বৃষ্টিস্নাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

0

আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ছয়টি ঋতুতে বাংলাদেশের প্রকৃতি ছয়টি রুপে সাঁজে। ছয়টি ঋতুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পুরো বাহারি রুপ ধারন করে। এখানকার শিক্ষার্থীদের কাছে ছয়টি ঋতু ছয় রকম আর্শীবাদ নিয়ে আসে। একেক সময় ক্যাম্পাসের বৈচিত্র্য একেক রকম। বর্ষা ঋতু তার মধ্যে অন্যতম। ঋতুরাজ বসন্তের মতো বর্ষা ঋতুও শিক্ষার্থীদের কাছে এক আনন্দের মহামিলন রুপে দেখা দেয় ।

সবুজের মহাসমারোহে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপরুপ লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। বর্ষাকালের বৃষ্টিতে যার সৌন্দর্য্য আরও হাজার গুণে বেড়ে যায়। বর্ষার বৃষ্টিতে জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস এক মোহময় রূপ ধারণ করে। বৃষ্টিতে ক্যাম্পাসের চারিদিক যেন ভরে যায় নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে। বৃষ্টির কণার আলতো ছোঁয়া মনকে পুলকিত করে এক অন্য রকম অনুভূতি দেয়।

ক্যাম্পাসের লাল ভবনের ফাঁক দিয়ে চুঁয়ে পড়া বৃষ্টি যেন মন ছুঁয়ে যায়। বৃষ্টিতে লাল ইটের দালানগুলোকে লাগে অপরূপ। পুরো ক্যাম্পাসে আঁকা-বাঁকা উঁচু-নিচু পিচঢালা রাস্তাগুলোকে চকচকে আয়নার মত দেখায়। বৃষ্টির পানি আপন করে নেয় রাস্তার সমস্ত ধূলোবালি কণাকে। রাস্তার দু’ধারে ঘন গাছের সারি পাহাড়ি রাস্তার মত একবার উঁচু হওয়া আবার ঢালু হয়ে যাওয়া জাহাঙ্গীরনগরের প্রত্যেকটি রাস্তা বৃষ্টি দিনে অপরূপ সাজে সেঁজে থাকে।

সারা রাতের অবিরাম বর্ষণ শেষে ভোরবেলা ঘুম থেকে জেগে উঠতেই ঝিরঝির বৃষ্টি আর হালকা বাতাস যেন সারা দিনটাকেই পুলকিত করে দেয় এখানকার শিক্ষার্থীদের। কর্মব্যস্ত সারাদিন ক্লাস, পরীক্ষা, টিউটোরিয়াল, অ্যাসাইমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, সাক্ষাৎকারের মতো বিভিন্ন রকম ধরাবাধা একাডেমিক কাজ থেকে হাফ ছেড়ে বাচঁতে শিক্ষার্থীরা বোধহয় একটু বর্ষার দিনের অপেক্ষায় থাকে।

বৃষ্টি এসেছে তো ক্লাসে মন বসানো দায়। ক্লাস শেষ হতে না হতেই শিক্ষার্থীরা সহপাঠিদের সাথে রাস্থায়, বিভিন্ন চত্ত্বরে, শহীদ মিনারে ছুটে যায় বৃষ্টি উপভোগ করতে। অনেকে জানালার পাশে হাত ভেজায়, বিভাগ, হলের বারান্দা বা বেলকনিতে বসে বৃষ্টি দেখে আর শৈশব কালের মধুর স্মৃতি মনে করে।

অনেকে প্রিয়জনকে মনে করে চিঠি লিখে কিন্তু সেই চিঠি আর ফেলা হয় না ডাকবাক্সে। হঠাৎ পিছন থেকে সহপাঠী এসে দেখে নেয় প্রিয়জনকে লিখতে থাকা চিঠির কয়েকটি মাধুরি মাখা শব্দ। আর সেই নিয়ে চলে হাসাহাসি, খুনসুটি। একটু পরেই অন্য একদল সহপাঠীকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে মন টিকে না।

হলে পড়তে বসা ছেলে বা মেয়েটিরও তখন মন বসে না পড়ার টেবিলে। হলের বন্ধুদের সাথে শৈশবকালের স্মৃতি রোমন্থন করতে ফুটবল নিয়ে মাঠে দেয় দৌড়। কাদামাখা, বৃষ্টির পানিতে গড়াগড়ি, বন্ধুদের সাথে দুষ্টুমি । সিনিয়র জুনিয়রের মিলন মেলায় পরিণত হয় পুরো খেলার মাঠ। খেলা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। তারপর হলে ফেরার পালা। এবার রাতে গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে হলে রান্না হয় ভূনা খিচুড়ি, মুড়িমাখা খাওয়া আর আড্ডা। এভাবেই কেটে যায় শিক্ষার্থীদের বৃষ্টির দিনের হল জীবন।
বৃষ্টি উপভোগ করতে, বৃষ্টির মোহে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে, ইট পাথরে ঘেরা শহুরের কোলাহল থেকে দম ফেলার জন্য কিংবা প্রকৃতির হৃদয়স্পর্শী পেতেও বৃষ্টির দিনে অনেক দর্শণার্থী তাদের প্রিয়জন, পরিবার নিয়ে ছুটে আসে এই মমতাময়ীর কোলে। কেউবা আসে বৃষ্টি দেখতে তার প্রিয়জন বা প্রিয়সীকে নিয়ে। আপনিও দেখতে আসতে পারেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সুন্দর বৃষ্টিস্নাত অপরুপ দৃশ্য। আপনাকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হবে না এর নিশ্চয়তা দিতে পারি ।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৪ই জুলাই, ২০১৮ ইং ৩০শে আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.