সিডিএর নকশা বহির্ভূত ভবন ওরিয়েন্ট টাওয়ারের কারণে ভোগান্তি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্কিংয়ের জায়গায় মার্কেট ও দোকান, অবৈধভাবে ভবন বাড়ানো, নালার ওপর স্থাপনা এমন সব অভিযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘির উত্তর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভবন। ভবনটির নাম ওরিয়েন্ট টাওয়ার। নকশা বহির্ভূতভাবে এই ভবনটির অবৈধ স্থাপনা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছে ভবনটির প¦ার্শবর্তী দালানগুলোকে। উক্ত ভবনের নিচে পার্কিং না থাকায় বিভিন্ন অফিসের গাড়ি রাখা হয় ব্যস্ততম সড়কের ওপর। নিত্য যানজট লেগেই থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ভবন মালিকের এসব অরাজকতার সবকিছুই ঘটছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃৃপক্ষের (সিডিএ) জ্ঞাতসারেই! নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লালদিঘির উত্তর পাড়ে ওরিয়েন্ট টাওয়ারের অবস্থান। ভবনটির মালিক সাতকানিয়ার ইছামতি পুলের মোজাহের মিয়ার পুত্র এসএম আহমদ হোসেন। তিনি ইমকো প্রপার্টিজের স্বত্বাধিকারী। অভিযোগ রয়েছে, ওরিয়েন্ট টাওয়ার নির্মাণের সময় সিডিএ থেকে সাত তলার নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার আট তলার দালান নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়। সিডিএর অনুমতি ও নকশা ছাড়া অবৈধভাবে আট তলার স্থলে নয় তলা করা হয়েছে। ২০১৩ সালে ভবনের পূূর্বাংশ হেলে যাওয়ায় এটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছিল। ভবনটি এক তলা অর্থাৎ নয় তলা করায় সেটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে প্রাণহানির হুমকি দেখা দিয়েছে। জানা যায়, ২০১৩ সালে ভবনের অনুমোদনকৃত নকশা দেখানোর জন্য সিডিএ থেকে বারবার অনুরোধ করা হলেও মালিকপক্ষ সেটি দেখাতে পারেনি। নির্মাণের সময় নিচতলায় পার্কিং স্পেস রেখে নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল আটতলার। পরবর্তীতে পার্কিংয়ের জায়গায় মার্কেট ও দোকান ভাড়া দেয় মালিকপক্ষ। এর ফলে ভবনে স্থিত থাকা অফিসগুলোর গাড়ি রাস্তার ওপর পার্কিং করার কারণে ওই স্থানে যানজট লেগেই থাকে। অভিযোগ রয়েছে, নকশা বহির্ভূতভাবে উত্তর পাশে নালার ওপর ভবন বর্ধিত করায় পানি চলাচল ও নালার ময়লা আবর্জনা উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ভবনের সামনে ‘মালঞ্চ’ নামে নকশাবহির্ভূত দোকানের কারণে যানজট মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ওরিয়েন্ট টাওয়ারের পার্কিংয়ের জায়গায় প্রায় ১৭-১৮টি দোকান রয়েছে। পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান কেন প্রশ্ন করা হলে ওই ভবনের ভাড়াটে রাইয়ান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ‘ভাড়া দিলে আমি-আপনি যে কেউ দোকান নেবো। বৈধ-অবৈধ দেখার দায়িত্ব সিডিএর। এখানে আমাদের কোন হাত নেই।’ লালদিঘির পূর্ব পাড়ের পাঁচ তলা দালান আজিম সেন্টারের মালিক মহিউদ্দীন আবদুুল হাই অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মালিকানাধীন দালানের উত্তর পাশে ওরিয়েন্ট টাওয়ারের নিচতলায় পার্কিং স্পেস রেখে সিডিএ থেকে আট তলার নক্সা নিয়ে ত্রুটিপূর্ণভাবে নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নকশা বহির্ভূতভাবে অনুমতি ও অনুমোদনবিহীন নয় তলার কাজ করেছে ভবন মালিক। এর ফলে আজিম সেন্টারের মালিক হিসেবে আমি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছি।’ মহিউদ্দীন আবদুুল হাইয়ের পুত্র তারিন মহিউদ্দিন আজিম বলেন, ‘ওরিয়েন্ট টাওয়ার নির্মাণের সময় পাঁচ তলা পর্যন্ত সীমানা দেয়াল নির্মাণ করলেও নকশা বহির্ভূতভাবে গায়ের জোরে ছয় তলা থেকে নয় তলা পর্যন্ত ছাদের অংশ দক্ষিণ দিকে পাঁচ ফুট বাড়িয়ে আজিম সেন্টারের ছাদের ওপর ছাদ করেছে। যা অপসারণ করা দরকার।’ এ বিষয়ে সিডিএর বরাবরে একটি অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ইমকো প্রপার্টিজের কার্যালয়ে গেলে এসএম আহমদ হোসেন বলেন , নির্দিষ্ট ভবন ওরিয়েন্ট টাওয়ারের নির্মিত গাড়ি পার্কিং এর স্থলে গাড়ি পার্কিং না করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তবে, ওরিয়েন্ট টাওয়ারের পার্কিং এ যে সকল গাড়ি রয়েছে সেসকল গাড়ি আমার মালিকানাধীন প¦ার্শবর্তী কে বি আমান টাওয়ারে পার্কিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গাড়ি রাখা হলে কোন প্রকার যানজটের সৃষ্টি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন প্রকার উত্তর দিতে পারেননি। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, ওরিয়েন্ট টাওয়ারে নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা না থাকার কারণে উক্ত সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই ভোগান্তিতে পড়তে হয় প্রতিদিন উক্ত সড়ক দিয়ে যাতায়াতকৃত মানুষদের। এ বিষয়ে ওরিয়েন্ট টাওয়ারের মালিক এসএম আহমদ হোসেনের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে উক্ত ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন সময় প্রাণনাশসহ নানারকম হুমকি দিয়ে থাকেন তিনি। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’ ইতোমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে ভুক্তভোগীরা সিডিএ চেয়্যারমানের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন।

৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.