শেয়ারবাজার টানা দরপতনে অব্যাহত রয়েছে

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পতনের বৃত্ত থেকে শেয়ারবাজারকে বের করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসছে না। ফলে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন অব্যাহত রয়েছে। লেনদেনে চলছে চরম খরা। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লোকসান দিতে দিতে তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকেছে।

সম্প্রতি শেয়ারবাজারের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করার পরও বাজারের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এখন ব্যাংকিং খাতে তারল্য (নগদ অর্থ) সংকটের কারণে এমনটা ঘটছে। কারণ হিসাবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের কাছে নগদ টাকা থাকলে শেয়ারবাজার ভালো থাকে আর যখন ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট হয় তখন শেয়ারবাজার খারাপ অবস্থা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন শেয়ারবাজারের খারাপ শেয়ারের পাশাপাশি ভালো শেয়ারগুলোরও দরপতন হচ্ছে। ফলে পুরো বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। আর বাজারে ভালো শেয়ারের সংখ্যাও কম। এ সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিএসইসি প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নিচ্ছে না। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে যে কোম্পানিগুলো সেগুলো হলো, গ্রামীণফোন, ব্র্যাক ব্যাংক আর স্কয়ার ফার্মা। গতকাল এককভাবে গ্রামীণফোনের সূচক কমার ফলে ডিএসইতে তিন দশমিক ৪৬ পয়েন্ট পড়েছে। এক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংকের কারণে দুই দশমিক চার পয়েন্ট পড়েছে। আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের জন্য পড়েছে এক দশমিক ৬৪ শতাংশ। এরপর আইসিবি, ব্যাট বিসি এবং বেক্সিমকো ফার্মা ডিএসইর সূচক কমাতে ভূমিকা রেখেছে। সূচক কমাতে ভূমিকা রাখা এসব শেয়ারই বাজারের সবচেয়ে ভালো শেয়ার। এদিকে গতকাল বাজারে লেনদেনও কম হয়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৫১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩০৫ কোটি ৩ লাখ টাকার। লেনদেন কমেছে ৫৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। গতকালের লেনদেন গত সাড়ে ১৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২৫ মার্চ ২০১৮ সালে এত কম লেনদেন হয়েছিল। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২১৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকও কমেছে।

দিনভর বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২১৯টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৫২টির। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স ৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৬৫ পয়েন্টে। শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনার কথা বললেও তার ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়ছে না। বাজারে ভালো শেয়ার আনতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিএসইসির এ বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি যেমন : নেসলে, হেলথ কেয়ার, নভোনরডিক্সের মতো কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জানুয়ারি মাসে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান হয়। প্রায় এক মাস টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে।

জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে এসে ছন্দপতন ঘটে শেয়ারবাজারে। দেখা দেয় টানা দরপতন। এরপর থেকে গত তিনমাস প্রায় একইভাবে চলছে। সম্প্রতি পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের এক্সপোজার সংশোধনীর ইঙ্গিত দেওয়া হয়। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) দেওয়া হচ্ছে ৮৫৬ কোটি টাকার তহবিল। শেয়ারবাজার থেকে যাতে টাকা বের হয়ে না যায়, সে জন্য বন্ধ করা হয়েছে প্লেসমেন্ট। নতুন করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/বুধবার ১৫ মে ২০১৯, ০১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

Share.

About Author

Comments are closed.