনিক ভবন; ডেঙ্গারগ্রাম ডিগ্রী কলেজ, আটঘরিয়া এর একাডেমিক ভবন; আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; চাটমোহর উপজেলায় গোমানী নদীর উপর “নিমাইচড়া সেতু”; চাটমোহর উপজেলায় “কাটাখাল সেতু”; চাটমোহর উপজেলায় আত্রাই নদীর উপর “আত্রাই সেতু”; সুজানগর উপজেলায় “ধোলাইখাল সেতু”; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ভাঙ্গুড়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, চাটমোহর; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ফরিদপুর; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ঈশ্বরদী; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, আটঘরিয়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, সাঁথিয়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, সুজানগর, পাবনা।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন:

১৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তা হল- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সিগন্যালিং-সহ রেললাইন নির্মাণ; জেলা সদরে ১০০০ আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল; সুজানগর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র; আটঘরিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস ভবন; বেড়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস ভবন; সুজানগর উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস ভবন; জেলা রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; পুলিশ লাইনস মহিলা পুলিশ ব্যারাক ভবন; সুজানগর উপজেলায় সাগরকান্দি ইউনিয়ন ও আটঘরিয়া উপজেলায় হাদল ইউনিয়ন ভ‚মি অফিস; পাবনা মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল; জেলা শিল্পকলা একাডেমি; সাঁথিয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ; আদর্শ মহিলা কলেজ, পাবনা এর একাডেমিক ভবন; সাঁথিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; বেড়া পৌরসভায় উচ্চ জলাধার ও পানি শোধনাগার নির্মাণ; সাঁথিয়া পৌরসভায় উচ্চ জলাধার নির্মাণ; ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৪ই জুলাই, ২০১৮ ইং ৩০শে আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.