দেশে আরো বিপদ আসছে: মির্জা ফখরুল

0

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সমস্যার মতো দেশে আরো বিপদ আসছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১২তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে’ এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শুধু রোহিঙ্গা সমস্যা নয়। আরো বিপদ আসছে। চোখ বন্ধ করে থাকলে চলবে না। ওই যে উট পাখি কী করে? যখন মরুভূমিতে ঝড় আসে তখন মাথাটা বালুর মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে ভাবে যে সব থেমে গেলো। তাতে কী মরুভূমির ঝড় বন্ধ হয় না। আজকে মাথা নিচু করে দিলে হবে না। চতুর্দিকে বিপদ আসছে।

তিনি বলেন, দেশে আজকে গণতন্ত্র নেই, মানুষ ভোট দিতে পারেনি, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নেই, মানুষ ন্যায় বিচার পায় না, মানুষ কোনো সামাজিক বিচার পায় না, তারা অসহায় হয়ে গেছে। রোহিঙ্গারা এসছে এদেশে, সেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার। কারণ তাদের যে প্রধান মিত্র ভারত ও চীন তারা মিয়ানমারের পক্ষে।

ভারতের আসামের নাগরিকপুঞ্জির প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আসামে যে এনআরসি তৈরি হয়েছে আমরা জানি না এটা মধ্যে কী আছে না আছে। আমরা এটুকু বুঝি যে, একটা বিপদ জানান দিচ্ছে। অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ হতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকেই তার স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে, বাংলাদেশের মানুষকেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তা রক্ষা করতে হবে। এটাকে কেউ আমাদের করে দিয়ে যাবে না। সেক্ষেত্রে আজকে বিএনপির দায়িত্ব, ছাত্র দলের দায়িত্ব, যুব দলের দায়িত্ব্, শ্রমিক দলের দায়িত্ব, স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্ব সেই আন্দোলনে সেই যুদ্ধে আমাদেরকে নেতৃত্ব দিতে হবে, মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে, দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের তরুণরা, যুবকরা কেউ হতাশ ন, সংগ্রাম ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবে এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবে-এটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিন দফা দাবি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দাবি খুব পরিস্কার- সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান থেকে শুরু করে এই যে ২৬ লক্ষ্যের বিরুদ্ধে মামলা- সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং এই নির্বাচনের (একাদশ সংসদ নির্বাচন) ফলাফল বাতিল করে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে ও একটা স্বাধীন ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০১ সালে যখন আমাদের জোট নির্বাচিত হয়ে আসলো বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। তখন আজকের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, তিনি (শেখ হাসিনা) গ্যাস রপ্তানির চুক্তিতে সই করেননি বলে তিনি পরাজিত হয়েছেন। গতকাল কিন্তু সেই গ্যাস রপ্তানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার বিষয়টা নিশ্চিত করা যায় তাহলেই সব হয়ে যাবে। আজ তাই হচ্ছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সাব্বির=৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ২১শে ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.