চট্টগ্রামে প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর নগরীর অলি-গলি

0

রুবেল দাশ,চট্টগ্রাম :

সারা দেশের মত বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। বলা চলে, প্রার্থীদের পদচারণায় এখন মুখর নগরীর অলি-গলি। সাধারণ মানুষও সাড়া দিচ্ছেন প্রার্থীদের প্রচারণায়। হাত মেলাচ্ছেন, কোলাকুলি করছেন। প্রার্থীদের জানাচ্ছেন তাদের সুখ-দুঃখ ও সমস্যা-অসুবিধার কথা। আর ভোটারদের কাছে পেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা তুলে ধরছেন গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-। আর বিএনপি প্রার্থীরা দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গত ১০ বছরে বিরোধী দলগুলোকে দমনের চিত্র তুলে ধরছেন ভোটারদের সামনে।

“““আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বলছেন সরকারের উন্নয়নের কথা, বিএনপি প্রার্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে করছেন নানা অভিযোগ”””

চট্টগ্রামে প্রচারণায় পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। সকল ভেদাভেদ ভুলে নৌকার প্রার্থীর সাথে মাঠে নেমেছেন নগর ও জেলার শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ নানান শ্রেণী পেশার মানুষও নেমেছেন প্রচারণায়। বলতে গেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের শুরুতেই সরগরম হয়ে উঠেছে মহানগরী ও জেলার প্রতিটি উপজেলা। ভোটারদের কাছ থেকেও ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা। সড়ক, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সর্বত্রই এখন নির্বাচনী উৎসব চলছে। নগরীর কোতোয়ালী, ডবলমুরিং, বন্দর-পতেঙ্গা, চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনসহ জেলার প্রতিটি আসনে একই চিত্র। প্রচারণার সময় টানা ১০ বছর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সরকারের উন্নয়ন চিত্র সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে আবারও নৌকার পক্ষে ভোট চান।
প্রচারণায় চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। চট্টগ্রামকে ঘিরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- করেছে। অনেক মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প এখন দৃশ্যমান। মানুষ যদি এ উন্নয়নের ধারা সামনেও দেখতে চায় তাহলে অবশ্যই নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগ প্রাথী ডা. আফসারুল আমিন বলেন, উন্নয়ন সমৃদ্ধি ও স্বাধীনতার প্রতীক নৌকার বিজয়ে সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে। নৌকা প্রতীক যদি আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারে তাহলে দেশব্যাপী যে উন্নয়ন কর্মকান্ড তা ব্যাহত হবে।
এদিকে, উচ্ছ্বাস নিয়েই ভোট উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ ‘গণসংযোগ’ শুরু করেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের চট্টগ্রামের প্রার্থীরা। ‘গ্রেপ্তার আতঙ্ক’ উপেক্ষা করেই তাতে যোগ দিয়েছেন দলের নেতকর্মীরা। এগিয়ে এসেছেন সাধারণ মানুষও। ফলে প্রচারণায় নেমেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন প্রার্থী এবং তার সমর্থকরা। বিএনপি’র প্রার্থীরা ভোটারদের সরকারের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকা- ও বিরোধী দলের প্রতি দমন-নিপীড়নের বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। বিএনপি সরকারে আসলে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে এমন আশ^াসও দিচ্ছেন ভোটারদের।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থীদের প্রচারণা কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে প্রার্থী থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। হেঁটে-হেঁঁটে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি এবং অলি-গলিতে ছুটে গেছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের সাথে মিলিয়েছেন হাত। টেনে নিয়েছেন বুকে। করেছেন কোলাকুলি। দলীয় প্রতীক ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। চাইলেন দোয়া এবং সহযোগিতাও। আশ^স্ত করেছেন ভোটাররাও। প্রার্থীরা যেখানেই গেছেন, শত শত লোক এসেই জড়ো হয়েছেন। এসময় নেতাকার্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তুলেছেন পুরো এলাকা। কোথাও কোথাও সাধারণ মানুষকে ঠোঁট মিলাতে দেখা গেছে সেই স্লোগানে। গণসংযোগকালে প্রচারপত্রও ভোটারদের মাঝে বিলি করেন নেতাকর্মীরা।
এদিকে, জেলে থাকা কোতোয়ালী-বাকলিয়া আসনের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর পর তিনি শাহাদাতের পক্ষে হোটেল টাওয়ার ইন পর্যন্ত র‌্যালি করেন এবং ভোট চান। পরে জামালখাল খান ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্পটে ডা. শাহাদাতের পক্ষে নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করেন। প্রসঙ্গত, ডা. শাহাদাত চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি। গত ৭ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম কোর্টের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেন তাকে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ানের আনুষ্ঠানিক গণসংযোগ শুরু হয়েছে বুধবার থেকে। সকাল ১০টায় নগরীর বহদ্দারহাট হক মার্কেটের সামনে থেকে সুফিয়ানের গণসংযোগ শুরু হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৮ আসনের ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের সাড়া পাচ্ছি। তারা ভোটাধিকার ফিরে পেতে মরিয়া। প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। তবে প্রশাসনের অসযোগিতা পাচ্ছি পদে পদে। গত দুইদিনে মিথ্যা মামলায় আমাদের ছয়জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার আতঙ্ক উপেক্ষা করেই নেতাকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী বলেন, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করেই নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছে। সাধারণ মানুষও সাড়া দিচ্ছে। এবার গণতন্ত্রের জয় হবেই।

সাব্বির// এসএমএইচ//১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.