১ মাসের মধ্যে তরল দুধ-দই পরীক্ষা করে রিপোর্ট জমার নির্দেশ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাজারের সব ধরণের তরল দুধ ও দই পরীক্ষা করে আগামী এক মাসের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনকে ( বিএসটিআই) বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নিম্নমানের দুধ ও দই প্রস্তুতকারক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সনাক্ত করে তাদের নামের তালিকাও চেয়েছেন আদালত। বুধবার (১৫ মে) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী ২৩ জুন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে ।

‘বাজারের ৯৬টি তরল দুধের ৯৩টির নমুনাতেই ক্ষতিকর উপাদান’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জন স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরীর প্রধান প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসীকে তার প্রতিবেদন নিয়ে আগামী ২১ মে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেছেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিয়ে খেলতে দেওয়া হবে না। মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক অনুজীবসহ দুধ দই উৎপাদনকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সাধারণ মানুষকেও এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে। শুনানিতে আদালতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন সরকার এম আর হাসান মামুন।

পরে আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছি। আমরা তাতে বলেছি, এক মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রদান করবো। এটা বিশাল একটি কাজ বিভিন্ন রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে। মিটিং করে তা স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর ও নিম্নমানের তা নিরুপণ করে প্রতিবেদন দিতে হবে।

এজন্য আমরা আদালতের কাছে সময় চেয়েছি। ড.শাহনীলা ফেরদৌসীর করা প্রতিবেদন আপনারা সংগ্রহ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো করিনি। সংগ্রহ করবো। আদালতের নির্দেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের করা ১৬ সদস্যের কমিটিতে তিনিও একজন সদস্য হিসেবে আছেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘গাভির দুধ ও দইয়ে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক, সিসা!’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাভির দুধে (প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া) সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে।

পাওয়া গেছে বিভিন্ন অণুজীবও। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত গাভির দুধেও অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত। বাদ পড়েনি দইও। দুগ্ধজাত এই পণ্যেও মিলেছে সিসা। সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) গবেষণায় এসব ফলাফল উঠে এসেছে। সংস্থাটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গাভির খাবার, দুধ, দই ও প্যাকেটজাত দুধ নিয়ে এই জরিপের কাজ করেছে। এ সংক্রান্ত জারি করা রুলের শুনানি নিয়ে আদালত আজ এ আদেশ দেন।

নিলা চাকমা/এসএমএইচ/বুধবার ১৫ মে ২০১৯, ০১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
Share.

About Author

Comments are closed.