চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঝুঁকিপূর্ণ ডাকবাংলো ভবন যেকোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

0

এম. ইমরান হোসাইন, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা গঠনের পর থেকে নির্মিত ডাকবাংলো ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় এভাবেই ভেঙে পড়ছে। বসবাসের উপযোগী না হওয়ায় ডাকবাংলোটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। শুধুমাত্র ডাকবাংলোর দায়িত্বে নিয়োজিত কেয়ারটেকার সাহাবুদ্দিন ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনে পার্শে বসবাস করছেন। ফলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব হারাচ্ছে অন্যদিকে ভবনটি সংস্কারের অভাবে অযতেœ অবহেলায় দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে শনিবার সকালে ঘুরে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ভবনটির পালাস্টার খসে পড়ছে। দেয়ালে বড় আকারে ফাঁটল ধরেছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনার আতঙ্কে ওই ভবনে অতিথিরা কিংবা সরকারে কোন কর্মকর্তা এসে থাকতে চান না। ঝড়বৃষ্টি এলে নড়ে ওঠে ভবনটি। বৃষ্টি হলেই মেঝেতে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা হয়ে পড়ে। প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে ভবনটি আশ-পাশের পুকুরসহ তলিয়ে যায়। ভবনের চারিদিকে ঝোপ জঙ্গলে পরিনিত হয়েছে। অতিথিদের ব্যবহারের সোফা, শোয়ার বিছানাসহ পুরাতন আসবাপত্র গুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ভবনটির চারিদিকে পুকুর, ডোবা, নালা থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে মশাসহ অনেক সময় বিষাক্ত সাপের আর্বিভাব ঘটে।


ডাকবাংলোর দায়িত্বে নিয়োজিত কেয়ারটেকার সাহাবুদ্দিন বলেন, ডাকবাংলোর আশে-পাশে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। রাস্তা দিয়ে পানি থাকায় হাঁটার মত অবস্থা থাকে না। এখন আগে মত অতিথিরাও থাকে না। আমি ভবনটির দেখা শোনা করছি। আমার কাছে ভবনটি সন্তানের মতো। বর্তমানে আমার ঘরের ভিতরে ঢুকতে ভয় লাগে। কখন ধসে পড়ে। মাঝে মধ্যে ওয়ালের ফাটলের বিষাক্ত সাপ ঢুকে থাকে।
এব্যাপারে জানতে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গৌতম বাড়ৈ বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে ভবনটি এমন অবস্থায় দেখছি। এ ভবনটি সংস্কারের জন্য চাহিদা তৈরি করে মন্ত্রালয়ে পাঠানো হয়েছে। তা সুপারিশের অভাবে আটকে আছে।
উপজেলা চেয়াম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে নতুন ভবন বরাদ্দ জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। আশা করি শীঘ্রই বরাদ্দ হলে নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে।

সাব্বির// এসএমএইচ//২৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.