১১ শ্রমিকের সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় হামলার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলাকারীদের একজনের কারখানায় কর্মরত বাংলাদেশি ১১ শ্রমিকের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে হামলার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। মনিরুল ইসলাম বলেন, শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত ১১ বাংলাদেশি শ্রমিক সেখানকার হামলাকারী ইব্রাহিম ইনসাফ আহমেদের ‘কলসাস মেটাল’ নামে একটি পিতলের তৈজসপত্র তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ টাঙ্গাইলের বাসিন্দা। ‘তারা মূলত ট্যুরিস্ট ভিসায় সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের কোনো ওয়ার্ক পারমিট ছিলো না। অনেকের আবার ভিসার মেয়াদও ছিলো না। হামলার ঘটনায় ওই ফ্যাক্টরির মালিক নিহত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে ওই কারখানার শ্রমিকদের। সেখানে আরও অন্যান্য দেশের শ্রমিকেরা ছিলেন তাদেরও ফেরত পাঠানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, আমরা এই ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। যে সন্ত্রাসী আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছে আমরা তার সম্পর্কে এবং তার আত্মীয়দের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিছুই জানাতে পারেনি। তারা মালিককে দুই/চারবার দূর থেক দেখেছে তবে মালিকের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ করার কোনো সুযোগ হয়নি। তারা সাধারণ শ্রমিকের মতই সেখানে ছিলেন। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান বলেন, এখন পর্যন্ত এই হামলা ও ফ্যাক্টরির মালিকের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, তবে কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত তারা হামলার সম্পর্কেও কোনো তথ্যও দিতে পারেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই ১১ জনের এখন পর্যন্ত কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে সেটির বিষয়েও খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে শ্রীলঙ্কার হামলা ও হামলাকারীর সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, সারা বিশ্ব এখন জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া ঝুঁকিতে রয়েছে, সে হিসেবে আমরাও ঝুঁকিতে আছি। ‘তবে বৈশ্বিক ঝুঁকির প্রেক্ষিতে আমাদের দেশ ঝুঁকিতে থাকলেও কোনো হামলার আশঙ্কা নেই। আমাদের দেশে কোনো হুমকি বা হামলার কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। ’ তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডে হামলার পর আমাদের দেশের জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে একটি প্রতিশোধ পরায়ন প্রবণতা জেগে উঠেছে। আমাদের বিভিন্ন ইন্টেলেজেন্সির মাধ্যমে কিছু তথ্য এসেছে। তবে হামলার জন্য যে পরিমাণ সরঞ্জামের প্রয়োজন সেগুলো যোগার করতে অনেক সময়ের ব্যাপার। ‘ইতোপূর্বে আমাদের বিভিন্ন অভিযানে তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা অনেকটা ভেঙে গেছে। শ্রীলঙ্কায় হামলার ঘটনার পর থেকে নিঃসন্দেহে তারা ইন্সপায়ার হতে পারে। তবে হামলা করার জন্য সাংগঠনিক কাঠামো, মনোবল, সরঞ্জাম তাদের নেই। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো হামলার আশঙ্কাও নেই।’

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/, শনিবার ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৪ বৈশাখ ১৪২৬

Share.

About Author

Comments are closed.