চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির পুনর্গঠন হচ্ছে দীর্ঘ বছর পর

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক কমিটি পুনর্গঠন করা  হচ্ছে আট বছর পর। এক্ষেত্রে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশিত তিনটি অপশনের যে কোন একটি বাছাই করতে হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের।

১৫১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন এবং বিদ্যমান কমিটির অধীনেই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

গত বুধবার কেন্দ্রীয় বিএনপি রাজধানীতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র চারজন নেতাকে নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যেমে দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশনায় ।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গাজী শাজাহান জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মামুন মিয়া।

বৈঠকে এই চারজন ছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম সম্পদক আলী আব্বাস এবং দক্ষিণ জেলার অধীন সংসদীয় আসন থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপি’র প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটি পুনর্গঠনের দায়িত্ব পাওয়া কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম  বলেন, ‘ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি, এ মাসের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটির গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। হাইকমান্ডের নির্দেশে কমিটি গঠন কার্যক্রম চলবে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মী থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে নেতা আলোচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী  বলেন, ‘দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র কমিটির বিষয়টি নিয়ে বর্তমান আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে। গত বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দক্ষিণ জেলাভুক্ত চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে বিএনপি’র প্রার্থী হয়েছিলেন নগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান। বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে  বলেন, ‘আলোচনার ভিত্তিতে সবাই একমত হলে বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে।; তিন বছরের কমিটিতে আট বছর পার : ২০০৯ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র কমিটি।

বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান  বলেন  ‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি কমিটির পূর্ণগঠনের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নয়। বর্তমানে আমি অসুস্থ এ বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেয়।’

জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভপতি ও শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। যা দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অনুমোদনও দিয়েছিলেন। ২০১১ সালের এপ্রিলে কমিটি আবারো পুনর্গঠন করা হয়। সেবার জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও গাজী শাজাহান জুয়েলকে করা হয় সাধারণ সম্পাদক ও শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দীনকে সহ-সভাপতি। তিন বছরের জন্য গঠিত এ কমিটি সাত বছর ১১ মাস পার করেছে। কেন্দ্রের চাপে ওই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বৈঠক করেছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। কিন্তু নিজেদের মধ্যে সমাঝোতা না হওয়ায় পরবর্তীতে ভেস্তে যায় কমিটি গঠনের উদ্যোগ। এর আগে ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট কমিটি পুনর্গঠনের জন্য সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। ওই চিঠিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও দক্ষিণ জেলা বিএনপিকে কমিটি পুর্নগঠনের কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নি। দুই নেতার মধ্যকার দৃশ্যের দ্বন্ধের কারণে দক্ষিণ জেলার অধীন বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর কমিটিগুলোও বিভক্ত হয়ে পড়ে।

মাঝখানে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে দল থেকে অব্যাহতি পান শাজাহান জুয়েল। ২০১৭ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র কর্মী সমাবেশ। সেদিন দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক গাজী শাজাহান জুয়েল এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামের অনুসারিদের মধ্যে সংঘর্ষে প- হয় কর্মী সমাবেশ। এতে আহত হন স্বয়ং এনামও। চট্টগ্রামের ১৫ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে ওই বছরের ১৫ মে বৈঠকে বসেন খালেদা জিয়া। ওই বৈঠকেই শাজাহান জুয়েলকে দল থেকে অব্যহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অবশ্য একই বছরের নভেম্বর মাসে সেই অব্যহতি আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এদিকে ২০১৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সকল উপজেলা ও পৌরসভার বিদ্যমান সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র অধীন সাংগঠনিক ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও একটি থানা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে বাঁশখালী উপজেলা ও পৌরসভা, চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভা, লোহাগড়া উপজেলা, বোয়ালখালী উপজেলা, পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভা, সাতকানিয়া উপজেলা ও পৌরসভা এবং আনোয়ারা নির্বাচনী এলাকা। আনোয়ারার মধ্যে কর্ণফুলী থানাও অর্ন্তভুক্ত। এর মধ্যে আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায় কমিটি ছিল দু্িট করে।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/  মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫ চৈত্র ১৪২৫

Share.

About Author

Comments are closed.