ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসবে আওয়ামী লীগ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির আহ্বান এতদিন নাকচ করে এলেও কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তাদের নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের বসতে রাজি হয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির পক্ষ থেকে শিগগিরই সাত দফা দাবি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসা হবে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ আমি আপনাদের ও পুরো জাতিকে সারপ্রাইজ দেবো। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিক্রমে একটি সুখবর জানাবো। এ খবরে রাজনীতির মাঠে শান্তির বাতাস বইবে বলে মনে করি।’

এ সময় সংলাপের দিন, সময় ও স্থান পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ চেয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন একটি চিঠি দিয়েছেন। আজকের (সোমবার) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় চিঠির বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। আমি আমাদের নেত্রী ও পার্টির সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বলতে চাই, শেখ হাসিনার দরজা কারও জন্য বন্ধ থাকে না, বন্ধ হয় না। এর মধ্য দিয়ে আপানার বুঝতে পারছেন, আমরা আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবে সম্মত। এ ব্যাপারে আমরা সবাই আমাদের নেত্রীর সঙ্গে একমত। আমরা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসব।

কাদের বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বক্ষণে কোনো চাপের মুখে এই সংলাপ হচ্ছে না এবং তার কোনো পূর্বশর্তও দিচ্ছে না। আমরা কারও চাপের মুখে নতি স্বীকার করিনি। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা কাউকে সংলাপে ডাকিনি। তারা সংলাপ করতে চান, ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। সংলাপের দরজা সবার জন্য খোলা। আমরা ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবে সম্মত।

সংলাপ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষিত ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্য সম্বলিত চিঠি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে হস্তান্তর করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে এই চিঠি দেয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্যাডে দেওয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর ছিল ফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লেখা চিঠি দুটি গ্রহণ করেন দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। পরে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের দুটি চিঠি আমি হাতে পেয়েছি। যথাযথ জায়গায় এগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এলে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানো হয়। পরে তারা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে চিঠি দিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে চলে যায়।’

ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব আ ও ম শফিউল্লাহ।

চিঠিতে যা আছে: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর পাঠানো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ড. কামাল হোসেন।

প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক দীর্ঘ আন্দোলন- সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা।

যেসব মহান আদর্শ ও মূল্যবোধ আমাদের জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে উজ্জীবিত ও আত্মত্যাগের উদ্বুদ্ধ করেছিল- তার অন্যতম হচ্ছে ‘গণতন্ত্র।’ গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণের পক্ষে জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং জনগণকে শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে- রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনা করবে- এটাই আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার।

আপনি নিশ্চয়ই একমত হবেন যে, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনকে একটি মহোৎসব মনে করে। ‘ব্যক্তির এক ভোট’ এর বিধান জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধুই নিশ্চিত করেছেন- যা রক্ষা করা আমাদের সকলের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

ইতিবাচক রাজনীতি একটা জাতিকে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের ন্যায়সংগত অধিকারসমূহ আদায়ের মূলশক্তিতে পরিণত করে-তা বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন। নেতিবাচক রুগ্ন-রাজনীতি কীভাবে আমাদের জাতিকে বিভক্ত ও মহা সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, তাও আমাদের অজানা নয়। এ সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো আজ আমাদের জাতীয় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট ৭ দফা দাবি ও ১১ দফার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। একটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে- জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে একটি অর্থবহ সংলাপের তাগিদ অনুভব করছে এবং সে লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

চিঠির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্যও সংযুক্ত করা হয়েছে।”

সাব্বির// এসএমএইচ//২৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.