সরকার পরিবর্তন হলে উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যায় : প্রধানমন্ত্রী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, সরকার পরিবর্তন হলে সব বন্ধ হয়ে যায়। সরকারের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতালের এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন এবং মানুষের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। যে কাজগুলো শুরু করেছি, সেগুলো যেন সমাপ্ত করতে পারি। নইলে ওই কমিউনিটি ক্লিনিকের মতো আবার বন্ধ করে রেখে দেবে। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষ সেবা পাবে।’

নিটোর প্রকল্পের আওতায় উদ্বোধনকৃত ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কিছু উদ্বোধন করলাম এবং কিছু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম। যার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আর আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ নিশ্চয়ই নৌকায় ভোট দেবে। আবার এসে আপনাদের যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি, সেগুলো উদ্বোধন করে দিয়ে যাব ইনশাল্লাহ।’

‘আমি কিন্তু সেই নিউরো, কিডনি, আই ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে অনেকগুলো প্রথমবার শুরুও করে গিয়েছিলাম, যা বন্ধ হয়ে ছিল। দ্বিতীয়বারে এসে প্রায় আটবছর পর এসে সেগুলো সম্পন্ন করতে হয়েছে। ওইরকম যেন দুভার্গ্য আর বাংলার জনগণের পড়তে না হয়। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষ সেবা পাবে। মানুষের কল্যাণ হবে।’

তাছাড়া দেশের প্রতিটি বড় জেলাগুলোতে মেডিকেল কলেজসহ হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবার গুণগতমান বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

চিকিৎসা সেবাটাকে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন করতে হবে উল্লেখ করে চিকিৎসা সেবার যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছিলাম বলেই আজকে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় হাসপাতালও গড়ে উঠেছে। মানুষ সেবা পাচ্ছে। কাজেই সেবা দেওয়া এটাই আমাদের কর্তব্য। মানুষকে একটু সুন্দর জীবন দান করব, উন্নত জীবনদান করব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হয়েছি। এটাকে ধরে রেখে ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। সেই সময় ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ হবে। আর ২০৪১ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। আর ডেলটা প্ল্যান-২১০০, বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ, জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ।’

‘যে প্রতিষ্ঠানটি করে দিয়ে গেলাম সবাই একটু যত্ন নেবেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন যেন থাকে।’ সে জন্য সবাইকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি হাসপাতালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করতে হবে। সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

‘ইনশাল্লাহ আবার যদি নির্বাচিত হয়ে আসতে পারি, আবার দেখা হবে, না হলেও দেখা হবে। কারণ আসব দেখতে, কীভাবে চলছে’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে বেশকিছু প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন শেষে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে এক আলোচনা সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

প্রকল্পের আওতায় উদ্ধোধনকৃত ভবনগুলো হলো, মিরপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ২৪৮ আসন বিশিষ্টি ছাত্রী হোস্টেল (১০ তলা ভিত বিশিষ্ট ৯ তলা ভবন); মহাখালীতে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি’র সম্প্রসারিত (৯ তলা ভিত বিশিষ্ট) তিন তলা ভবন উদ্বোধন করেন। এছাড়াও এক্সপানশন অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস এন্ড হসপিটাল; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় মহাখালী, ঢাকা’র ৩য় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ (৬-১৫ তলা নির্মাণ) ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাব্বির// এসএমএইচ//২৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.