প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সুখবর পাওয়ার প্রত্যাশা ফখরুলের

0

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে প্রতিবার হতাশ হলেও এবার সুখবর পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আজকে জনগণ আশা করবে, জনগণের যে প্রত্যাশা- তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে। অবশ্যই যেন বাংলাদেশ সুখবর পায়, তা আমরা আশা করবো। আমরা আশা করবো আমাদের সীমান্তে যাতে হত্যা বন্ধ হয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত এক পেশাজীবী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবি’ শীর্ষক এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী ভারতে গেছেন। আমরা সব সময় যেমন আশা করে থাকি…। ভারতের সাথে বাংলাদেশের এই সরকারের নাকি পর্বতের শৃঙ্গের মত সম্পর্ক। কিন্তু বারবার আমরা হতাশ হই। যত বার যান, এসে দেখি আমাদের যে মূল সমস্যাগুলো রয়েছে- সেগুলো সমস্যার সমাধান হয় না। কিন্তু আমরা দিয়ে আসি একেবারে উজার করে।

তিনি বলেন, আমাদের সীমান্তে হত্যার সমস্যার সমাধান হয় না, আমাদের তিস্তার পানির সমস্যার সমাধান হয় না, ফারাক্কার বাঁধ খুলে দিলে বন্যা হয়ে যায়- এই সমস্যার সমাধান হয় না, বানিজ্যের মধ্যের ভারসাম্যহীনতা হয়েছে-সেটার সমাধান হয় না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে জনগণ আশা করবে, জনগণের যে প্রত্যাশা- তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে। অবশ্যই যেন বাংলাদেশ সুখবর পায়, তা আমরা আশা করবো। আমরা আশা করবো আমাদের সীমান্তে যাতে হত্যা বন্ধ হয়।

আসামের নাগরিকপঞ্জির বিষয়ে তিনি বলেন, ভারতের মন্ত্রী ও নেতারা যখন বলেন, আসাম থেকে বের করে দেওয়া হবে। তখন আমরা উদ্বিগ্ন হই। উদ্বিগ্ন হই, কারণ- আমাদের কোন মানুষ ভারতে গেছে বলে আমরা মনে করি না। আমরা মনে করি, এটা একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কথা। যা দিয়ে বাংলাদেশের উপর বড় ধরণের একটা চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

আজকে ক্যাসিনো নিয়ে লাফালাফি হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্যাসিনো করে লুট করেছে। কিন্তু এরচেয়েও বড় সম্পদ আমার লুট হয়ে গেছে। আমার ভোট, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার লুট হয়ে গেছে। আর এটা আওয়ামী লীগ লুট করেছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া কারো অনুকম্পায় মুক্ত হবেন না। অবশ্যই তার যে হক ও ন্যায্য অধিকার- সেই হক ও অধিকারে তিনি মুক্ত হবে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আর যাই করা হোক, বেগম জিয়াকে আটকে রাখা যাবে না। কারণ জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রীকে অবশ্যই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বের করে নিয়ে আসবে।

ক্ষমতাসীনরা কৌশল পাল্টিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ভিন্ন আঙ্গিকে প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএসপিপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৮ আশ্বিন ১৪২৬

Share.

About Author

Comments are closed.