স্বাস্থ্যসেবায় এখনও পিছিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়(কুবি)

0

(কুবি) প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়(কুবি)  লালমাই পাহাড়ে ঘেরা দেশের ২৬ তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।৩ টি অনুষদ, ১৯ টি বিভাগ ও ৪ টি ভবন ও প্রায় ৭ হাজার (শিক্ষক,শিক্ষার্থী, কর্মচারী) নিয়ে পরিচালিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবছর তুলনামুলক বাড়ছে শিক্ষার্থী। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবায় আজ ও পিছিয়ে কুবি।

মাত্র একটি এম্বুলেন্স নিয়োজিত আছে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী,শিক্ষক, কর্মচারী দের জন্য। কিন্থ একটা এম্বলেন্স দিয়ে কয়জনকে ই বা হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তারপর এম্বুলেন্স ও নেই অক্সিজেন সরবরাহের ব্যাবস্থা। নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। জানা গেছে কতৃপক্ষ সাধারণ মাইক্রো বাস কে এম্বুলেন্স হিসেবে চালিয়ে গেছে এতদিন।

হাসপাতালে ও নিয়োজিত আছে ৫ জন চিকিৎসক, কিন্তু এখন ২ জন ছুটিতে থাকায় রয়েছে ৩ জন। পাশাপাশি ওষুধ এর তেমন ব্যাবস্থা নেই। পাশাপাশি উন্নতমানের চিকিৎসা পেতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। চিকিৎসকরা জানান এখানে অনেক কিছুর সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। পরবর্তী বাজেটে কিছুটা ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার মাহমুদুল হাসান খান বলেন, এম্বুলেন্সসেবা নগন্য।একটি এম্বুলেন্স দিয়ে যথাযথ সেবা প্রদান করা সম্ভব নয়।তিনটি এম্বুলেন্স হলে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা যেতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের প্রধান উপদেষ্টা ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার বলেন, নতুন বাজেটে ২০টি যানবাহন ক্রয় করার সুযোগ আছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সকল সমস্যার সমাধান করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন পুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহনের পর এখন পর্যন্ত এম্বুলেন্স সেবায় সমস্যার সম্মুখীন হইনি।” একইসাথে দুই বা ততোধিক অসুস্থ হলে সেক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত গাড়ি ব্যবহার করা হবে বলেও তিনি জানান।বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা এবং এম্বুলেন্স সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মরিয়ম বিনতে দিদার জানান, কিছুদিন আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার বন্ধ থাকায় তাকে শহরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে।এসময় এম্বুলেন্স খবর দেয়া হলে সেটি আসতে প্রায় একঘন্টা সময় নেয়।

দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফয়সাল হাবিব জানান, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তার একজন সহপাঠী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার দরকার পড়ে।এসময় মেডিকেল সেন্টারে যোগাযোগ করা হয় ওই অসুস্থ শিক্ষার্থীকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য।জনবল না থাকায় পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তারাই সহপাঠীকে মেডিকেলে নিয়ে যান।এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোঃ আবু তাহের বলেন, সার্বক্ষনিক মেডিকেল সেবা থাকা উচিৎ।আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হবে। পাশাপাশি এম্বুলেন্স এর ও ব্যাবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।খুব দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার আহবান জানান শিক্ষার্থীরা।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/, রোববার ০৫ মে ২০১৯, ২২ বৈশাখ ১৪২৬

 

Share.

About Author

Comments are closed.