উইন্ডিজের সান্ত্বনার জয়

0

ক্রীড়া ডেস্ক :

১৫ মাস আগের কথা। হারারেতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ফাইনালে উইন্ডিজকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল আফগানিস্তান। এবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চেও তেমন কিছুর আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। রহমত শাহ ও ইকরাম আলী খিলের ফিফটিতে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দারুণ একটি জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছিল আফগানরা। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে আফগানদের স্বপ্ন ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে ক্যারিবীয়রা।

দুই দলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। বৃহস্পতিবার উইন্ডিজ-আফগানিস্তানের শেষ ম্যাচটা ছিল তাই নিয়মরক্ষার, মর্যাদার। আনুষ্ঠানিকতার সেই ম্যাচে আফগানদের ২৩ রানে হারিয়েছে ক্যারিবীয়রা।

আগে ব্যাট করতে নেমে শাই হোপ, এভিন লুইস, নিকোলাস পুরানের ফিফটি এবং জেসন হোল্ডারের ঝোড়ো ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে করেছিল ৩১১ রান। জবাবে শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ২৮৮ রানে থামে আফগানিস্তান।

প্রথম আট ম্যাচের ছয়টিতেই পরাজয়ের স্বাদ পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ শেষ করল জয় দিয়ে। শুরুটাও করেছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় দিয়ে। এরপরই হারিয়ে ফেলে পথ। আর আফগানিস্তান হারল নয় ম্যাচের সবগুলোতেই!

হেডিংলিতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ভালো হয়নি। ব্যক্তিগত ৭ রানেই ফেরেন নিজের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামা ক্রিস গেইল। ৫ রানে ফিরতে পারতেন তিনে নামা হোপও। তবে সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি রশিদ খান।

জীবন পেয়ে উইন্ডিজকে এগিয়ে নেন হোপ। দ্বিতীয় উইকেটে লুইসের (৭৮ বলে ৫৮) সঙ্গে ৮৮ ও তৃতীয় উইকেটে শিমরন হেটমায়ারের (৩১ বলে ৩৯) সঙ্গে ৬৫ রানের ভালো দুটি জুটি গড়েন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৯২ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭৭ রানের ইনিংসটি সাজান হোপ। ঝড় তুলে পঞ্চম উইকেটে ১০৩ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিনশর কাছে নিয়ে যান পুরান ও হোল্ডার। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ফেরেন দুজনই।

রান আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলে ৬ চার ও একটি ছক্কায় ৫৮ রান করেন পুরান। ৩৪ বলে এক চার ও ৪ ছক্কায় ৪৫ রান করেন অধিনায়ক হোল্ডার। শেষ তিন বলে একটি চার ও দুটি ছক্কায় ১৪ রান করে স্কোর তিনশ পার করেন কার্লোস ব্রাফেট। শেষ ১০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ১১১ রান।

আফগানিস্তানের দৌলত জাদরান ৭৩ রানে নেন সর্বোচ্চ ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নেন সৈয়দ সিরাজ, মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় আফগানিস্তানের শুরুটা ভালো হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন গুলবাদিন নাইব। দ্বিতীয় উইকেটে বড় জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন রহমত ও ইকরাম। দুজনই ফিফটি তুলে নেন ৫৭ বলে। ইকরাম গড়েন বিশ্বকাপে তৃতীয় কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ফিফটির রেকর্ড।

রহমতকে ফিরিয়ে ১৩৩ রানের জুটি ভাঙেন কার্লোস ব্রাফেট। ৭৮ বলে ১০ চারে রহমত করেন ৬২ রান। ইকরাম এরপর জুটি বাঁধেন নজিবুল্লাহ জাদরানের সঙ্গে। দুজনের ব্যাটে ছুটছিল আফগানিস্তান।

৩৫ ওভার শেষে আফগানিস্তানের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৮৭ রান। ৮ উইকেট হাতে রেখে ১৫ ওভারে দরকার ছিল ১২৫ রান। কিন্তু পরের ওভারে ৫১ রানের জুটি ভাঙতেই পথ হারায় আফগানরা।

গেইলের তিন বলের মধ্যে ফেরেন দুই সেট ব্যাটসম্যান। ৯৩ বলে ৮ চারে ৮৬ রান করে ইকরাম হন এলবিডব্লিউ। আসগর আফগানের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন নজিবুল্লাহ (৩১)।

এরপর দ্রুতই ফেরেন মোহাম্মদ নবী আর সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। আফগানিস্তানও আর পেরে ওঠেনি। আসগরের ৪০ ও সিরাজের ২৫ রান পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পারে শুধু। ৯৯ রানের মধ্যে আফগানিস্তান হারায় শেষ ৮ উইকেট!

ব্রাফেট ৬৩ রানে ৪টি ও কেমার রোচ ৩৭ রানে নেন ৩টি উইকেট। একটি করে উইকেট নেন গেইল ও ওশানে টমাস। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন হোপ।

সাব্বির=৫ই জুলাই, ২০১৯ ইং ২১শে আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.