খালাসে বিলম্ব হওয়ায় গাড়িতে পচে সবজি

0

বশির আল-মামুন,চট্টগ্রাম:

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পাইকারী সবজি বিক্রির বৃহত্তম হাট রেয়াজ উদ্দিন বাজারের আড়তদাররা নানা সমস্যায় জর্জরিত। যানজট, পুলিশি হয়রানি, চাঁদাবজি, সময়মত গাড়ি থেকে সবজি খালাস করতে না পারা সহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছে ব্যবসায়ীরা। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে করে আসা সবজি ঠিক সময়ে খালাস করতে না পারার কারনে গাড়িতেই পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও সময়ের অপচয়ের কারনে ক্রেতাদের ˜িগুন দাম দিয়ে সবজি কিনতে হচ্ছে। আবার পচে নষ্ট হওয়ার কারনে চাষীরা ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরেজমিনে গতকাল সকালে নগরীর অন্যতম রেয়াজ উদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এ বাজারের সবচেয়ে বেশি কাঁচামালের আড়ত ও খুচরা দোকান গুলো চৈতন্য গলিতে। যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে শাক সবজি নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। ব্যস্ততম এই গলিতে প্রতিদিন কোটি টাকার বাণিজ্য হলেও পরিবেশ একেবারেই নোংরা। শাক সবজির উচ্ছিষ্ট অংশ গলির রাস্তার উপর ফেলে রাখার কারণে তা পচে নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে তিনপোলের মাথা থেকে চৈতন্য গলির প্রবেশমুখের অংশের অবস্হা সবচেয়ে বেশি নোংরা।

যানজটে বন্দি চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারের সবজি আড়ত

রেয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. ফারুক শিবলী বলেন সমিতির নিবন্ধিত ১০৬ টি সহ চৈতন্য গলিতে ১৫০ এর অধিক কাঁচামালের আড়ত রয়েছে। যেখানে সব ধরণের কাঁচা শাক সবজি যেমন-আলু, টমেটো, মুলা, বরবটি, সিম, পটল, ফুলকপি, বাধাকপি, বেগুনসহ সব ধরণের শাকসবজি বেচাকেনা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাঁচা শাক সবজি নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। বগুড়া, মেহেরপুর, যশোর, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, জামালপুর, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, রংপুর, নরসিংদী, বান্দরবান, চকরিয়া, দোহাজারী, রাঙামাটি, সাতকানিয়া, মিরসরাই, বাঁশখালী থেকে বেপারিরা এখানে তরকারি নিয়ে আসেন। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে এ গলিতে। কিন্তু গলি সংকীর্ণ হওয়ার কারণে সবজি নিয়ে আসা ট্রাক গুলো গলিতে ঢুকতে পারেনা। তাই প্রথমে বিআরটিসি মার্কেটের সামনে গাড়িগুলো অবস্থান করে। পরে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬ টার মধ্যে গলির ভেতর ট্রাক ঢুুকিয়ে সবজি খালাস করা হয়। দিনের বেলায় এখানে ভিড় না থাকলেও রাতে সরগরম থাকে গলি। এসময় জরুরী ভাবে ট্রাক থেকে সবজি খালাস করে ঠেলাগাড়ি ও ভ্যানে করে আড়তে আনা হয়।

ছবির ক্যাপশন: বিআরটিসির সামনে খালাসের অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে সবজি ভর্তি ট্রাক, সৃষ্টি হয়েছে যানজটের। ছবি-মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু

তিনি আরো বলেন চট্টগ্রামের সিংহভাগ সবজির চাহিদা পুরণ করে থাকে নাটোর থেকে আসা সবজি দিয়ে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় আমদানী বেশী হওয়াতে সবজির বাজার নি¤œমুখী। এতে ক্রেতারা লাভবান হলেও কৃষকরা ন্যায্যমুল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রতিদিন দেশের নানাস্থান থেকে ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক সবজি রেয়াজ উদ্দিন বাজার আসে। আবার এখান থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামে যাচ্ছেন সবজির চালান। তাই কিছুটা যানজট হবেই। যানজট নিরসনের জন্য সমিতির পক্ষ থেকে ১৫ জন লাইনম্যান নিয়োজিত রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, বিপুল পরিমাণ ব্যবসা বাণিজ্য হলেও চৈতন্য গলি অবহেলিত। কাঁচা শাক সবজির বেচা কেনার পর যে উচ্ছিষ্ট থাকে তা প্রয়োজনীয় ডাস্টবিন ও ক্লিনারের অভাবে রাস্তায় পড়ে থাকে। নিজ উদ্যোগে অনেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে এসব উচ্ছিষ্ট পচে নোংরা পরিবেশ তৈরি করে।
বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে। আবর্জনা আর পানি মিশে কর্দমাক্ত পরিবেশ তৈরি করে। তখন গলিতে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমান শুষ্ক মৌসুমেও আবর্জনার কারণে চলাচল করতে অসুবিধায় পড়তে হয় পথচারীদের। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাজার হলেও এখানে নেই পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

ছবির ক্যাপশন: বিআরটিসির সামনে খালাসের অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে সবজি ভর্তি ট্রাক, সৃষ্টি হয়েছে যানজটের। ছবি-মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু

ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, রেয়াজ উদ্দিন বাজার সিটি করপোরেশনের আলকরণ ও এনায়েত বাজার ওয়ার্ডের মধ্যবর্তীস্থানে হওয়ায় এখানকার উন্নতি নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। বিআরটিসি থেকে শুরু করে তিন পোলের মাথা পর্যন্ত চৈতন্য গলিতে প্রতিদিন রাতে শতাধিক গাড়ি প্রবেশ করে। এসব গাড়িগুলো মাল খালাসের পর উচ্ছিষ্টগুলো গলিতে ফেলেই গাড়ি পরিষ্কার করে।
কুমিল্লা বাণিজ্যালয়র স্বত্বাধিকারী খোকন বলেন, ‘রাস্তার উপর আবর্জনা পড়ে থাকলেও কেউ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেনা। আমরা আড়তধাররা নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন কর্মী দ্বারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কাজ চালাচ্ছি। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নিয়মিত না আসার কারণে প্রায় সময় উচ্ছিষ্ট পড়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়’।
রেয়াজ উদ্দিন বাজার খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী গণি বলেন, একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী বাজারকে ত্রাসের রাজত্ব পরিণত করেছে।এ সকল বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবগত করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তারা বলেন জীবন দিয়ে হলেও এই বাজারকে রক্ষার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা এস এম শফিকুল মান্নান ছিদ্দীকি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত ওই এলাকার আবর্জনা পরিষ্কার করে। সিটি করপোরেশন ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান তো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেনা।

সাব্বির// এসএমএইচ//২রা ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.