বৈশাখী মেলার নামে চলছে রমরমা লটারি বাণিজ্য

0

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অনুমোদনবিহীন অবৈধ লটারি বাণিজ্যের জমজমাট ব্যবসা পরিচালনা হয়ে আসছে।১ মাস ব্যাপী কর্ণফুলী চুক্ষ হাসপাতালের ব্যানারে বৈশাখী মেলার নামে চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে চলছে এই মেলা।তারি অংশ হিসেবে দি সোনালী লাকী কূপনের নাম কর্ণফুলী মইজ্জ্যার টেক থেকে শুরু করে আনোয়ারা, বাঁশখালী ও চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তায়,পাড়ায়,মহল্লায় গ্রামীণ এবং পিএবি প্রধান সড়ক সহ হাট বাজারে , দোকানের সামনে সকাল ৬ টা থেকে রাত ৯.৩০ মিনিট পযর্ন্ত  অর্ধ শতাধিক সিএনজি ও ২ শতাধিক অটোরিক্সায় মাকিং করে করে প্রতি টিকেট মূল্য ২০ টাকা করে সাধারন জনগনকে লোভ দেখিয়ে প্রতিনিয়ত হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে প্রতিদিন রাত ১০টা ৩১ মিনিটে র্যাফল ড্র অনুষ্ঠানের নামে চলছে লটারি বাণিজ্য। দি সোনালী লাকী কূপনের শাখার নাম দিয়ে দি সোনালী লাকী কূপন, দি সোনালী র্যাফল ড্র, দি নিঝুম লাকী কূপন, দি নিঝুম র্যাফল ড্র,  দি সুমন লাকী কূপন, দি সুমন র্যাফল ড্র পুরুস্কারের লোভনীয় অফারে এদিকে দিনের প্রথমভাগ শুরু হতে না হতেই লটারি! লটারি!! লটারি বলেই মাইকিং করে অনুমোদনবিহীন লটারি বিক্রির ধুম পড়েছে বাঁশখালীর প্রধানসড়কে ও অভ্যন্তরিণ সড়কে। স্কুল মাদরাসার ক্লাস চালাকালী সময় খেয়াল না রেখে চলছে মাইকিং।  দিনব্যাপী তাদের মাইকিংয়ের কারণে পরিবেশে পড়ছে শব্দ দূষণের ব্যাপক প্রভাব।

দি নিঝুম র্যাফল ড্র, প্রতিদিনের ড্র প্রতিদিন শিরোনামে সিএনজি অটোটেক্সির পিছনে ব্যানার লাগিয়ে এম.এ রাজু খানের পরিচালনায় এ র্যাফল ড্র নামে চলছে অনুমোদনবিহীন লটারী ব্যবসা। বাঁশখালীতে অনুমোদনবিহীন লটারির টিকিট বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওই প্রতিষ্ঠানটি। মোটা অংকের অর্থ পুরস্কারের লোভে এ লটারির টিকিট কিনে প্রতারিত হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষ গুলো। এ র‌্যাফেল ড্রর টিকেট কেটে সর্বস্বান্ত হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষজনও। বিশেষ ঘোষণা বলে মাইকিংয়ে প্রচার করা হচ্ছে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে লটারির পুরুস্কারের তারিখও পেঁছানো হতে পারে!

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, এই অবৈধ লটারি বাণিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সাধারাণ মানুষ থেকে। এ লটারিতে সর্বপ্রথম পুরুস্কার ১০০ সিসি রানার মোটর সাইকেল, সর্বশেষ পুরুস্কার সোফা সেট, মাঝারিতে রয়েছে ৫টি মোবাইল ফোন, ১টি চুলাসহ গ্যাস সিলিন্ডার, ৫টি ষ্টিলের আলনা, ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের গ্যালেন সহ সর্বমোট ৩৫টি পুরুষ্কার ঘোষনা করছে। এ পুরস্কারের আশায় লটারি কেটে সর্বস্বান্ত হচ্ছে এলাকার সাধারণ ও নিন্ম আয়ের মানুষ। প্রতিদিন রাত দশটা ৩১ মিনিটে এ লটারীর ড্র মেলা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতে অনুষ্টিত হচ্ছে। এ ড্র মানুষকে বিশ্বাস করার জন্য স্থানীয় ডিস লাইনেও সরাসরি প্রচার করা হয়।

এদিকে প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় ২০ টাকা মূল্যের এ লটারির টিকেট বিক্রি। এ এলাকার সড়ক জুড়ে ও পাড়া গায়ের অলিতে গলিতে ভ্যান দিয়ে লোভনীয় মাইকিং এর মাধ্যমে সারাদিন বিক্রি করেছে এ সর্বনাশা লটারির টিকেট।

উপজেলা সদরে  একজন লটারির টিকেট বিক্রেতাকে অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমাদের  অর্ধ শতাধিক সিএনজি ও ২ শতাধিক অটোরিক্সার মাধ্যমে আমরা পুরো বাঁশখালীতে লটারি বিক্রি করি। আমাদের পরিচালক এম.এ রাজু খান।তাছাড়া চাম্বল ইউপির চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিষদ সংলগ্ন মাঠেই এ ড্র অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও তিনি  জানান।

লটারি পরিচালনা কমিটির এম এ রাজু খান বলেন,আমরা লটারি বিক্রি করে রাতে ১০.৩১ মিনিটে প্রতিদিন তার ড্র দিয়,সেখানে অনেকে মূল্যবান পুরুষ্কার পেয়ে থাকেন।আমরা এই লটারি চট্টগ্রাম শহরের মইজ্জ্যরটেক থেকে শুরু করে আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া ও চকরিয়া পযর্ন্ত বিক্রি করি।এই লটারি রোজার আগের দিন পযর্ন্ত বিক্রি হবে বলে তিনি জানান।

চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী জানান,আমার কাছে কিছু দিন পূর্বে এক অন্ধলোক আসে যার দুই চোখ ছিল অন্ধ,তিনি এসে বল্ল বিনামূল্য এলাকার মানুষ কে চিকিৎসা সেবা দিবে,তাই আমি পরিষদের মাঠে তাদেরকে মেলার আয়োজন করতে বলি।তারা জানালেন মেলার  অর্জিত অর্থ ব্যয় হবে চক্ষু কল্যান ফাউন্ডেশনে। তবে লটারি বিক্রির ব্যাপারে তিনি অবগত নয় বলে জানান।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন,লটারি বিক্রির খবর পেয়ে আমি তাদেরকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করি।তারা লটারি বিক্রি করবেনা বলে আমাকে মুচলেকা দেয় এবং থানা পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করি।

 

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/, মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬

Share.

About Author

Comments are closed.