শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ করছে

0

নিজস্ব  প্রতিবেদক:

দ্বিতীয় দিনের মতো দফা দাবিতে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হওয়া সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই সেশন জট, ক্রুটিপূর্ণ ফলাফল এবং ফলাফল প্রকাশের বিলম্বসহ নানা সমস্যা সমাধানের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সাত সরকারি কলেজের প্রায় তিনশশিক্ষার্থী

এদিকে নীলক্ষেত মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ও সড়ক অবরোধের ফলে রাজধানীতে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। অবরোধের ফলে মিরপুর রোডের যানবাহনকে সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং দিয়ে এ্যালিফেন্ট রোড হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যার ফলে মিরপুর রোডের সায়েন্স ল্যাব থেকে আসাদগেট পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আব্দুল্লাহিল কাফী জানিয়েছেন, ‘ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাবির প্রক্টর কথা বলছেন। এখন পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি’।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকা কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। বিক্ষোভ শেষে ১১টার দিকে নীলক্ষেত মোড়ের সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে নীলক্ষেত-নিউ মার্কেট রুটের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশ এলকায় দেখা দেয় তীব্র যানজট। তবে রোগী এবং রোগীবাহী যান চলাচলে কোনো বাধা ছিল না।

 

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হলো:

পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটি মুক্ত ফলাফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সকল বিভাগের ফলাফল একত্রে প্রকাশ করতে হবে। তারা উল্লেখ করেছেন- ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ২০১৬ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল ২০১৮ সালে প্রকাশিত হলেও সব বর্ষে পাশ থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেকের সিজিপিএ আসেনি। তাই দ্রুত সিজিপিএ সমন্বয় করতে হবে। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ২০১৭ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের লিখিত পরীক্ষা ২০১৮ সালের ২৮ জুলাই শেষ হলেও এখনো সকল বিভাগের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

ডিগ্রী, অনার্স, মাস্টার্স সকল বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন- যেমন ইডেনের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের ৩০০ জন শিক্ষার্থী প্রথমবর্ষে শুধু বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে ফেল করার পুনরায় সবার খাতা নিরীক্ষণের আবেদন করেন। পরবর্তীতে প্রকাশিত ফলাফলে ৩/৪ জন ছাড়া সবাই পাশ করে।

সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন চাই। তাদের মতে, স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন না থাকায় সাত কলেজের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। যেমন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ২০১৬ সালের মাস্টার্স এবং ডিগ্রি ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ২০১৭ সালের পরীক্ষা ২০১৯ সালে এসেও এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।

প্রতিমাসে প্রত্যেকটা বিভাগে প্রতি কলেজে দুইদিন করে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে। তাদের মতে- এটা যদি ঢাবির পক্ষে সম্ভব না হয়, তাহলে সাত কলেজের প্রশ্ন প্রণয়ন এবং খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব অবশ্যই সাত কলেজের শিক্ষকদের দিতে হবে এবং সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক ক্যালেণ্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ৯ মাস সাত কলেজের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তারপর মানববন্ধন, অনশন কর্মসূচি ও তিতুমির কলের শিক্ষার্থী সিদ্দিকের চোঁখের বিনিময়ে ঢাবি আমাদের কার্যক্রম ধীরগতিতে শুরু করে। প্রায় ২ বছর ২ মাস অতিবাহিত হলেও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা কোনও সুফল ভোগ করতে পারছে না’।

 

শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা। সবশেষ পরীক্ষায় ঢাকা কলেজ বাংলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ২১৬ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সব বিষয়ে পাশ করেছেন মাত্র ৩ জন। ক্যামেস্টিতে ৪৮ জনের মধ্যে ৪০ জন অকৃতকার‌্য হয়েছেন।

উল্লেখ্য, সেশনজট দূরীকরণ ও শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ। একই বছর পরীক্ষার রুটিনের দাবিতে আন্দোলনে গিয়ে দুই চোখ হারান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান। এর পরেও ফলাফল প্রকাশসহ নানান সঙ্কটের কারণে কয়েক দফা আন্দোলন করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

 

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/,  বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬

Share.

About Author

Comments are closed.