মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়ও করতে চান অনামিকা

0

রুবেল দাশ,চট্রগ্রাম:

চট্টগ্রামের চন্দনাইশের মেয়ে অনামিকা বড়ুয়া সারা। বয়স মাত্র ১৭। পড়েন নগরীর আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষে। তবে এ অল্প বয়সেই শারীরিক উচ্চতা ও র‌্যাম্পে দুর্দান্ত ক্যাটওয়াকের কারণে তিনি চট্টগ্রামের মডেলিং জগতে আলাদা একটি স্থান করে নিয়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ট্যালেন্ট হান্ট বাংলাদেশ ২০১৮তে পারফেক্ট গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন অনামিকা। বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকমের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় অনামিকা কথা বলেছেন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা, তার ভবিষ্যত পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় নিয়ে।

অনামিকা জানান, ২০১৬ সালে চট্টগ্রামের প্রখ্যাত কোরিওগ্রাফার আলমগীর হোসেন আলোর মাধ্যমে তার মডেলিং জগতে যাত্রা শুরু। আলোর কোরিওগ্রাফিতে করেছেন অনেকগুলো কাজ। আলোর অনুপ্রেরণাতেই অংশগ্রহণ করেন ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায়। বাকিটা ইতিহাস। অন্য সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে পারফেক্ট গ্রুপে জিতে নেন সেরার মুকুট।

অনামিকা বলেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রতিযোগিতার গ্রুমিং সেশন শুরু হয়। কিন্তু আমি প্রতিযোগিতায় অনেক পরে অংশগ্রহণ করি। আমার কার্ড নাম্বার ছিল ৪০৫। তবে আত্মবিশ্বাস ছিল আমি পারব।

প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা বিষয়ে অনামিকা বলেন, অনেক ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা সব প্রতিযোগী একসাথে গ্রুমিং করেছি। আমরা কখনোই একে অপরকে প্রতিযোগী মনে করিনি। বন্ধুর মতই ছিলাম সবাই। সবাই সবাইকে সাহায্য করেছি। যারা আমাদের গ্রুমিং করিয়েছেন তারাও ছিলেন অনেক আন্তরিক। হারুন ভাই, বাবু ভাই সবাই খুব সাহায্য করেছেন।

সামনে নিজেকে কোথায় দেখতে চান এ প্রশ্নের জবাবে অনামিকা বলেন, অবশ্যই নিজেকে একজন ভালো মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। আমি ভালো গানও করতে পারি। সেটাও চর্চাতে আছে। সামনে লক্ষ্য হল লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া।

নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই করতে চাই। যেহেতু ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায় আমাদের অভিনয়ের উপরও গ্রুমিং করানো হয়েছে আমার অভিনয় আগের চেয়ে অনেক সাবলীল হয়েছে। যদি সুযোগ পাই অবশ্যই ভালো নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই।

তবে প্রথম দিকে বাবা আনন্দ মিত্র বড়ুয়া মেয়ে অনামিকাকে মডেলিং করতে দিতে চাননি। তিনি চেয়েছেন মেয়ে মন দিয়ে পড়ালেখা করুক। মডেলিং করলে হয়ত পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটবে।

এ বিষয়ে অনামিকা বলেন, বাবা ভেবেছিলেন মডেলিং করলে হয়ত পড়ালেখার সমস্যা হবে। কিন্তু আমি পড়ালেখা ঠিক রেখেই সবকিছু চালিয়ে নিচ্ছি। পড়ালেখাতো করতে হবে। এটার কোন বিকল্প নেই। আগামী বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেব। ভালো ফলাফল করে মা-বাবার মাথা আরো উঁচু করে দেব।

প্রিয় তারকা কারা এমন প্রশ্নের জবাবে অনামিকা বলেন,  বাংলাদেশে জয়া আহসান আর তিশা। ভারতে কারিনা কাপুর।

এক ভাই, এক বোন ও মা-বাবাকে নিয়ে অনামিকার ছোট সংসার। বাবা আনন্দ মিত্র বড়ুয়া চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ করেন। মা নেলী বড়ুয়া কাজ করেন একটি এনজিওতে। মেয়ে অনামিকা মডেলিংয়ের পাশাপাশি ভালো একজন মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক সেটাই তাদের প্রত্যাশা।

সাব্বির// এসএমএইচ//১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.