জবরদস্তি শপথ পড়িয়ে মিডনাইটের সংসদকে বৈধের অপচেষ্টা: বিএনপি

0

নিজস্ব  প্রতিবেদক:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী বিএনপির এমপিদের শপথ নিতে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে বলেছেন, ভোটার বিহীন মিডনাইটের সংসদকে বৈধ করতে বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের জোর করে শপথ গ্রহণ করিয়ে বৈধতা পাওয়া যাবে না ৩০ ডিসেম্বর দেশে কোন নির্বাচনই হয়নি ভোট দিতে পারেননি দেশের ভোটাররা জনগণ এই নির্বাচন এবং তথাকথিত সংসদকে প্রত্যাখ্যান করেছে সুতরাং এমপি ভাগিয়ে জোর করে শপথ পড়িয়ে বৈধতা নেওয়ার অপচেষ্টা করে বৈধতা পাওয়া যাবে না জনগণের কাছে আরো ধিকৃত হতে হবে এই মিডনাইট ভোটের কলংক মুছতে হলে অতি দ্রুত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন

আজ সোমবার বিকালে দলের নয়া পল্টন অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘বিএনপির কোনো এমপিকে শপথ নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো চাপ নেই’। তাঁর এই বক্তব্যের পর জনগণ নিশ্চত হয়েছে যে, ধানের শীষের প্রার্থীদের চাপ দেয়া হচ্ছে শপথ নিতে। শেখ হাসিনার অবৈধ ক্ষমতার চাপে গোটা জাতিই তো পাথরচাপা হয়ে প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক জীবনে যেটি প্রমান করেছেন-তিনি মুখে যেটি বলবেন, কাজে সেটির উল্টোটাই করবেন। চাপ নেই বলার একদিন পরেই গত পরশু আবারো তাঁর কথার প্রমাণ পাওয়া গেছে-অবশ্যই চাপ আছে। চাপ দেয়া হচ্ছে। জুলুম-জবরদস্তি করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ধানের শীষের নির্বাচিত সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া গত পরশু তার এলাকায় বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতিবিনময় সভা করছিলেন। তিনি যখন ঘোষণা দেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিবেন না’। তারপরে সরকারের একটি সংস্থার কয়েক ব্যক্তি উকিল আবদুস সাত্তারকে সেই সভা থেকে নিরিবিলি কথা বলার জন্য নিয়ে যেতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। ঐ সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা আমাদের জানিয়েছেন, সেখান থেকে উকিল আবদুস সাত্তার সাহেবকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে তারা সফল হয়নি। কেবল উকিল আবদুস সাত্তারই নন, অন্য এমপিদেরও চাপ দেয়া হচ্ছে শপথ নিতে।

রিজভী বলেন, অনলাইন পোর্টালসহ কিছু কিছু গণমাধ্যমে ‘বিএনপি চলবে তারেকের একক সিদ্ধান্তে’ শীর্ষক সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে- যা সম্পূর্ণরূপে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলের কার্যক্রম পরিচালনায় শাশ্বত গণতান্ত্রিক নীতিকেই অনুসরণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতেই দলের যেকোন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দসহ প্রয়োজনে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ বিবিধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু সেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে দল চলবে এ ধরনের কোন আলোচনা হয়নি। আমি দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কাল্পনিক, অসত্য, বানোয়াট সংবাদ পরিবেশনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/, শুক্রবার ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬

Share.

About Author

Comments are closed.