ব্যাটিংয়ে বিদেশি, বোলিংয়ে দেশীয়দের দাপট

0

ক্রীড়া ডেস্ক :

কুমিল্লার দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলার মধ্য দিয়ে ভাঙলো ষষ্ঠ বিপিএলের আসর। সেই সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেও শিরোপা না পাওয়ার যন্ত্রণায় পড়তে হলো ঢাকা ডায়নামাইটসকে। এর আগে পঞ্চম আসরে ফাইনালে খেললেও মাশরাফির রংপুরের কাছে শিরোপা হারাতে হয়েছিল।

গতকালই শেষ হয়েছে চার-ছক্কার এ টুর্নামেন্ট। এবারও ব্যাটে বলে জমেছিল লড়াই। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ব্যাটিংয়ে বিদেশিদের দাপট ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত শীর্ষ পাঁচে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের দু’জন। অপরদিকে বোলিংয়ে পুরোটাই নিজেদের করে নিয়েছেন দেশীয় বোলাররা। শীর্ষ পাঁচে কোনও বিদেশিকে ঢুকতেই দেয়নি তারা। আসুন দেখে নেই টুর্নামেন্টে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের শীর্ষ পাঁচে কারা রয়েছেন।

টুর্নামেন্টের শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যান
রাইলি রুশো: ১৪ ম্যাচে পাঁচ ফিফটির সঙ্গে তার ব্যাটে একটি সেঞ্চুরিও দেখেছে বিপিএলের দর্শকরা। ১৫০ স্ট্রাইকরেটে ৫৫৮ রান করে সবার ওপরে রংপুর রাইডার্সের প্রোটিয়া বাঁহাতি রুশো। তার সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ১০০ রান।

তামিম ইকবাল: ১৪ ম্যাচে দুইটি ফিফটির সঙ্গে তার ব্যাট থেকে ফাইনালে এসেছে মূল্যবান সেঞ্চুরি। ১৩৪ স্ট্রাইকরেটে ৪৬৭ রান করে দ্বিতীয় স্থানে থেকে টুর্নামেন্টের শেষ করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের টাইগার ওপেনার। তার সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ১৪১ রান।

মুশফিকুর রহিম: ১৩ ম্যাচে তিনটি ফিফটি থাকলেও সেঞ্চুরির দেখা পাননি মিস্টার ডিপেন্ডেবল। ১৩৯ স্ট্রাইকরেটে ৪২৬ রান করে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক। তার ব্যাটিং গড় ছিল ৩৫.৫০! সেরা ইনিংস ৭৫।

নিকোলাস পুরান: ১১ ম্যাচে তিনটি ফিফটি থাকলেও সেঞ্চুরি দেখা পাননি সিলেটের এ ক্যারিবীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ১৬০ স্ট্রাইকরেটে ৩৭৯ রান করে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন সিলেট সিক্সার্সের ক্যারিবীয় এ উইকেটরক্ষক। তার সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ৭৬ রান।

লরি ইভান্স১১ ম্যাচে দুইটি হাফ সেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরির করেছেন এ ইংলিশ ব্যাটসম্যান। এবারের আসরের প্রথম সেঞ্চুরিটি এসেছে তার কাছ থেকে। ১৩৭ স্ট্রাইকরেটে ৩৩৯ রান করে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছেন রাজশাহী কিংসের এ ইংলিশ ব্যাটসম্যান। অপরাজিত ১০৪ রান টুর্নামেন্টে তার সর্বোচ্চ ইনিংস।

টুর্নামেন্টের শীর্ষ পাঁচ বোলার
সাকিব আল হাসান: ফাইনাল সহ মোট ১৫টি ম্যাচ খেলে ঝুলিতে পুরেছেন ২৩টি উইকেট। যা তাকে করেছেন টুর্নামেন্ট সেরা। ৫৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৭.৬৫ গড়ে ৪০৬ রান খরচায় পেয়েছেন এ উইকেটগুলো। সেরা বোলিং ৪/১৬। চার উইকেট পেয়েছেন একবার।

তাসকিন আহমেদ: ১২টি ম্যাচ খেলে ঝুলিতে পুরেছেন ২২টি উইকেট। কিন্তু শেষ ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ছিটকে যান। ৩৭.১ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৪.৪৫ গড়ে ৩১৮ রান খরচায় এ উইকেটগুলো পেয়েছেন। তার সেরা বোলিং ৪/২৮। চার উইকেট পেয়েছেন দুইবার।

মাশরাফি বিন মুর্তজা: রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক ১৪টি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ২২টি উইকেট। শেষ ম্যাচে ঢাকার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় রংপুর। ৫৫ ওভার বোলিং করে ১৭.৫৯ গড়ে ৩৮৭ রান খরচায় এ উইকেট হস্তগত করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। তার টুর্নামেন্ট সেরা বোলিং ৪/১১। চার উইকেট পেয়েছেন একবার।

রুবেল হোসাইন: ফাইনাল সহ মোট ১৫টি ম্যাচ খেলে ২২টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন। ৫২.৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৮.৫০ গড়ে ৪০৭ রান খরচায় পেয়েছেন এ উইকেটগুলো। সেরা বোলিং ৪/২৩। চার উইকেট পেয়েছেন দুইবার।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন: ফাইনাল সহ মোট ১৩টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন এ বোলার। ৪৬ ওভার বল করে ১৭.৮০ গড়ে ৩৫৬ রান খরচায় ২০ উইকেট পেয়েছেন তিনি। সেরা বোলিং ৪/২২। চার উইকেট পেয়েছেন একবার।

 

নিলা চাকমা/এসএমএইচ//  রোববার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৮ মাঘ ১৪২৫
Share.

About Author

Comments are closed.