মায়ের ভাষা শুদ্ধ করে বলতে পারাটা পুণ্যের কাজ : চসিক মেয়র

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

আমরা সেই বীর বাঙালি জাতি যারা ভাষার জন্যে লড়াই করে প্রাণ দিয়েছি। মায়ের ভাষা শুদ্ধ করে বলতে পারাটা পুণ্যের কাজ। কিন্তু সেই মাতৃভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ আমরা এখনো অর্ধ-শতভাগও নিশ্চিত করতে পারিনি।

গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি অঙ্গনের ৩৩ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এ কথা বলেন। মেয়র বলেন, পারস্পরিক অবিশ্বাস, ঘৃণা, স্বার্থপরতা আমাদের পিছিয়ে পড়তে ভূমিকা রাখছে।

এ থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেম। আর দেশপ্রেমকে জাগ্রত করতে হলে সংস্কৃতিচর্চা বাড়াতে হবে। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় চট্টগ্রামে সংস্কৃতি চর্চার উপযুক্ত স্থান, পরিধি ও পরিসর বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রামকে আরো সত্যিকার অর্থে, আরো খাঁটিভাবে সংস্কৃতি-বান্ধব নগরীতে পরিণত করা হবে। এ ব্যাপারে আমার পক্ষ থেকে যা কিছু করা প্রয়োজন আমি তাই করবো।

আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন, চট্টগ্রামে নতুন ভেন্যুতে আমরা একুশের একটা সফল বইমেলা সম্পন্ন করেছি। বলা যায়, বইপ্রেমী ও সংস্কৃতি কর্মীরা ঢাকার একুশের বইমেলার স্বাদ পেতে শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ক্বণন তিন দশকের অধিক সময় ধরে আবৃত্তি চর্চা এবং এই শিল্পের সমপ্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু আবৃত্তি চর্চার জন্য ৩৩ বছর একটি সংগঠনকে টিকিয়ে রাখা বিরাট কৃতিত্বের।

তাদের এই কর্মকা- শুধু শুদ্ধ আবৃত্তির জন্য নয়, শুদ্ধ সমাজ বিনির্মাণেও ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্বণন সভাপতি মোসতাক খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশবরেণ্য কবি ও বাচিক শিল্পী আসাদ চৌধুরী এবং ভারতের খ্যাতিমান কবি সুবোধ সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৌভিক চৌধুরী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভারতীয় শিল্পী সুতপা বন্দোপাধ্যায়।

কবি আসাদ চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, মানুষের সুন্দর অনুভূতি জাগ্রত করতে আবৃত্তি একটি কার্যকর শিল্প। আবৃত্তি শিল্পটি এখনো যান্ত্রিক হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে। কিন্তু কবিতা পড়ার জন্য যে ছন্দ-লয়-উচ্চারণ প্রয়োজন সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। মানুষে মানুষে বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ভক্তি কমছে। এ দুঃসময় কাটিয়ে উঠতে হবে আমাদের। নিশ্চয়ই আমরা তা পারবো।

মানবতার জয়গান আমরা খুঁজে পাই কবিতার মাঝে। আরেক বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কবি সুবোধ সরকার বলেন, একটি আবৃত্তি সংগঠন তেত্রিশ বছর টিকে থাকার এমন নজীর ভারতে নেই। এটাই বাংলা ভাষার ঐতিহ্য।

কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা আজ বিপন্ন, অবহেলিত, অপরিণত। বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে এখানকার মানুষের জন্য। রাশেদ মোহাম্মদের সঞ্চালনায় আবৃত্তি প্রশিক্ষক মোসতাক খন্দকারের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘বুকের স্বপ্ন বাজাও এবার জাগরণের রবে’ শীর্ষক বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।

এতে অংশগ্রহণ করেন ক্বণন সদস্য রাশেদ, জোনায়েদ শাওকী, তৃষা, শরীফ, ওয়াসিম, সাইমুম, পূজো, মার্টিনা, প্রিয়াঙ্কা, আকমল ও মুহতারিমা। একক আবৃত্তি পরিবেশন করে সৌভিক চৌধুরী, রাশেদ মোহাম্মদ, ইমরানুল হক প্রমুখ।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/ /  শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৯

Share.

About Author

Comments are closed.