খসে পড়ছে পলেস্তার, ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা

0

এ এইচ আজহার

 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে। দুবছরের এই যাত্রায় ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে যুক্ত হয়েছে আরও একটি নতুন ব্যাচ। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিভাগটির নেই কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিকক্ষ। তাই কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের এই বিভাগটির ক্লাস হয় অনুষদের দুই গ্যালারিতে। এরমধ্যে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেন গ্যালারি-১ এ এবং ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেন গ্যালারি-২ এ। যেখানে গ্যালারির অবস্থাও শোচনীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ। যখন তখন ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেসÍার কিংবা ছাদের পিলারগুলো টুকরো অংশ।
গত ১৬ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২ টায় ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের দু-এক হাত সামনেই ছাদের সিলিং থেকে খসে পড়েছে পলেস্তার। এমন ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভাগটির সেমিনার কিংবা লাইব্রেরী বলতে যেই কক্ষটি আছে, তার আয়তন ৮ থেকে ১০ ফুট। যেখানে কোনোমতে ১৫-২০ টা বইয়ের একটা নমুনার দেখা মেলে। এছাড়া ৮-১০ টা চেয়ার আর দুইটা টেবিলেই শেষ সেমিনারের ব্যাপ্তি। নেই কোনো সহকারী কিংবা স্টাফ। অধিকাংশ সময় তালা লাগানো থাকে সেমিনার কক্ষে। তাই শিক্ষার্থীদেরও খুব বেশি আসা যাওয়া নেই সেমিনারে। ক্লাস শেষে চাইলেই সেমিনারে বসে পড়ার সুযোগ হয় না তাদের।
 যেখানে দুই ব্যাচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০০ জন। এরমধ্যে ৪৫ জন ছেলে এবং ৫৫ জন মেয়ে। তবে বিভাগের নিজস্ব কোনো শিক্ষক নেই। অন্য বিভাগের শিক্ষকরাই ক্লাস নিয়ে থাকেন। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের  অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী বিভাগটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে বিভাগের নির্দিষ্ট শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ক্লাস চলাকালেও অনেক সময় অন্য বিভাগগুলোর গ্যালারিতে কোনো অনুষ্ঠান থাকলে ক্লাস ছেড়ে বের হয়ে যেতে হয় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের। এমন বেহাল পরিবেশে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মত দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে হতাশা।
শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদেরর বিভাগের চেয়ারম্যান স্বয়ং অনুষদের ডিন স্যার। স্যারের কাছে আমরা একাধিকবার ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষের কথা জানিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিনি আমরা।
বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের জাহিদ হাসান বিপ্লবের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছি। সাধারণত আমরা কোন সাবজেক্ট এ পড়বো, সেটা শুধুমাত্র সাবজেক্ট দেখিই সিদ্ধানÍ নিয়ে থাকি। এর বেশিকিছু আমাদের জানার বা দেখার সুযোগ থাকে না। কিন্তু বিভাগটি নতুন হওয়ায় এখনো বিভাগের নিজস্ব কোনো কিছুই নেই। যে অবস্থা দেখছি, তাতে আমরা খুবি হতাশ। তাছাড়া যে ভবনটি ২৫ বছর আগে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে সেখানেই আমাদেরকে একপ্রকার জোরপূর্বক ক্লাস করানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের একবছর শেষ হয়ে গেছে। শিক্ষক সংকট, নতুন বিভাগের নানান অপূর্ণতার ভার কিন্তু আমাদেরকেই বইতে হচ্ছে।
বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নওশিন আনজুম আশা জানান, গত ১৬ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২ টায় ক্লাস চলাকালেই আমাদের দু-এক হাত সামনে ছাদের সিলিং থেকে বেশ কয়েকটি টুকরো খসে পড়ে। যেগুলোর সাইজ এতটাই বড় ছিলো যেকারো মাথায় পড়লে সেখানেই সে মারা যেত। এমন ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই আমাদের প্রতিনিয়ত ক্লাস করতে হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের সেমিনার অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। এমনকি পর্যাপ্ত পরিমান বইও নেই। পূর্ণ প্রস্তুতি না নিয়ে বিভাগের কার্যক্রম চালু করায় মূলত আমরাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। বিশ^বিদ্যালয় কতৃপক্ষের নিকট আমাদের অনুরোধ থাকবে দ্রুত সময়ে এসব সমস্যা সমাধান করার।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও কলা ও মানববিদ্যা
অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, শুধু এই বিভাগ নয়, অনুষদের আরও বেশ কয়েকটি বিভাগ আছে, যাদের শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। আপাতত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে আমাদের। তবে ১৬ এপ্রিল গ্যালারির পলেস্তার খসে পড়ার পরেই আমরা ইঞ্জেনিয়ারকে দেখিয়েছি। তারা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো খুব দ্রুত সময়ে ঠিক করে দিবে। তাছাড়া অনুষদের নতুন ভবনের কাজ চলছে। এবছরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বাকী সমস্যাগুলো নতুন ভবনে স্থানান্তর হলেই সমাধান হয়ে যাবে।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ৫ বৈশাখ ১৪২৬,

Share.

About Author

Comments are closed.